Dailyhunt Logo
  • Light mode
    Follow system
    Dark mode
    • Play Story
    • App Story
দানবীয় হড়পায় বিধ্বস্ত নেপাল, এক বাড়িতেই ২৩ জনের দেহ উদ্ধার, নিখোঁজ ৩,৯২৫

দানবীয় হড়পায় বিধ্বস্ত নেপাল, এক বাড়িতেই ২৩ জনের দেহ উদ্ধার, নিখোঁজ ৩,৯২৫

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও হড়পা বানের ধাক্কা এখনও কাটেনি। মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৯৬২। এখনও প্রায় ৩,৯২৫ জনের কোনও খোঁজ নেই। এর মধ্যেই নুওয়াকোটের একটি বাড়ি থেকে একসঙ্গে ২৩টি দেহ উদ্ধার হয়েছে। গত ২৬ অগাস্ট নেপাল-তিব্বত সীমান্তের কাছে বরফ ও পাথর ধসের পর ভয়াবহ হড়পা বান নামে।

মুহূর্তের মধ্যে ভেসে যায় বাড়িঘর, গাড়ি, রাস্তা ও সেতু। ভোতে কোশি ও ত্রিশূলী নদী ব্যবস্থার বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

এক বাড়ি থেকেই ২৩ দেহ

নুওয়াকোটের বেত্রাবতী এলাকায় একটি বাড়ি থেকে সোমবার সকালে ২৩টি দেহ উদ্ধার করেন উদ্ধারকারীরা। এই ঘটনা নেপালের বন্যার ভয়াবহতার আরও একটি ছবি সামনে এনেছে। নদীর স্রোতে বহু দেহ ভেসে দূরের এলাকায় চলে যাওয়ায় মৃতদের শনাক্ত করতেও সমস্যায় পড়ছেন প্রশাসন। পরিবারের সদস্যরা হাসপাতাল থেকে হাসপাতালে ঘুরে নিখোঁজ পরিজনদের খোঁজ করছেন।

সুড়ঙ্গে আটকে শত শত কর্মী

বন্যার জেরে বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রায় ১১টি প্রকল্পের ৯৩৩ জন কর্মী আটকে বা নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। রসুয়া ও নুওয়াকোটের একাধিক প্রকল্পের সুড়ঙ্গে এখনও কর্মীরা আটকে থাকার আশঙ্কা রয়েছে। পুরু কাদা ও জল জমে থাকায় উদ্ধারকাজ অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। ত্রিশূলী-৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে প্রায় ৪০-৪২ জন ইঞ্জিনিয়ার কাজ করছিলেন বলে জানা গিয়েছে। বন্যার পর ষষ্ঠ দিনেও সেখানে উদ্ধারকাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে ত্রিশূলী-৩বি প্রকল্পে এখনও ১১৮ জন কর্মীর কোনও খোঁজ নেই। নেপাল সেনা কাদা ও জল সরাতে বিস্ফোরক, এক্সক্যাভেটর এবং সার্চলাইট ব্যবহার করছে।

ভারতে মিলল ১৩ দেহ

নেপালের বন্যার জল গড়িয়ে ভারতের উত্তরপ্রদেশেও পৌঁছেছে। কুশীনগরের গণ্ডক নদী থেকে ১৩টি দেহ উদ্ধার হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৬ জন মহিলা এবং ৭ জন পুরুষ। দেহগুলি নেপালের হাতে তুলে দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। নেপালের বিভিন্ন এলাকায় এখনও বহু মানুষ নিখোঁজ। রসুয়ার উত্তরগয়া গ্রামের প্রায় ৩৫০ জন পড়ুয়ারও খোঁজ মিলছে না বলে খবর। এখনও পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা থেকে ১০ হাজারের বেশি মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৩২৩ জন বিদেশি নাগরিক। নেপালের বিদেশ মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ৩৯টি দেশের প্রায় ৫৯০ জন বিদেশি নাগরিক এখনও নিখোঁজ।

দেহ শনাক্ত করাও বড় চ্যালেঞ্জ

বন্যার পর উদ্ধার হওয়া অনেক দেহ এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত যে সহজে শনাক্ত করা যাচ্ছে না। পরিবারগুলি ছবি, জামাকাপড়, গয়না, ট্যাটু বা অন্য কোনও পরিচিত চিহ্ন দেখে দেহ শনাক্ত করার চেষ্টা করছেন। কোনও কোনও ক্ষেত্রে ডিএনএ পরীক্ষার প্রয়োজন হচ্ছে। এমনকি পোখরার একটি হাসপাতালে একটি দেহকে নিজেদের নিখোঁজ আত্মীয় বলে দাবি করেছে তিনটি পরিবার। শেষ পর্যন্ত ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমেই পরিচয় নিশ্চিত করতে হবে। নেপাল ডিএনএ কিট, ড্রোন, লাইডার প্রযুক্তি-সহ বিশেষ উদ্ধার ও শনাক্তকরণ সরঞ্জাম চেয়েছে। ১৮ জন ভারতীয় ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞও দেহ শনাক্তকরণে সাহায্য করছেন।

বাড়ছে মানবিক সংকট

জাতিসংঘ জানিয়েছে, বন্যা কবলিত এলাকায় প্রায় ৬৫ হাজার মানুষের জরুরি জল, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি সহায়তা প্রয়োজন। ২২ হাজারের বেশি শিশুর সুরক্ষা পরিষেবা দরকার। পাঁচ বছরের কম বয়সি প্রায় ২,৬০০ শিশুর অপুষ্টির চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে। পাশাপাশি প্রায় ১০,৫০০ গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী মহিলার পুষ্টি সহায়তা প্রয়োজন। বন্যায় ১৯টি স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৯টি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। আটটি স্কুলে এখন দুর্গত মানুষদের আশ্রয় দেওয়া হয়েছে।

ফের বন্যার আশঙ্কা

উদ্ধারকাজের মধ্যেই নতুন করে বৃষ্টির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। নদীতে জলস্তর বাড়লে ফের বন্যা হতে পারে বলে সতর্ক করেছে প্রশাসন। রাস্তা ও সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দুর্গত এলাকায় ত্রাণ ও উদ্ধারকারী দল পৌঁছতেও সমস্যা হচ্ছে। নেপালের ভয়াবহ বিপর্যয়ে মৃতের সংখ্যা যখন প্রায় ১ হাজারের কাছাকাছি, তখন নিখোঁজ মানুষদের খোঁজ এবং আটকে থাকা কর্মীদের উদ্ধার করাই এখন প্রশাসনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

৩ দিন ধ্বংসস্তূপের নীচে! ক্ষীণ কান্না শোনা যাচ্ছে, খুঁড়তেই ৬ বছরের শিশু...ভয়ংকর নেপাল

Dailyhunt
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Dailyhunt. Publisher: Zee News Bengali