মৌমিতা চক্রবর্তী: বারুইপুর ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় অভিযুক্তকে এনকাউন্টারে খুন। রাজ্যে এই ধরনের ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্তকে প্রথম এনকাউন্টারে খুন। অভিযোগ, ঘটনার পুনর্নির্মাণের সময় পুলিসকর্মী রনি সরকারের কাছে থেকে রিভলভার ছিনিয়ে নেয় মূল অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল। তার পরই তাকে গুলি করেন অন্য পুলিসকর্মী অর্ঘ্য সরকার।
গোটা বিষয়টিকে বিপজ্জনক প্রবণতা বলে মন্তব্য করলেন বিশিষ্ট আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য।
বিকাশ ভট্টাচার্য বলেন, একজন অপরাধী কেন অপরাধ করেছেন, তার প্রেক্ষিত কী, কারা তাতে মদত দিয়েছে , এইসব তথ্য বের করেই অপরাধ দমনের প্রকৃত ব্যবস্থা নেওয়া যায়। এক্ষেত্রে এই অভিযুক্তকে এনকাউন্টার করে মেরে ফেলা হল। উদ্দেশ হল সব তথ্যপ্রমাণ লোপাট করা। সত্য যেন সামনে না আসে। বারবার বলছি, লক্ষ্য করে দেখবেন বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর সাধারণ মানুষের উপরে জুলুম করছে। আসে সেই বিষয়টি থেকে মানুষের দৃষ্টি ঘোরাতে হিন্দু-মুসলমান রায়ট লাগানোর চেষ্টা করছে।
বারুইপুরের ঘটনার উল্লেখ করে বিকাশবাবু বলেন, ওখানে আমি গিয়েছিলাম। গতকাল মুখ্যমন্ত্রী সেখান গিয়ে যে বিবৃতি দিয়েছেন তার পরপ্রক্ষিতে এই এনকাউন্টার। এটা পরিকল্পনা করে করা হয়েছে তথ্য লোপাটের জন্য। এই তথ্য সামনে এল প্রমাণ হয়ে যেত যে এর পেছনে একটা দাঙ্গা লাগানোর পরিকল্পনা ছিল।
এতবড় অপরাধে, একটা শাস্তি তো হল! বিকাশ ভট্টাচার্য বলেন, যারা এটা বলছেন তারা তো সেই মধ্যযুগীয় ইসলামি শাসনব্যবস্থাকে সমর্থন করছেন! আমরা তো ভারত বসবাস করি। এদেশে তো নিয়ম নীতি রয়ছে। সে ধর্ষণ করেছে, তাকে ধর্ষণ করার জন্য কেউ পয়সা দিয়েছিল কিনা দেখার বিষয়। ধর্ষক প্রমাণ হলে আমরা দেখেছি ধনঞ্জয়ের ফাঁসি হয়েছে। সেইজন্য অনেকে আবার বুদ্ধদাকে গাল দিয়েছিলেন। এটা শুধু মহিলাদের বিষয় নয়, এটা বৃহত্তর সমাজের ব্যাপার। কালই যদি কোনও আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করে আর আমাকে ধরে এনকাউন্টার করে দেবে! মহিলারা উল্লসিত হয়ে যাবেন! এইসব বার্তা যারা দেন তাদের চিন্তা চেতনা মধ্যযুগীয়।
হিন্দুত্ববাদীদের বিঁধে বিকাশ রঞ্জন বলেন, এই ইসলামিক কালচারটাকে কিছুকিছু হিন্দুত্ববাদীরা এখানে চালু করার চেষ্টা করছে। এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক। যা করা হয়েছে তা তথ্যপ্রমাণ লোপাটের জন্য। বারুইপুরের ঘটনার পরপরই ২ জন নাবালককে কিডন্যাপ করে নেওয়া হয়েছিল। তাদের উদ্ধার করা হল দেশপ্রিয় পার্কে বিজেপির অফিস থেকে। এসব সম্পূর্ণ পরিকল্পিত। ওই ঘটনা ঘটার পর আমরা দেখেছি আইটি সেলে নেমে পড়েছে এই ঘটনাকে হিন্দু-মুসলমান ডিবেটের রূপ দেওয়ার জন্য। এর কোনও কাজই সামাজিক ঐক্যের জন্য করে না।
ও সব করতে পারে, বলছেন স্ত্রী, মা বলছেন দেহ নেব না, বারুইপুরকাণ্ডে এনকাউন্টারে মৃত কে এই প্রভাস?
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বারবার বলছেন আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার কথা। বলছেন ভয় আউট, ভরসা ইন। কোথাও কি মনে হয় না বারুইপুরের ক্ষেত্রে একজন ধর্ষক চটজলদি শাস্তি পাচ্ছে! বিকাশবাবু বলেন, ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে লড়াই করে দেশের স্বাধীনতা এসেছে, দেশের সংবিধান তৈরি হয়েছে। সেই সংবিধান মানা হবে না! আবার বলছি এটা মধ্যযুগীয় চিন্তাধারনা। যারা এই ধরনের চিন্তা লালন করেন তারা প্রকৃতপক্ষে মেয়েদের বিরুদ্ধে অপরাধের শাস্তি চান না। তারা মেয়েদের বিরুদ্ধে অপরাধটাকে জিইয়ে রাখতে চান। হয়তো এই লোকটা যদি বেঁচে থাকতেন তাহলে হয়তো জানা যেত কারা তাকে বলেছে ওই কাজ করতে। একটা বৃহত্তর ষড়যন্ত্র খুঁজে পাওয়া যেত।
এনাকাউন্টারের কথা টেনে বিকাশরঞ্জন বলেন, এনকাউন্টার হয়েছে। এ ব্যাপারে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত হওয়া দরকার। কিন্তু উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কীভাবে হবে। কালকে মুখ্যমন্ত্রী বললেন আমি ডিজিকে বলেছি ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে রিপোর্ট দিতে। আর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এনকাউন্টার হয়ে গেল। আমি যদি আশঙ্কা করি যে এই এনকাউন্টারটি পরিকল্পিত! আমরা আশঙ্কা ভুল হতে পারে। কিন্তু আমার আশঙ্কা যে ভুল তা প্রমাণ হবে কীকরে? কে তদন্ত করবে? আমি আবারও বলছি, আমরা পরামর্শ হল হাইকোর্টের কোনও অবসরপ্রাপ্ত বিতারপতিকে দিয়ে তদন্ত হওয়া উচিত।

