Dailyhunt Logo
  • Light mode
    Follow system
    Dark mode
    • Play Story
    • App Story
বাথরুমের মেঝের নীচে ৪৫ দিন! স্বামীকে খুনের পর টাইলস চাপা দিল স্ত্রী

বাথরুমের মেঝের নীচে ৪৫ দিন! স্বামীকে খুনের পর টাইলস চাপা দিল স্ত্রী

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ৪৫ দিন ধরে নিখোঁজ ৪৪ বছর বয়সী সুরেন্দ্র কুমার শর্মা। অবশেষে তাঁর নিজের বাড়ি থেকেই তাঁর পচাগলা মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। খুনের মাস্টারমাইন্ড নিহতের স্ত্রী রুবি শর্মা। স্বামীকে খুন করার পর প্রমাণ লোপাটের জন্য তিনি বাথরুম মেঝের নীচে দেহটি পুঁতে রেখেছিলেন।

গত শুক্রবার (৩ জুলাই) আগ্রার হরিপর্বত থানা এলাকার ওই বাড়িতে পুলিস তল্লাশি চালায়। সেখানে নতুন করে বসানো টাইলসের নিচের মাটি খুঁড়ে মৃতদেহটি উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর অভিযুক্ত স্ত্রীকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিস।

'বাড়িতে কেউ নেই, একটু চা বানিয়ে দিক!', বিশ্বাস করে মেয়েকে পাঠিয়েছিলেন মা, কিন্তু কামাসক্ত ইমতিয়াজ...

পুলিস জানিয়েছে, গত ১৮ মে থেকে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ ছিলেন সুরেন্দ্র কুমার শর্মা। এরপর ২৬ মে তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে একটি নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়। এই দীর্ঘ সময় ধরে নিহতের স্ত্রী রুবি আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের বিভ্রান্ত করছিল। সে ক্রমাগত বলে আসছিল যে তাঁর স্বামী কোথাও গিয়েছেন এবং খুব তাড়াতাড়ি ফিরে আসবেন। তবে তদন্তে নেমে পুলিসের কাছে রুবির বয়ানে বেশ কিছু অসঙ্গতি ধরা পড়ে। গত শুক্রবার একটি পুরনো মামলার সূত্র ধরে পুলিস ফের ওই বাড়িতে যায়। তখন রুবির আচরণ দেখে তদন্তকারীদের সন্দেহ আরও জোরাল হয়। একই সময়ে সুরেন্দ্রর ভাই অনিল শর্মাও পুলিসকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন। এর ভিত্তিতেই পুলিস গোটা বাড়িতে চিরুনি তল্লাশি শুরু করে।

তল্লাশি চলাকালীন তদন্তকারীদের নজর পড়ে বাথরুমের মেঝের দিকে। সেখানে সদ্য বসানো নতুন টাইলস এবং প্লাস্টার দেখে পুলিসের সন্দেহ হয়। এরপরই অফিসাররা মেঝেটি খোঁড়ার নির্দেশ দেন। মাটি খুঁড়তেই ভেতর থেকে সুরেন্দ্রর পচাগলা দেহ বেরিয়ে আসে। প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিস জানিয়েছে, স্বামীকে খুন করার পরপরই দেহটি বাথরুমে পুঁতে দেওয়া হয়েছিল। অপরাধ ঢাকতে মৃতদেহের ওপর মাটি চাপা দেওয়া হয়। তারপর তড়িঘড়ি প্লাস্টার ও নতুন টাইলস বসিয়ে দেওয়া হয়, যাতে কেউ বিন্দুমাত্র টের না পায়।

কেতনকে কে ধাক্কা দিয়েছিল, পুলিসের হাতে নেই কোনো প্রমাণ! সত্যি জানতে এবার কোন পথে তদন্ত? এল চাঞ্চল্যকর মোড়

পুলিসি জেরার মুখে অভিযুক্ত রুবি নিজের অপরাধ স্বীকার করেছে। সে জানায়, এই ঘটনার আগেই সে বাথরুম সংস্কারের ছক কষেছিল। সেই মতো একজন রাজমিস্ত্রি ও কয়েকজন শ্রমিকও ঠিক করে রাখা হয়েছিল। ফলে খুনের পর দ্রুত মেঝেটি পাকা করে ফেলা সম্ভব হয়। এদিকে নিহতের ভাই অনিল শর্মা জানিয়েছেন, সুরেন্দ্র নিয়মিত মদ্যপান করতেন। এই নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই অশান্তি লেগে থাকত। সুরেন্দ্র নিখোঁজ হওয়ার পর রুবি নিজেই পরিবারকে খবর দিয়েছিলেন। তিনিই থানায় অভিযোগও জানিয়েছিলেন। ফলে পরিবারের সদস্যরা ঘুণাক্ষরেও টের পাননি যে নিখোঁজ ব্যক্তির দেহ বাড়ির ভেতরেই রয়েছে।

হরিপর্বত এলাকার এসিপি হেমন্ত প্যাটেল ফোনে জানিয়েছেন, মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ফরেনসিক দল ঘটনাস্থল থেকে প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করেছে। অভিযুক্ত স্ত্রীকে হেফাজতে নিয়ে লাগাতার জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পেছনে সুনির্দিষ্ট কী কারণ ছিল তা জানার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে এই চক্রান্তে অন্য কোনো ব্যক্তি রুবিকে সাহায্য করেছিল কি না, তা-ও খতিয়ে দেখছে পুলিস। এই ঘটনার পর গোটা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।

Dailyhunt
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Dailyhunt. Publisher: Zee News Bengali