অর্ণবাংশু নিয়োগী: কলকাতার ক্যামাক স্ট্রিটের রাজনৈতিক কার্যালয় খালি করার নোটিশ ঘিরে আইনি লড়াই পৌঁছল হাইকোর্টে। ৯ নম্বর ক্যামাক স্ট্রিটের বিতর্কিত অফিস খালি করার জন্য বাড়ি মালিকের দেওয়া নোটিস প্রত্যাহারের আবেদন জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল কালীঘাট শিবির অর্থাৎ সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস।
তবে শুনানিতে মূল মামলাকারী হিসেবে তৃণমূল কংগ্রেসের বৈধতা নিয়েই তীব্র প্রশ্ন তুলেছে আদালত। ভাড়ার চুক্তি তৃণমূল যুব কংগ্রেসের সঙ্গে হওয়ায় মূল দল কী ভাবে সরাসরি এই মামলায় পক্ষ হতে পারে, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন বিচারক। মামলার সমস্ত পক্ষের যুক্তি শোনার পর রায়দান আপাতত স্থগিত রেখেছে কলকাতা নগর দায়রা আদালত।
আদালতের তাৎপর্যপূর্ণ পর্যবেক্ষণ
শুনানি চলাকালীন নগর দায়রা আদালতের বিচারক স্পষ্ট ভাষায় মামলাকারীর আইনি অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। আদালত মন্তব্য করে, 'যে পক্ষ বাড়ি ভাড়া দিয়েছে এবং যারা ভাড়া নিয়েছে, তাদের বাইরে তৃতীয় কারও বক্তব্য আদালত কেন শুনবে?'
অর্থাৎ, যে চুক্তিপত্র আইনত কার্যকর হয়েছে, সেখানে তৃতীয় পক্ষ হিসেবে অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের কোনও প্রত্যক্ষ ভূমিকা থাকার সুযোগ রয়েছে কি না, তা আদালতের পর্যবেক্ষণে বড় হয়ে ওঠে।
ক্যামাক স্ট্রিট কাণ্ডে আরও বিপাকে অভিষেক! অফিসের একাংশ এবার সিল করল দমকল
বাড়ির মালিকের যুক্তি ও অভিযোগ
শুনানিতে বাড়ি মালিকের আইনজীবীও তৃণমূল কংগ্রেসের মামলার যৌক্তিকতা নিয়ে সওয়াল করেন। মালিক পক্ষের বক্তব্য:
ভাড়া চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন: ২০২০ সালে ১০ বছরের মেয়াদে এই অফিস ভাড়া নিয়েছিল 'তৃণমূল যুব কংগ্রেস'। চুক্তির স্পষ্ট শর্ত ছিল, নির্মাণ সমাপ্তির শংসাপত্র (Completion Certificate) জমা পড়ার পরই অফিসের দখল নেওয়া যাবে। কিন্তু কোনও বৈধ শংসাপত্র ছাড়াই গায়ের জোরে ষষ্ঠ ও সপ্তম তল দখল করে রাখা হয়েছে।
তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ: চুক্তি যেহেতু সম্পূর্ণভাবে তৃণমূল যুব কংগ্রেসের সঙ্গে হয়েছিল, তাই এই আইনি প্রক্রিয়ায় মূল দল তৃণমূল কংগ্রেসের হস্তক্ষেপ সম্পূর্ণভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও আইনবিরুদ্ধ।
নোটিশের যৌক্তিকতা: শর্ত লঙ্ঘনের কারণেই বাড়িটির মালিকের তরফে অফিস খালি করার নোটিশ পাঠানো হয়েছিল এবং তা আইন মেনেই করা হয়েছে।
শেষরক্ষা কীভাবে? ক্যামাক স্ট্রিটের অফিস খালি করার নোটিসকে চ্যালেঞ্জ তৃণমূলের
কালীঘাট শিবিরের সওয়াল
অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের আইনজীবীদের তরফে যুক্তি দেওয়া হয় যে, বাড়িটি দলেরই অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। তাঁরা বাড়ি মালিকের পক্ষ থেকে পাঠানো অফিস খালি করার আইনি নোটিসটি অবিলম্বে খারিজ বা বাতিল করার আবেদন জানান। তাঁদের দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেই এই ধরনের নোটিস পাঠানো হয়েছে এবং তৃণমূলের কার্যালয় হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত এই অফিসকে আইনি মারপ্যাঁচে জড়িয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।
দুই পক্ষের দীর্ঘ বাগ্বিতণ্ডা ও সওয়াল-জবাব শেষে নগর দায়রা আদালত সমস্ত নথি খতিয়ে দেখার পর রায়দান স্থগিত রেখেছে। আদালতের আগামী রায়ের ওপরেই নির্ভর করছে ক্যামাক স্ট্রিটের হাই-প্রোফাইল এই কার্যালয়ের ভবিষ্যৎ।

