রাজীব চক্রবর্তী: দলত্যাগ নিয়ে স্পিকার ওম বিড়লা চিঠি দিতেই চাপে ২০ NCPI সাংসদ! স্পিকারের নোটিসের জবাব দিতে আরও সময় নিচ্ছে এনসিপিআই সাংসদরা। এই বিষয়ে আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ করছেন সুদীপ, কাকলিরা। দলত্যাগ বিরোধী আইনে এনসিপিআই সাংসদদের সদস্যপদ খারিজের জন্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের আবেদনের ভিত্তিতে ২৫ অগাস্ট ২০ জন সাংসদকে আলাদা আলাদা নোটিস ইস্যু করেছিলেন স্পিকার।
সাতদিনের মধ্যে জবাব তলব করেছিলেন তিনি।
সূত্রের খবর, এরপরই বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এনসিপিআই নেতারা। সাতদিনের মধ্যে সেই জবাব দিচ্ছেন না NCPI সাংসদরা। আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ করছেন সুদীপ, কাকলিরা। প্রসঙ্গত, এই বিষয়ে স্পিকারের দ্রুত সিদ্ধান্তের আর্জি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে দায়ের হওয়া অভিষেকের মামলাতেও এনসিপিআই সাংসদদের নোটিস সার্ভ করা হয়েছে। বিদ্রোহী সাংসদদের সদস্যপদ খারিজ নিয়ে বিলম্বে সুপ্রিম কোর্টে আর্জি জানিয়েছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিষেকের দায়ের করা সেই মামলার প্রেক্ষিতেই তৃণমূল কংগ্রেসের ২০ বিদ্রোহী সাংসদকে তথা ২০ জন NCPI সাংসদের উদ্দেশে নোটিস জারি করে সুপ্রিম কোর্ট।
ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটে রাজ্যে ভরাডুবির পরই বড়সড় ভাঙনের মুখে পড়ে তৃণমূল কংগ্রেস। মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের নেতৃত্ব অস্বীকার করে তৃণমূল ত্যাগ করেন ২০ জন সাংসদ। তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একসময়ের ঘনিষ্ঠ অনুগামী বলে পরিচিত কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে লোকসভার ২০ জন সাংসদ তৃণমূল থেকে বেরিয়ে আসেন। তাঁরা যোগ দেন NCPI-তে। যার নেতৃত্বে রয়েছেন কাকলি ঘোষ দস্তিজার নিজে।
এরপরই দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং দলত্যাগের অভিযোগে এই ২০ জন সাংসদের লোকসভার সদস্যপদ খারিজের দাবি জানিয়ে স্পিকার ওম বিড়লার কাছে আবেদন করে তৃণমূল কংগ্রেস। কিন্তু দীর্ঘ দিন পার হয়ে গেলেও, স্পিকার ওম বিড়লা দলত্যাগ নিয়ে তৃণমূলের দায়ের করা আবেদনের উপর কোনও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেননি, ফলে বিষয়টির এখনও চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি, দলত্যাগবিরোধী আইনে সদস্যপদ খারিজের বিষয়টি ঝুলে রয়েছে। এই অভিযোগ জানিয়ে লোকসভার স্পিকারকে দ্রুত নির্দেশ দেওয়ার আর্জি জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ তথা তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
সুপ্রিম কোর্ট ২০ জন বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদের উদ্দেশে নোটিস জারি করে। তাঁদের জবাব তলব করেছে শীর্ষ আদালত। পাশাপাশি, বেঞ্চ সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতাকে এই বিষয়ে স্পিকার ওম বিড়লার কাছ থেকে প্রয়োজনীয় নির্দেশিকা সংগ্রহ করে আদালতকে জানাতে নির্দেশ দেয়। সুপ্রিম নির্দেশের পরই বুধবার তৃণমূলত্যাগী সাংসদদের নোটিস পাঠিয়ে ৭ দিনের মধ্যে ব্যাখ্যা চেয়ে পাঠান স্পিকার ওম বিড়লা। প্রসঙ্গত, সংবিধানের দশম তফসিল অনুযায়ী দলত্যাগবিরোধী আইনের আওতায় কোনও সাংসদের সদস্যপদ খারিজের এক্তিয়ার মূলত স্পিকারের রয়েছে।

