বিক্রম দাস: বারুইপুরের তদন্তে সামনে এল আরও চাঞ্চল্যকর ও হাড়হিম তথ্য। খুন ও ধর্ষণের ঘটনায় ৪ জন জড়িত ছিল। অপরাধ ঘটানোর অন্তত ১০ দিন আগে থেকে ধৃত প্রভাস মণ্ডল ওই নাবালিকাকে রেকি করেছিল। পুলিস সূত্রে এই তথ্য জানা গিয়েছে। এই নারকীয় ঘটনায় মোট চারজন জড়িত ছিল। তাদের মধ্যে মূল অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল আগেই পুলিসি এনকাউন্টারে নিহত হয়েছে।
বাকি তিন অভিযুক্তের মধ্যে আনন্দ সর্দারও রয়েছে। এই তিনজনকে পুলিস গ্রেফতার করেছে। গত বুধবার বারুইপুর থানার পুলিস তাদের মুখোমুখি বসিয়ে ম্যারাথন জেরা করে। ঘাতকরা নিখুঁত পরিকল্পনা করে নাবালিকাকে ঝুপড়িতে তুলে নিয়ে যায়। সেখানে তার ওপর নির্যাতন চালানো হয়। এরপর তাকে বস্তাবন্দি করা হয়। সেই অবস্থায় তাকে পুকুরে ফেলে দিয়ে খুন করা হয়।
তবে ধৃত আনন্দ সর্দারের দাবি, সে এই ঘটনায় জড়িত নয় এবং কিছুই করেনি। প্রভাসকে সে চিনত কিন্তু প্রভাস কেন তার নাম নিয়েছে তা তার জানা নেই, সব প্রভাসই করেছে। সে গাড়ির চালক কবির মোল্লাকে চেনে বলেও জানিয়েছে।
'দাদা বলেছিল শুধু আমার কাজ দেখে যাও...'! প্রভাস এনকাউন্টারে কী বলছেন নির্যাতিতার বাবা
পুলিস আরও জানতে পেরেছে, প্রভাস মণ্ডল টানা ১০ দিন ধরে নজরদারি চালিয়েছিল। নাবালিকার যাতায়াতের সময় ও রুট সে খেয়াল রাখত। কখন এবং কীভাবে তাকে ভুল বুঝিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে, তার একটি ছক তৈরি করা হয়েছিল। ঝুপড়িতে নিয়ে গিয়ে কার কী কাজ হবে, তাও ঠিক করা ছিল। সম্পূর্ণ একটি 'ব্লুপ্রিন্ট' আগেই বানিয়ে রাখা হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রভাস ওই নাবালিকাকে বুঝিয়ে ঝুপড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে গিয়ে প্রভাস নাবালিকার দুটি হাত শক্ত করে বেঁধে ফেলে। নিজেকে বাঁচানোর জন্য নাবালিকাটি তখন সর্বশক্তিতে বাধা দিতে শুরু করে।
সেই সময় আনন্দ সর্দারনাবালিকার ঘাড়ে সজোরে আঘাত করে। এর ফলে নির্যাতিতা জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। এরপর সংজ্ঞাহীন অবস্থায় চার অভিযুক্ত এক হয়। এরপর তারা নাবালিকার ওপর এক নারকীয় ও অমানুষিক অত্যাচার চালায়। এই পাশবিক অত্যাচারের পর তাকে বস্তার মধ্যে দুমড়ে-মুচড়ে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। পুলিস জানিয়েছে, বস্তাবন্দি করার সময়ও নাবালিকা বেঁচে ছিল। এরপর প্রভাস মণ্ডল ও আনন্দ সর্দার মিলে বস্তাটি পুকুরে ফেলে দেয়। জলেই শ্বাসরুদ্ধ হয়ে নির্যাতিতার মৃত্যু হয়।
'বিয়ের পর ওর নোংরামি দেখেছি, অনেক অত্যাচার সহ্য করেছি'! এবার মুখ খুললেন নিহত প্রভাসের স্ত্রী
বর্তমানে তিন অভিযুক্ত পুলিস হেফাজতে রয়েছে। তাদের মুখোমুখি বসিয়ে টানা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। ফলে ঘটনার পুরো বিবরণ পুলিসের কাছে স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। অভিযুক্তদের ভূমিকা সম্পর্কে পুলিস ধারণা পেয়েছে। ধৃতদের কার কী দায় ছিল, তা নিশ্চিত করতেই এই জেরা চালানো হয়। তদন্তকারীদের মতে, চারজনই অপরাধে যুক্ত ছিল। তবে মূল চক্রান্তকারী ছিল নিহত প্রভাস মণ্ডল। তাকে সমানভাবে সঙ্গ দিয়েছিল আনন্দ সর্দার।

