কিরণ মান্না: দীঘা সমুদ্র সৈকতে এক অজ্ঞাতপরিচয় যুবকের মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের। বুধবার বিকেলে সমুদ্রের জলে ভেসে আসা ওই মৃতদেহ উদ্ধার করাকে কেন্দ্র করে সৈকত সংলগ্ন এলাকায় থমথমে পরিবেশ। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দীঘা থানার পুলিস এবং মৃতদেহটি উদ্ধার করে নিয়ে যায়।
ঘটনার বিবরণ
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আজ বিকেলে দীঘার বিখ্যাত মাইটি ঘাটের কাছে সমুদ্রের নোনা জলে হঠাৎই একটি দেহ ভাসতে দেখেন সৈকতে উপস্থিত পর্যটক ও নুলিয়ারা। মুহূর্তের মধ্যে এই খবর ছড়িয়ে পড়লে ঘাটের আশপাশে কৌতূহলী মানুষের ভিড় জমে যায়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে প্রত্যক্ষদর্শীরা সঙ্গে সঙ্গে খবর দেন দীঘা থানায়।
সংবাদ পাওয়ার পরপরই দীঘা থানার পুলিস বাহিনী মাইটি ঘাটে পৌঁছায়। স্থানীয় নুলিয়াদের সহায়তায় সমুদ্রের জোয়ারের জল থেকে মৃতদেহটি উদ্ধার করে তীরে তুলে আনা হয়।
মৃতের পরিচয়
উদ্ধার হওয়া মৃত ব্যক্তির বয়স আনুমানিক ৩৫ বছর বলে পুলিস সূত্রে জানানো হয়েছে। মৃতদেহের পরনে ছিল একটি আকাশী রঙের গেঞ্জি এবং একটি ট্র্যাকসুট। তবে ওই ব্যক্তির সঙ্গে মানিব্যাগ, পরিচয়পত্র বা মোবাইল জাতীয় কোনো নথিপত্র উদ্ধার না হওয়ায় তাঁর নাম বা পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পুলিসের পক্ষ থেকে জানা গিয়েছে, মৃত যুবকের পরিচয় অনুসন্ধানে সব ধরনের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
মৃত্যুর কারণ
পুলিস ও প্রত্যক্ষদর্শীদের প্রাথমিক অনুমান, হয়তো সমুদ্রে নামার পর বিশালাকার ঢেউয়ের টানে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে জলে তলিয়ে গিয়েছিলেন ওই যুবক। তবে এটি কেবলই দুর্ঘটনাজনিত সলিল সমাধি, নাকি এর নেপথ্যে অন্য কোনও রহস্য বা ষড়যন্ত্র রয়েছে-- তা এখনও স্পষ্ট নয়।
ময়নাতদন্ত
দীঘা থানার পুলিস মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কাঁথি মহকুমা হাসপাতালে পাঠিয়েছে। ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্ট হাতে এলেই মৃত্যুর আসল কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে মনে করছে প্রশাসন।
একই সঙ্গে, সৈকত সংলগ্ন সমস্ত হোটেল, রিসোর্ট এবং নিকটবর্তী থানাগুলোতে এই অজ্ঞাতপরিচয় যুবকের পোশাক ও শারীরিক বৈশিষ্ট্যের বিবরণ-সহ খবর পাঠানো হয়েছে। উদ্দেশ্য, কোনো পর্যটক বা স্থানীয় বাসিন্দা নিখোঁজ রয়েছেন কি না তা খতিয়ে দেখা।
সৈকত শহরে এমন মর্মান্তিক ঘটনায় সৈকতে থাকা সাধারণ পর্যটকদের মধ্যে সাময়িক আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। দীঘা থানার পুলিস ও মৎস্যজীবী সমিতি থেকে সকল পর্যটকদের সমুদ্রে স্নানের সময় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে এবং বিপজ্জনক ঘাট বা জোয়ারের সময় গভীরে না নামার জন্য বিশেষভাবে আবেদন জানানো হয়েছে।

