কমলাক্ষ ভট্টাচার্য: শনিবার রাতে আক্রান্ত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রথম অ্যাপোলো, পরে বেল ভিউ ফেরত পাঠিয়ে দেয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি ছিল, অভিষেকের হাসপাতালে অ্যাডমিট হওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই। এদিকে আক্রান্ত ভাইপোকে দেখতে হাসপাতালে ছুটে আসেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
বেল ভিউ হাসপাতালের ভিতরের এক ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড়ের গতিতে ভাইরাল হয়। বিজেপি মুখপাত্র দেবজিত্ সরকার সেই ভিডিয়ো পোস্ট করেন।
সেই ভিডিয়ো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখা না গেলেও, তাঁর আওয়াজ স্পষ্ট শোনা যায়। যেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কলকাতার বেল ভিউ হাসপাতালের সিইও প্রদীপ ট্যান্ডনকে তীব্র ভাষায় বকাঝকা করতে শোনা গিয়েছে।
ভাইরাল অডিয়ো ক্লিপে ঠিক কী শোনা গিয়েছে?
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলছেন, 'দুঃখিত মিস্টার ট্যান্ডন, আপনি খুব ভুল কাজ করেছেন। মনে রাখবেন আমরা আপনার জন্য অতীতে কী কী করেছি। ভগবানও আপনাকে ক্ষমা করবেন না। আপনি একটা মস্ত বড় ভুল করেছেন এবং এর জন্য আপনার লজ্জিত হওয়া উচিত। আপনার এই অহংকার সবাই মনে রাখবে।'
এখানেই শেষ নয়, তাঁকে আরও বলতে শোনা যায়, 'কেন্দ্রে বিজেপি ক্ষমতায় আছে বলেই আপনি হাসপাতাল চালাচ্ছেন আর ডাক্তারদের ভয় দেখাচ্ছেন? কালকে যখন এই কেন্দ্র সরকার থাকবে না, তখন আমরা ব্যাপারটা দেখে নেব।
এই ভিডিয়ো শেয়ার করে বিজেপি মুখপাত্র দেবজিত্ সরকার লেখেন, 'অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মেডিক্যাল রিপোর্টে গুরুতর কোনও আঘাতের লক্ষণ ছিল না। তা সত্ত্বেও তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করার জন্য চাপ সৃষ্টি করা এবং বেল ভিউ হাসপাতালের সিইও প্রদীপ ট্যান্ডনকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। এর জন্য তাঁকে ধিক্কার।'
ঘটনার সূত্রপাত
ঘটনার শুরু হয় দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরে। সেখানে ভোট-পরবর্তী হিংসায় মৃত দলীয় কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু সেখানে পৌঁছাতেই স্থানীয় মানুষরা তাঁকে ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে। তাঁকে ধাক্কা মারা হয় এবং লক্ষ্য করে ডিম ও পাথর ছোড়া হয় বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং পাথরের আঘাত থেকে বাঁচাতে শেষ পর্যন্ত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে একটি হেলমেট পরিয়ে দেওয়া হয় এবং কোনওমতে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
তৃণমূলের দাবি, এই হামলা পুরোপুরি 'বিজেপির সাজানো'। অন্যদিকে বিজেপির দাবি, গত কয়েক বছর ধরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামীদের অত্যাচার ও হুমকির জেরে সাধারণ মানুষের মনে যে ক্ষোভ জমেছিল, এটি তারই বহিঃপ্রকাশ।
হামলার পরপরই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিকিৎসার জন্য বেল ভিউ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরীক্ষা করার পর চিকিৎসকরা সাফ জানিয়ে দেন, তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করার কোনো দরকার নেই এবং তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। হাসপাতালের তরফ থেকে দেওয়া একটি বয়ানে বলা হয়, 'রোগীর বুকে সামান্য কালশিটে ছাড়া শরীরে অন্য কোনও গুরুতর আঘাতের লক্ষণ নেই। তিনি পুরোপুরি জ্ঞান হারাননি, সম্পূর্ণ সচেতন আছেন এবং স্বাভাবিকভাবেই কথাবার্তা বলছেন।'
এই রিপোর্টের পরই রাজনীতি নতুন মোড় নেয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পালটা অভিযোগ করে বলেন যে, বিজেপি ক্ষমতার অপব্যবহার করে হাসপাতালকে চাপ দিচ্ছিল যাতে অভিষেককে ভর্তি নেওয়া না হয়। তাঁর কথায়, 'যাঁরা ক্ষমতায় আছেন, তাঁরা হাসপাতালকে হুমকি দিচ্ছেন যাতে অভিষেক চিকিৎসা না পায়। হাসপাতালের কর্তারা আমাকে জানিয়েছেন যে তাঁদের কাছে পুলিসের তরফ থেকে হুমকি ফোন আসছিল।' মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও দাবি করেন, মাথায় হেলমেট না থাকলে সেদিন তাঁর ভাইপো মারাই যেতে পারতেন।
অন্যদিকে, এই মারধরের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিস ইতিমধ্যেই পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে। ধৃতরা হলেন: আকাশ গায়েন, কাজল দাস, দেবাশীষ দত্ত, নির্মাল্য সেনগুপ্ত, তপন মাইতি।

