বিধান সরকার: বহুতলের ছাদ থেকে পড়ে রহস্যমৃত্যু যুবকের। গত শুক্রবার গভীর রাতে ঘটনাটি ঘটে। উদ্ধার করে স্থানীয় উত্তরপাড়া হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত যুবকের নাম স্বরূপ নন্দ সাহু। জানা গিয়েছে, নিহত যুবকের পরিবার দীর্ঘ দিন ধরে দেনায় জর্জরিত ছিল। ২০২৪ সালের জুন মাসে বিয়ের পর থেকেই দম্পতির মধ্যে অশান্তি চলছিল বলে খবর।
পেশায় র্যাপিডো চালক স্বরূপ মানসিক অবসাদ থেকে আত্মহত্যা করেছেন, নাকি নেপথ্যে অন্য কোনও কারণ আছে- তা খতিয়ে দেখছে উত্তরপাড়া থানার পুলিস।
স্থানীয় সূত্রের খবর, আবাসনের পাঁচ তলার ছাদে রাতে ঘুমোচ্ছিলেন ছিলেন স্বরূপ এবং তাঁর স্ত্রী কিরণবালা সাহু। রাত ১টা নাগাদ হঠাৎই ছাদ থেকে নীচে পড়ে যান স্বরূপ। বিকট শব্দ শুনে ছুটে আসেন প্রতিবেশীরা। রক্তাক্ত অবস্থায় আবাসন চত্বরে পড়ে থাকতে দেখে তাঁকে তড়িঘড়ি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষরক্ষা হয়নি।
স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৪ সালের ১৯ জুন কিরণবালার সঙ্গে বিয়ে হয় স্বরূপের। বিয়ের খরচ চালাতে বিপুল টাকা ঋণ করেছিলেন তিনি। সংসার চালানোর পাশাপাশি দেনা মেটাতে তিনি র্যাপিডো চালাতেন। তবে ঋণের চাপ কমেনি, উল্টে স্ত্রীর গয়নাও বন্ধক রাখতে বাধ্য হন যুবক। চরম আর্থিক অনটনের কারণে কদিন আগেই তাঁদের ফ্ল্যাটের বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে দেওয়া হয়েছিল।
আর্থিক সংকটের জেরে বিয়ের পর থেকেই স্বামী-স্ত্রীর তীব্র বচসা শুরু হয়। লাগাতার অশান্তির কারণে ঘটনা ঘটার মাত্র দু'দিন আগেই দম্পতিকে স্থানীয় থানায় ডেকে পাঠিয়েছিল পুলিস। সেখানে দুজনকে নিজেদের মধ্যে সমস্যা মিটিয়ে নেওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়। কিন্তু সেই আলোচনার পরপরই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটল।
গাছ আঁকড়েই ২ দিন! ১৭০০০ শিশুর মধ্যে অলৌকিক রক্ষা ৮-এর জোয়েলের, ফিরে পেতেই মায়ের অঝোর কান্না
ঘটনায় গভীর শোকের ছায়া এলাকায়। স্থানীয় প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর তাপস মুখোপাধ্যায় জানান, পরিবারটি প্রচণ্ড দেনায় জর্জরিত ছিল। আর্থিক অনটনের কারণে বাড়িতে লাগাতার অশান্তি ও মানসিক অবসাদ চলছিল। এটি আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনও ঘটনা, তা পুলিসি তদন্তেই স্পষ্ট হবে। প্রতিবেশী অসীম বারিক জানান, স্বরূপ অত্যন্ত পরিচিত মুখ ছিলেন। বাড়িতে মা ও স্ত্রী নিয়ে থাকতেন তিনি, বাবা থাকেন বাইরে। কীভাবে এই ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন প্রতিবেশীরা।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় উত্তরপাড়া থানার পুলিস। আবাসন প্রাঙ্গণে যুবক যেখানে পড়েছিলেন, সেই এলাকাটি ঘিরে ফেলা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের মা ও স্ত্রীকে আটক করেছে পুলিস। মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য শ্রীরামপুর ওয়ালশ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এখনও পর্যন্ত থানায় কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের না হলেও, একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিস।
আপনি কি অবসাদগ্রস্ত? বিষণ্ণ? চরম কোনও সিদ্ধান্ত নেবেন না। আপনার হাত ধরতে তৈরি অনেকেই। কথা বলুন প্লিজ...
iCALL (সোম-শনি, ১০টা থেকে ৮টা) ৯১৫২৯৮৭৮২১
কলকাতা পুলিস হেল্পলাইন (সকাল ১০টা-রাত ১০টা, ৩৬৫ দিন) ৯০৮৮০৩০৩০৩, ০৩৩-৪০৪৪৭৪৩৭
২৪x৭ টোল-ফ্রি মানসিক স্বাস্থ্য পুনর্বাসন হেল্পলাইন-- কিরণ (১৮০০-৫৯৯-০০১৯)
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)

