নকিব উদ্দিন গাজী: ২০২০ সালে সাগরে ল্যান্ডফল হয়েছিল 'আমপান'-এর। আর 'ক্ষতি' হয়েছিল ৮০ কিলোমিটার দূরে ফলতায়! আমপান পরবর্তী ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকায় ১০ হাজার ভুয়ো মত্সজীবী। ফলতায় যেখানে মাত্র কয়েকশো মত্সজীবী বাস করেন সেখানে আমপান ক্ষতিপূরণের অধিকাংশ টাকা ঢুকেছে সেখানেই।
এখানেও সেই অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্যায় ঘনিষ্ঠ জাহাঙ্গির খান। বর্তমানে তিনি কোথায় কেউ জানে না।
ক্ষতিপূরণ নিয়ে কী বলছেন ফলতার মানুষজন? স্থানীয় বাসিন্দা সজল মণ্ডল বলেন, যারা ক্ষতিপূরণ পেয়েছে তারা মত্সজীবীই নয়। প্রত্যেকে ২০,০০০ টাকা পেয়েছে। আমাদের তারাগঞ্জ পশ্চিমপাড়ায় বাড়ি। কিছুই পাইনি। আমাদের নৌকো ডুবে গিয়েছে, ঘর ভেঙে গিয়েছিল।
স্থানীয় বাসিন্দা বিধান পাড়ুই বলেন, সেইসময় আমরা প্রশাসনকে বলেছিলাম। কিছুই হয়নি। আসল ক্ষতিগ্রস্থরা বঞ্চিত। নেতারা টাকা লুট করেছে। জাহাঙ্গির খান মিশন নিয়ে চলে গিয়েছে। সীমাহীন দুর্নীতি হয়েছে। নামখানা, সাগর, কাকদ্বীপ এখন প্রায় মত্সজীবীদের জন্য বন্দর হয়ে গিয়েছে। সেই তুলনায় ফলতায় মত্সজীবী কম। এখানে পঞ্চায়েত ভোট করতে দেওয়া হয়। একচেটিয়া ওরা রাজস্ব করেছে। তাই যাকে পেরেছে তাকে টাকা পাইয়ে দেওযা হয়েছে।
মমতার দল ভেঙে চুরমার! ঋতব্রতর হাত ধরে নেতৃত্ব বদল, সঙ্গে ৫০ বিধায়ক?
সাগরে মত্সজীবী মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি। তার তুলনায় ফলতায় তাদের সংখ্য, নগন্য। সেই ফলতার মত্জীবীটাই পেয়েছেন ক্ষতিপূরণের টাকা। অভিযোগ, জাহাঙ্গির খানের সুপারিশেই ওই টাকা ঢুকেছে তাদের অ্য়াকাউন্টে।
ফলতার এক মহিলা বলেন, ঝড়ে আমাদের টালির চাল উড়ে গিয়েছিল। ঝড় থামার পর সদস্য এল, আমাদের ছবি তুলল। কিন্তু কোনও টাকাই পাইনি।
স্থানীয়দের দাবি, আমফান ঝড়ে,পরবর্তী ক্ষতিপূরণ প্রকল্পে, সুন্দরবন ও কাকদ্বীপ উপকূলের মৎস্যচাষীদের , বদলে ফলতা ব্লকে তৈরি হয়েছিল এক বিশাল 'ফেক লিস্ট'। সরকারি নথি অনুযায়ী ১০,০০০ জনকে "ক্ষতিগ্রস্ত ফিশারম্যান" হিসেবে দেখানো হয়েছে অথচ বাস্তবে এই এলাকায় ২ শতাংশ মৎস্যজীবীও নেই। বাস্তবে মৎস্যজীবীরা কোন টাকা পায়নি কোন সুযোগ-সুবিধা পায়নি বিরোধী দলের অভিযোগ ।

