Baruipur Rape Case: বারুইপুরে নাবালিকার গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় পুলিসের এনকাউন্টারের মৃত অন্যতম অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল। মঙ্গলবার রাতে ঘটনার পুনর্নিমাণের সময় সে পুলিসের হাত থেকে রিভালবার ছিনিয়ে নিয়ে গুলি চালিয়ে দেয়। পাল্টা পুলিস গুলি চালালে প্রভাসের মৃত্য়ু হয়। অভিযোগ এই প্রভাস মণ্ডলই নাবালিকাকে ডেকে এনেছিল।
পুলিস সূত্রে খবর, ঘটনার পুনর্নিমাণের সময়ে তদন্তে গঠিত এসআইটি-র সদস্য রনি সরকারের রিভালবার ছিনিয়ে নেয় প্রভাস। এক রাউন্ড গুলিও চালিয়ে দেয়। তার পরই নিজেদের বাঁচাতে অর্ঘ্য মণ্ডল গুলি চালান। তাতেই গুরুতর আহত হয় প্রভাস। হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। রনি সরকার বর্তমানে ক্যানিং থানার পিসি ইনচার্জ। নির্বাচন কমিশন তাকে বকুলতলা থানার ওসি করেছিল। তার আগে নরেন্দ্রপুর, বারুইপুর, জয়নগর, বকুলতলা থানা-সহ একাধিক থানায় ছিলেন। অন্যদিকে, অর্ঘ্য মণ্ডল বারুইপুর থানার পিসি ইনচার্জ। জয়নগর, সোনারপুর,কুলতলি থানায় একাধিক দায়িত্ব সামলেছে। একসময় বারুইপুর SOG ইনচার্জ ছিলেন।
কীভাবে নাবালিকাকে খুন
সূত্রের খবর, যে পুকুর থেকে নাবালিকার দেহ উদ্ধার হয়, তার পাশেই একটি ঝুপড়িতে বসে নেশা করছিল অভিযুক্ত আনন্দ সর্দার ও দিবাকর সর্দার। সেইসময় প্রভাসকে ওই নাবালিকাকে সেখানে আনতে বলে তারা। এর জন্য প্রভাসকে টাকার লোভ দেখানো হয়।
'দাদা বলেছিল শুধু আমার কাজ দেখে যাও...'! প্রভাস এনকাউন্টারে কী বলছেন নির্যাতিতার বাবা
পুলিসের জেরায় ধৃতরা স্বীকার করেছে , নাবালিকাকে ঝুপড়িতে নিয়ে যাওয়ার পরই পিছন থেকে তার হাত বেঁধে দেওয়া হয়। এরপর মাথার পিছনে জোরে আঘাত করা হয়। সেই আঘাতে নাবালিকা প্রায় সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়ে। হাত দিয়ে নাবালিকার মাথার পেছনে আঘাত করে আনন্দ। সেই আঘাতে প্রায় অচৈতন্য হয়ে পড়ে নাবালিকা। সেই অচৈতন্য অবস্থাতেই নাবালিকার উপর যৌন নির্যাতন চালানো হয়। কিছুক্ষণ পর নাবালিকার জ্ঞান ফিরতেই সে চিৎকার শুরু করে দেয়। আর তখনই বিপদ বুঝতে পারে অভিযুক্তরা। তখন পা দিয়ে গলা চেপে শ্বাসরোধ করা হয় বলে ধৃতদের জেরায় উঠে এসেছে।
এদিকে, ছেলের মৃতদেহ নিতে নারাজ নিহত প্রভাস মণ্ডলের মা। সংবাদমাধ্যমে তিনি বলেন, পুলিস এসে বলে আপনার ছেলে মারা গিয়েছে। আপনি হাসপাতালে গিয়ে দেখে আসতে পারেন। আমি বললাম, আমি যেতে পারব না। মৃতদেহ আমি আনব না। আমি দেখতে চাই না। একদম দেখতে চাই না। তোমরা ওখানে নিয়ে যাও, পুঁতে দেবে কোথায় দেবে, ফেলে দেবে দিয়ে দাও। কেউ যাবে না। ও কোনোদিন আমাদের কথা শোনেনি। বিশেষ নিজের মায়ের কথা শুনত না। নেশা করত। আমার আর কিচ্ছু বলার নেই।
অন্যদিকে, প্রভাসের স্ত্রী চাঁপা মণ্ডলের বক্তব্য়, ও বরাবরই নোংরা। ও এই কাজ করতে পারে না এমন কথা বলতে পারব না। ওর সব অত্যাচার সহ্য করে সংসার করেছি। অন্যায় করেছে।

