মৃত্যুঞ্জয় দাস: দুয়ারে রেশন, দুয়ারে ডাক্তার, দুয়ারে বিধায়কের পর এবার দুয়ারে শিক্ষক। ছাত্রছাত্রীদের স্কুলমুখী করতে এবার গ্রামে গ্রামে শিক্ষকেরা। স্কুলমুখী না হওয়ার কারণ জানলে আপনিও আবাক হবেন?
বাঁকুড়া শহরের মিউনিসিপাল হাইস্কুলে দীর্ঘ দিন ধরে ছাত্র ছাত্রীর সংখ্যা কমে ৫০% এর নীচে নেমেছে।
এই স্কুলে ছাত্র ছাত্রীর সংখ্যা ১০০০ এর ও বেশি। বর্তমান সময়ে বিগত কয়েক মাস ধরে দেখা যাচ্ছে স্কুলে উপস্থিতর হার অনেকটায় কম। জুনবেদিয়া অঞ্চলে ৬ টি গ্রামে রয়েছে ৫০০এরও বেশি ছাত্র ছাত্রী। তাই কারণ জানতে গ্রামে গ্রামে হাজির স্কুলের প্রধান শিক্ষক থেকে স্কুলের শিক্ষকরা। সাতসকালে তাঁরা সকলে হাজির হন গ্রামে। গ্রামে ছাত্র ছাত্রীদের পাশাপাশি অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলেন শিক্ষকরা। যাতে স্কুলমুখী হয় তারা সে বিষয়ে কথা বলা ও বোঝানের চেষ্টা করান শিক্ষকরা।
পুলিসের জালে অভয়ার প্রমাণ লোপাটের অন্যতম মাথা! আর জি করকাণ্ডে গ্রেফতার পানিহাটির প্রাক্তন চেয়ারম্যান
তবে কেন স্কুল আসতে চাইছে না পড়ুয়ারা? কারণ হিসেবে যা উঠে এল, তা শুনলে রীতিমত অবাক হবেন। এই সকল গ্রামে বেশিরভাগই পিছিয়ে পড়া ও খেটে খাওয়া পরিবার। তাই বেশিরভাগ ছাত্রছাত্রী পরিবারের সঙ্গে কাজ করতে চলে যায়। এর পাশাপাশি অল্প বয়সে পরিবারের অভাব মেটাতে পড়ুয়ারা লোকের দোকানে বা বাকিদের বাড়িতে কাজ করতে চলে যায়। এছাড়াও শিক্ষকেরা বলেন দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে শিক্ষক নিয়োগ, স্কুলের পরিকাঠামো, কোনও কর্মসংস্থান না থাকায় দিশাহীন হয়ে পড়াশোনা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে বহু ছাত্র-ছাত্রী। তাই একদিকে স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের স্কুলমুখী করা। অন্যদিকে বর্তমান সরকারকে এই বিষয়ে নজর দেওয়ার আর্জি জানিয়েছেন তারা।
উল্লেখ্য, অন্যদিকে ১০০% দৃষ্টিহীন এক মেধাবী ছাত্রের উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে সমস্ত রকম দায়িত্বভার নিলেন মেদিনীপুরের বিজেপি বিধায়ক শংকর গুছাইত। প্রেমজিত সাউ নামে ওই ছাত্রের বাড়ি পশ্চিম মেদিনীপুরের জঙ্গলমহল পিড়াকাটা এলাকার প্রত্যন্ত গ্রাম মালিদা অঞ্চলে। মাধ্যমিকে ৭০০ মধ্যে ৬০১ নম্বর এবং উচ্চ মাধ্যমিকে ৫০০ মধ্যে ৪৪৩ নম্বর পেয়ে বর্তমানে পলিটিক্যাল সায়েন্সে অনার্স নিয়ে মেদিনীপুর কলেজে পাঠরত ওই দৃষ্টিহীন ছাত্র। অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের সন্তান। মাকে ছোটবেলাতেই হারিয়েছে, বাবা মানসিক ভারসাম্যহীন। কাকুর কাছে থেকেই মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক পড়াশোনা করেছে সে। বর্তমানে কলেজে ভর্তি হওয়ার পর আর্থিক অনটনের কারণে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়েছিল। তার ইচ্ছে রয়েছে ডবলুবিসিএস এর মতন পরীক্ষায় বসার জন্য। কিন্তু বাধা সেই আর্থিক সমস্যা।
কয়েকদিন আগে খবর পেয়ে মেদিনীপুরের ধর্মা এলাকায় অবস্থিত বিধায়কের কার্যালয়ে জনতার দরবারে ওই ছাত্র আর্থিক সাহায্যের আবেদন জানিয়েছিল। শিক্ষা জগতের মানুষ হিসেবে বিধায়ক শংকর গুছাইতের বিষয়টি নজর এড়ায়নি। তার মার্কসিটগুলি দেখে স্তম্ভিত হয়ে যান। খোঁজখবর নিয়ে দেখেন সত্যিই অত্যন্ত আর্থিক অনটনের মধ্যে তাদের সংসার চলে। কিন্তু ওই ছাত্রের অদম্য ইচ্ছে রয়েছে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হতে। তাই তিনি আজকে ওই ছাত্রকে ডেকে পাঠিয়েছিলেন এবং সেই সঙ্গে তাকে জানান এবার থেকে উচ্চশিক্ষার জন্য পড়াশোনা থেকে থাকা খাওয়া সমস্ত ব্যয়ভার বহন করবেন তিনি। আর এই পুরো খরচটাই তিনি বিধায়কের ভাতা এবং বিধায়ক তহবিল থেকে দেবেন। সেই সঙ্গে তাকে উৎসাহ দিয়ে বলেন সে যতদূর পড়তে চাইবে বিধায়ক তার পাশে থাকবে। বিধায়কের এই আশ্বাস পাওয়ার পর বিধায়ককে ধন্যবাদ এবং প্রণাম জানাতে ভোলেননি ওই ছাত্র।

