অয়ন ঘোষাল ও দেবাঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়: ক্ষমতা হারাতেই বিপাকে প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। মেসিকাণ্ডে অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় এফআইআর হয়েছে। সেই এফআইআরের ভিত্তিতেই তাঁকে তলব করা হয়েছে। হাজিরা দেবেন কি অরূপ বিশ্বাস? জল্পনা তুঙ্গে।
মেসিকাণ্ডে অরূর বিশ্বাসের বিরুদ্ধে এফআইআর করেছেন আয়োজক শতদ্রু দত্ত।
সেই অভিযোগের ভিত্তিতে সকাল দশটায় তাঁকে ডাকা হয়েছিল বিধাননগর দক্ষিণ থানায়। বিধাননগর পুলিসের কাছ শতদ্রু দত্ত দাবি করেছিলেন, মেসি ইভেন্টের জন্য প্রায় ২২ হাজার টিকিট কালোবাজারি করেছেন প্রাক্তন মন্ত্রী। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে বিধাননগর দক্ষিণ থানার পুলিস।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে যুবভারতী স্টেডিয়াম ভাঙচুর চলে। হাজার হাজার টাকা দিয়ে টিকিট কাটা দর্শকরা অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন। গা বাঁচাতে অরূপ বিশ্বাস গোটা পরিস্থিতির দায় চাপিয়ে দেন মেসি GOAT শো এর আয়োজন শতদ্রু দত্তের দিকে। তার জেরে মমতা সরকারের পুলিস শতদ্রু দত্তকে গ্রেফতার করে।
রাজ্যে শসক বদলের পরই রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক জানান, মেসি কাণ্ডের ফাইল রিওপেন হবে। সেইমতো গত শনিবার রাতে রাজ্যের প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে এফআইআর নথিভুক্ত হয় বিধাননগর দক্ষিণ থানায়।
গত ১৭ই মে মেসি ইভেন্টের মূল উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্তের আনা অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিস এফআইআর দায়ের করে। প্রাক্তন ক্রীড়া মন্ত্রীর বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩(৫)/ ৩০৮ (২)/ ৩১৮(৪)/৩৫১(২)/৬১(২) ধারা অর্থাৎ টিকিটে কালোবাজারি, বেআইনি ভাবে টাকা তোলা, অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন, প্রতারণা সহ একাধিক ধারায় অভিযোগ এনেছেন মেসি গোট টুরের আয়োজক শতদ্রু দত্ত। পাশাপাশি ৫০ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতিপূরণ এবং আরও ৫০ কোটি টাকার মানহানির ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন শতদ্রু দত্ত। তার পরিপ্রেক্ষিতে আজকের এই তলব।
বিগ ব্রেকিং: কলকাতা মেয়রের পদ থেকে আচমকা পদত্যাগের ইচ্ছাপ্রকাশ ববি হাকিমের? বড় কারণ জানালেন কুণাল
বিধাননগর পুলিশের কাছ শতদ্রু দত্ত দাবি করেছিলেন, মেসি ইভেন্টের জন্য প্রায় ২২ হাজার টিকিট কালোবাজারি করেছেন প্রাক্তন মন্ত্রী। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে বিধাননগর দক্ষিণ থানার পুলিশ। নিউ আলিপুর এবং সাহাপুর কলোনির বাড়িতে অরূপ বিশ্বাস নেই। পাটুলিতে তার একটি রবাড়িতে আছে বলে জানা যাচ্ছে। গিয়ে জানাচ্ছি।
এদিকে, হাজিরা থেকে ১৪ দিন সময় চেয়ে বিধাননগর কমিশনারেটকে চিঠি দিলেন অরূপ বিশ্বাস। অসুস্থ বলে জানিয়েছেন তিনি। তাঁকে সময় দেওয়া হবে কিনা তা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন বিধাননগর কমিশনারেটের সিনিয়র অফিসাররা।
অন্যদিকে, আজ হাজিরা না দিলে তার বিরুদ্ধে ১৬৪ ধারায় মামলা আনা হবে। অর্থাৎ বিচারকের কাছে গিয়ে বয়ান নথিবদ্ধ করা হবে। জানালেন তার বিরুদ্ধে মামলাকারী শতদ্রু দত্ত। সে ক্ষেত্রে অরূপ বিশ্বাস জামিন পাবেন না।

