Dailyhunt Logo
  • Light mode
    Follow system
    Dark mode
    • Play Story
    • App Story
বিরাট বিপদে মমতার কালীঘাট শিবির: হাইকোর্টের বড় রায়, কড়া হুঁশিয়ারি-- কী পদক্ষেপ নেবে এবার আদালত?

বিরাট বিপদে মমতার কালীঘাট শিবির: হাইকোর্টের বড় রায়, কড়া হুঁশিয়ারি-- কী পদক্ষেপ নেবে এবার আদালত?

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ২১ জুলাইয়ের শহিদ সমাবেশকে কেন্দ্র করে কলকাতা হাইকোর্টের চরম বিপদের মুখে কালীঘাট তৃণমূল কংগ্রেস। আদালতের নির্ধারিত শর্ত অমান্য করে বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে অতিরিক্ত জনসমাগম এবং রাস্তা অবরুদ্ধ করার অভিযোগে মমতা শিবিরকে চূড়ান্ত সতর্কবার্তা দিয়েছেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য।

আদালতের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, ভবিষ্যতে বিচারপ্রক্রিয়া বা নির্দেশের খেলাপ করা হলে তা অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে এবং কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

মামলার প্রেক্ষাপট

কলকাতা হাইকোর্টের অনুমতি মেলেনি-- এমন পরিস্থিতিতে বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে সমাবেশের আর্জি জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তৃণমূল নেতা ডেরেক ও'ব্রায়েন। সবদিক বিবেচনা করে শর্তসাপেক্ষে সভার অনুমতি দিয়েছিল হাইকোর্ট।

আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৩টে ৩০ মিনিট পর্যন্ত সভা করার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। প্রথমে ৩,০০০ জনের জমায়েতের কথা বলা হলেও, রাজ্য সরকারের আপত্তিতে সেই সংখ্যা কমিয়ে সর্বোচ্চ ২,৫০০ জন করা হয়। পাশাপাশি, যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ক্যাথিড্রাল রোডের অন্ততঃ একটি দিক সম্পূর্ণ খোলা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

হাইকোর্টে রাজ্যের রিপোর্ট

শুক্রবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চে মামলার শুনানির সময় রাজ্য সরকারের তরফে কলকাতা পুলিসের একটি রিপোর্ট পেশ করা হয়। সেখানে রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল আদালতকে জানান, সমাবেশকে কেন্দ্র করে পর্যাপ্ত পুলিসি নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার বন্দোবস্ত রাখা হয়েছিল। কিন্তু আয়োজকদের তরফে আদালতের দেওয়া প্রধান শর্তগুলি ভঙ্গ করা হয়েছে।

রিপোর্টে বলা হয়:

অতিরিক্ত জমায়েত: আদালত যে আড়াই হাজার মানুষের সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছিল, বাস্তবে তার চেয়ে বহুগুণ বেশি সমর্থক বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে উপস্থিত হন।

রাস্তা অবরুদ্ধ: সীমা অতিক্রম করার ফলে ক্যাথিড্রাল রোডের দুটি পাশই সম্পূর্ণ আটকে যায়। এর ফলে সংলগ্ন এলাকায় মারাত্মক যানজটের সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ মানুষকে ব্যাপক সমস্যায় পড়তে হয়। আদালতের নির্দেশমতো একটি রাস্তা খোলা রাখার শর্তটি পালনে আয়োজকরা ব্যর্থ হয়েছেন।

উভয় পক্ষের সওয়াল-জবাব

শুনানি চলাকালীন বিচারপতি যখন জানতে চান ওই দিন কোন বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল কি না, তখন ডেরেক ও'ব্রায়েনের আইনজীবী দাবি করেন যে সমাবেশ সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং বড় কোনও অশান্তির ঘটনা ঘটেনি। তবে রাজ্যের পেশ করা রিপোর্টের ভিত্তিতে হাইকোর্ট স্পষ্ট করে দেয় যে, শুধু অশান্তি না হওয়াই যথেষ্ট নয়, আদালতের আইনি শর্ত মেনে চলাই মূল বিষয়।

আদালতের কড়া বার্তা

রাজ্যের জমা দেওয়া তথ্য খতিয়ে দেখার পর বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য কালীঘাট তৃণমূলকে কড়া ভাষায় সতর্ক করেন। তিনি সাফ জানান, 'নির্দেশ অমান্য করার ঘটনা ভবিষ্যতে আর মেনে নেওয়া হবে না। আদালতের নির্দেশ কার্যকর করার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অবহেলা বরদাস্ত করা হবে না।'

অতীতেও ২১ জুলাইয়ের সমাবেশকে কেন্দ্র করে নানাবিধ নিয়মভঙ্গের অভিযোগ উঠেছিল। তবে এবার আদালতের নির্দেশ মেনে শর্তসাপেক্ষে বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে সভার অনুমতি পাওয়ার পরও যেভাব শর্ত লঙ্ঘিত হল, তা বিচার ব্যবস্থার নজরে বেশ গুরুতর। রাজনৈতিক ও আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, হাইকোর্টের এই কড়া বার্তা ভবিষ্যতে রাজনৈতিক কর্মসূচি বা বড় আকারের সমাবেশের ক্ষেত্রে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। ভবিষ্যতে আদালতের শর্ত অমান্য করা হলে তৃণমূলের বিরুদ্ধে যে অত্যন্ত কড়া আইনি পদক্ষেপ আসতে পারে, সেই ইঙ্গিতই দিয়ে রাখল কলকাতা হাইকোর্ট।

রাজ্যে সরকারি স্কুলের ইউনিফর্মের রঙ বদলাচ্ছে? কেমন হবে নতুন স্কুলড্রেস? স্কুল বিল্ডিঙয়ের রং নিয়েও বিরাট ঘোষণা শিক্ষামন্ত্রীর

Dailyhunt
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Dailyhunt. Publisher: Zee News Bengali