জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: আত্মঘাতী লোকসভা সচিবালয়ের ডিরেক্টর। নয়ডার আবাসনে নিজের ফ্ল্যাটেই চরম পদক্ষেপ নেন ৪০ বছরের গৌরব গৌতম। পুলিস গৌরবের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে। গত বুধবার পুলিস জানিয়েছেন, ২ অগাস্ট বাড়িতে আত্মহত্যা করেন গৌরব। আর্থিক দেনার দায়ে মানসিক অবসাদগ্রস্ত ছিলেন তিনি।
সেই কারণেই তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে অনুমান পুলিসের।
ঘটনাস্থল থেকে ১৫ পাতার সুইসাইড নোট উদ্ধার করেছে পুলিস। যেখানে গৌরব প্রায় ৭০ লাখ টাকার দেনার কথা উল্লেখ করে গিয়েছেন। ফেজ-২ থানার পুলিস মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে।
'স্কুলে যেতে ভয়...'! বাড়ি ফেরার পথে ছাত্রীদের ঘিরে ধরে চূড়ান্ত অসভ্যতা, তীব্র চাঞ্চল্য
পুলিস সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন গৌতমের স্ত্রী বাড়িতে ছিলেন না। বাপের বাড়ি থেকে ফিরে এসে তিনি দেখেন ফ্ল্যাটের দরজা ভিতর থেকে বন্ধ। ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও কোনও সাড়া না পেয়ে তিনি বিষয়টি আবাসনের নিরাপত্তাকর্মীদের জানান। নিরাপত্তাকর্মীদের সাহায্যে দরজা খুলে ভেতরে ঢুকতেই গৌতমকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়। পরিবারের সদস্যরা তৎক্ষণাৎ তাঁকে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। হাসপাতালের মারফত খবর পেয়ে ফেজ-২ থানার পুলিস ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
পুলিসের উদ্ধার করা ১৫ পাতার চিঠিতে গৌরব গৌতম নিজের সিদ্ধান্তের জন্য কাউকে দায়ী করেননি। তিনি লিখেছেন, অনবরত বাড়তে থাকা পারিবারিক খরচ ও আর্থিক সংকটের কারণে তিনি প্রায় ৭০ লাখ টাকার দেনায় জড়িয়ে পড়েছিলেন। যার ফলে তিনি চরম অবসাদে চলে গিয়েছিলেন। ফেজ-২ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাঘবেন্দ্র সিং জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে অনুমান এটি ঋণের চাপে আত্মহত্যার ঘটনা বলেই মনে হচ্ছে। পরিবারের পক্ষ থেকে কারও বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্ট এবং সংগৃহীত প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দুর্যোগ এখনই কাটছে না, কলকাতা-সহ ৭ জেলায় ভারী বৃষ্টির কমলা-লাল সতর্কতা
পুলিস বর্তমানে সেই সুইসাইড নোটটি পরীক্ষা করছে। এই ঋণ কোনও ব্যাংক, বেসরকারি অর্থলগ্নি সংস্থা নাকি ব্যক্তিগত কারও কাছ থেকে নেওয়া হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিস। পাশাপাশি ঋণ পরিশোধের জন্য কোনো চাপ দেওয়া হচ্ছিল কি না, তাও পরিবার ও পরিচিতদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে জানার চেষ্টা চলছে।
প্রসঙ্গত, গৌতম সংসদ সচিবালয়ে কর্মরত ছিলেন। লোকসভার রিপোর্টিং শাখার যৌথ নির্দেশক হিসেবে সংসদের যাবতীয় কাজকর্ম নিখুঁতভাবে লিখে রাখা ও নথিভুক্ত করার মতো দায়িত্বশীল কাজ সামলাতেন তিনি। তিনি যে কেন্দ্রীয় বিহার-২ আবাসনে থাকতেন, সেটি মূলত কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদেরই একটি আবাসন।
আপনি কি অবসাদগ্রস্ত? বিষণ্ণ? চরম কোনও সিদ্ধান্ত নেবেন না। আপনার হাত ধরতে তৈরি অনেকেই। কথা বলুন প্লিজ...
iCALL (সোম-শনি, ১০টা থেকে ৮টা) ৯১৫২৯৮৭৮২১
কলকাতা পুলিস হেল্পলাইন (সকাল ১০টা-রাত ১০টা, ৩৬৫ দিন) ৯০৮৮০৩০৩০৩, ০৩৩-৪০৪৪৭৪৩৭
২৪x৭ টোল-ফ্রি মানসিক স্বাস্থ্য পুনর্বাসন হেল্পলাইন-- কিরণ (১৮০০-৫৯৯-০০১৯)

