জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: '২৪-এর ৫ আগস্ট শান্তিপূর্ণ ছাত্র আন্দোলন ছিল না, পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র ছিল'। দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠকে কেঁদে ফেললেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বললেন, 'গত দুবছর ধরে বাংলাদেশকে ভুগতে দেখছি। আমার দেশ যখন কষ্টে আছে, আমি দেশবাসীকে ছেড়ে দূরে থাকতে পারি না।
আমার কর্তব্য তাদের পাশে থাকা। জানি আমাকে আটক করা হবে। মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হবে। আমি নিজের ভবিষ্যত নিয়ে ভাবছি না। বাংলাদেশকে সঠিক পথে নিয়ে আসতেই হবে। বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থে আমি ফিরতে চাই'।
হাসিনা বলেন, 'মিথ্যা রটিয়ে হিংসা ছড়ানো হয়েছে। নিরীহ ছাত্রছাত্রীদের ভুল বোঝানো হয়েছে। মহম্মদ ইউনুস সে কথা স্বীকার করে নিয়েছেন। সহজ প্রশ্ন, এতকিছু যখন হচ্ছিল, সরকারের ভূমিকা কি ছিল?সরকারি সম্পত্তি রক্ষা করা সব দেশের প্রশাসকের কর্তব্য। ২৪-এর ১৮ জুলাই আমি জুডিশিয়াল কমিশন গঠন করেছিলাম। কিন্তু অন্তর্বর্তী বেআইনি সরকার সেই তদন্ত বন্ধ করে দিয়েছিল। কেন? কিছু লুকোনোর না থাকলে এটা করা হল কেন' ?
বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর স্পষ্ট কথা, 'এইসব থেকে প্রমাণ হয়, এটা কোনও স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন ছিল না। সরকার ফেলে দিতে পরিকল্পিত চক্রান্ত ছিল। গত দুবছরে ১০ হাজার জনকে হত্যা করা হয়েছে। আমার বিরুদ্ধে ৬০০-র বেশি মামলা করা হয়েছে। শুধু আওয়ামী লীগের কর্মীরা নন, সংখ্যালঘু থেকে সমাজের সমস্ত মুক্ত চিন্তার মানুষের উপর নির্যাতন চলেছে। বাংলাদেশের ইতিহাস মুছে দিয়ে নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করতে চায়। এই বাংলাদেশ আমরা গড়ে তুলিনি'।
এদিন আন্তর্জাতিক মহলকে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান হাসিনা। বলেন, 'আমি নিজের ভবিষ্যত নিয়ে ভাবছি না। এর আগে জেল খেটেছি। পরিবারকে হারিয়েছি। বাংলাদেশকে সঠিক পথে নিয়ে আসতেই হবে। ডিসেম্বরেই ফিরছি। বাংলাদেশের সরকার আমার সঙ্গে কী করবে, সেটা তাঁদের ব্য়াপার। কিন্তু আমি আমার দেশে ফিরব'।

