নারায়ণ সিংহ রায়: বারুইপুরে নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনে অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের পুলিসি এনকাউন্টারে মৃত্যুর ঘটনা উসকে দিল ২০২৩ সালের মাটিগাড়ার নৃশংস কাণ্ডের স্মৃতি। বারুইপুরের ঘটনার পর এবার নিজের মেয়ের খুনিদের ক্ষেত্রেও একই রকম দ্রুত বিচার এবং এনকাউন্টার বা ফাঁসির দাবি তুললেন মাটিগাড়ায় নিহত একাদশ শ্রেণির ছাত্রীর মা।
একই সঙ্গে বিচার চেয়ে শিলিগুড়ির মাটিগাড়ার বাসিন্দা ওই শোকাতুর মা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করার ইচ্ছাপ্রকাশ করেছেন।
সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে কান্নাভেজা গলায় নিহতের মা বলেন, 'মুখ্যমন্ত্রী তাঁর কথা রেখেছেন। শুধু বারুইপুরের জন্য নয়, সব জায়গায় এই ধরনের অ্যাকশন নেওয়া উচিত। আমি মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই। কিন্তু আমার মেয়ের ক্ষেত্রেও যে অপরাধী, তাকে সুপ্রিম কোর্টে নিয়ে গিয়ে বিচার করে ফাঁসি দেওয়া হোক অথবা এনকাউন্টার করে মারা হোক।' মুখ্যমন্ত্রীর ওপর আস্থা রেখে তিনি জানান, 'যতক্ষণ না ওই দোষীকে ফাঁসি বা এনকাউন্টার করে মারা হচ্ছে, ততদিন পর্যন্ত আমি চুল আঁচড়াব না-- এই পণ নিয়ে চলছি। তাই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আমি মুখ্যমন্ত্রীর সাথে দেখা করতে চাই।'
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে শিলিগুড়ির মাটিগাড়া থানা এলাকায় একাদশ শ্রেণির এক নাবালিকা ছাত্রীকে নৃশংসভাবে খুন করার ঘটনা ঘটেছিল। সেই সময় মৃতের পরিবারের পক্ষ থেকে ছাত্রীকে ধর্ষণ করে খুন করার অভিযোগ আনা হয়েছিল এবং মাটিগাড়া থানায় লিখিত অভিযোগও দায়ের করা হয়। তবে পুলিসি তদন্ত এবং ময়নাতদন্তের (Post-mortem) রিপোর্টে ভিন্ন তথ্য উঠে আসে। পুলিসি রিপোর্টে জানানো হয়েছিল যে, ছাত্রীর ওপর ধর্ষণের কোনও ঘটনা ঘটেনি।
তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্টে ধর্ষণের প্রমাণ না মিললেও, খুনের নৃশংসতা স্পষ্ট হয়েছিল। পুলিসি তদন্তে প্রমাণিত হয় যে, ওই ছাত্রীকে অত্যন্ত নির্মমভাবে ইট দিয়ে মাথায় বহুবার আঘাত করে, মাথা থেঁতলে খুন করা হয়েছিল। এছাড়াও পুলিসের সেই রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছিল যে, ঘটনার সময় মৃত ছাত্রী এবং অভিযুক্ত যুবক দুজনেই নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ছিল।
মাটিগাড়ার সেই ঘটনার পর কেটে গেছে বেশ কিছু সময়। বর্তমানে বারুইপুরের এনকাউন্টার কাণ্ড রাজ্য রাজনীতি ও বিচার ব্যবস্থায় নতুন করে চর্চা শুরু করতেই মাটিগাড়ার সেই অসহায় মা নিজের মেয়ের জন্য 'অন দ্য স্পট' বা দ্রুত ন্যায়বিচারের দাবিতে সরব হয়েছেন। মেয়ের খুনিকে চরম শাস্তি না দেওয়া পর্যন্ত নিজের চুল না আঁচড়ানোর যে কঠিন পণ তিনি নিয়েছেন, তা মনে করিয়ে দিয়ে আরও একবার প্রশাসনের সর্বোচ্চ স্তরের হস্তক্ষেপ এবং মুখ্যমন্ত্রীর সাক্ষাৎ প্রার্থনা করেছেন তিনি।
'এটাই চাই! কীসের আইন? আইন মানি না, আইনের দরকার নেই! বিস্ফোরক কামদুনির মৌসুমী

