রাজীব চক্রবর্তী: আরও নিঃসঙ্গ হয়ে পড়ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়? আরও ২ সাংসদ কি মমতার হাত ছাড়ছেন? এমনই প্রশ্ন উঠে গেল। কেন এমন ভাবনা? সোমবার কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রী সি আর পাতিলের সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলার সাংসদরা। সূত্রের খবর সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজীব কুমার ও প্রতিমা মণ্ডল। ওই বৈঠক যে দুই সাংসদ যাচ্ছেন সে ব্যাপারে কিছুই জানতেন না কালীঘাট তৃণমূলের লোকসভার ডেপুটি লিডার সৌগত রায়।
এদিকে, সেই ছবি শেয়ার হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।
পালা বদলের পর দল বদলের ঝাপটায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিপর্যস্ত। মমতা পক্ষের ২০ জন সাংসদ এখন এনসিপিআইয়ে। এখন একটা কথা শোনা যাচ্ছে যে মমতা শিবিরের আরও ২ সাংসদ যোগ দিতে পারেন তাদের সঙ্গে। এমনটা দাবি করেছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদারও। তাহলে কি সেই দুই সাংসদ রাজীব কুমার ও প্রতিমা মণ্ডল?
উল্লেখ্য, রাজীব কুমার রাজ্যসভার সাংসদ। তিনি যদি এনসিপিআইয়ে চলে যান তাহলে তাতে এনসিপিআইয়ের খুব বেশি সুবিধে হবে না। ফলে সেক্ষেত্রে রাজীবের পরিবর্তে অন্য কেউ থাকতে পারেন। কিন্তু কাকলি ঘোষের সোশ্যাল মিডিয়া হ্য়ান্ডেলে যে ছবি সামনে আসছে তা অন্য কিছুর ইঙ্গিত দেয়। গতকাল কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রী সি আর পাতিলের সঙ্গে বৈঠক হয়। সেই বৈঠকে বাংলা সমস্থ সাংসদদের ডাকা হয়েছিল। সেই বৈঠকে ছিলেন মমতাপন্থী তৃণমূলের রাজীব কুমার ও প্রতিমা মণ্ডল। ওই দুজন বেশ কিছুক্ষণ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের সঙ্গে কথা বলেছেন বলে অন্য সাংসদ সূত্রে জানা যাচ্ছে। সেখান থেকেই জল্পনার সূত্রপাত।
উল্লেখ্য, গতকাল ওই বৈঠকে জলশক্তি মন্ত্রী জানিয়ে দিয়েছেন বাংলাকে অবিলম্বে প্রায় ২৬০০ কোটি কেন্দ্রীয় বকেয়া মিটিয়ে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে এলাকায় কাজ করার সময় সাংসদদের যুক্ত করার নির্দেশও রাজ্যের পুর্তমন্ত্রীকে লিখিত আকারে দিয়েছেন বলে খবর। কিন্তু সেই বৈঠকে তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে যাওয়া ও তার নেতৃত্ব দেওয়া কাকলি ঘোষ দস্তিদারের সঙ্গে রাজীব কুমারের কথা বলা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে।
আত্মঘাতী লোকসভার সচিবালয়ের আধিকারিক! ১৫ পাতার চিঠিতে লিখে রেখে গিয়েছেন সব সত্যি
সৌগত রায় লোকসভায় কালীঘাট তৃণমূলের উপ নেতা। তাঁর কাছে এমন কোনও খবর ছিল না যে ওই দুই সাংসদ কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বৈঠকে যোগ দিচ্ছেন। এনিয়ে প্রশ্ন করা হয়ে সৌগত বলেন, জানি না বিষয়টা। প্রতিমা মণ্ডল তো আমার সঙ্গে ছিলেন ৫টা থেকে সাড়ে ছটা পর্যন্ত। তার আগে পেট্রোলিয়াম কমিটিতে ছিলেন। আপনারা এইসব খবর হাওয়ায় ভাসিয়ে দেন কোনও সত্যতা যাচাই না করে।
এদিকে, সৌগত রায় ওই কথা বললেও সোশ্য়াল মিডিয়ার ছবি অন্য কথা বলে। ফলে নতুন কোনও সমীকরণ তৈরি হচ্ছে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন থাকছেই। কিছুদিন আগেই কোয়েল মল্লিক সাংসদ হয়ে কোনও অধিবেশনে যোগ দেওয়ার আগেই ইস্তফা দিয়েছেন। ভারতীয় সংসদের ইতিহাসে এরকম ঘটনা আশ্চর্যজনক। প্রকাশ চিকবরাইক, সুস্মিতা দেবরা সরে গিয়েছেন। অর্থাত্ রাজ্যসভায় তৃণমূলের সংখ্যা কমছে। বিজেপির নম্বর বাড়ছে। রাজীব কুমারও সেই দলত্যাগীদের শিবিরে কিনা তা এখন প্রশ্ন চিহ্নের সামনে দাঁড়িয়ে গেল।

