জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: গ্রীষ্মের ছুটিতে ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য অত্যন্ত খারাপ খবর। বিশেষত যারা বিমান যাত্রী। ভারতের বিমান পরিবহণ ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব সংকট। ইন্ডিগো (IndiGo), এয়ার ইন্ডিয়া (Air India) এবং এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস (AI Express)-এর মতো বড় বিমান সংস্থাগুলো একযোগে তাদের দেশীয় উড়ানের (Domestic Flights) সংখ্যা বিপুল পরিমাণে কমিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, বিমান সংখ্যা হ্রাসের এই সিদ্ধান্তে সবচেয়ে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে চলেছে দেশের ব্যস্ততম চারটি রুট-- মুম্বই, দিল্লি এবং বেঙ্গালুরু।
আকস্মিক এই সিদ্ধান্তের ফলে টিকিটের আকাশছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধি এবং শেষ মুহূর্তে বিমান বাতিলের আশঙ্কায় চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।
বিমান কমে যাওয়ার মূল কারণ কী?
হঠাৎ করে কেন এই পরিস্থিতি তৈরি হল তা নিয়ে অ্যারোস্পেস বিশ্লেষক ও বিমান সংস্থাগুলোর সূত্রে একাধিক কারণ সামনে এসেছে:
১. ইঞ্জিন বিভ্রাট : বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ইঞ্জিন প্রস্তুতকারক সংস্থা 'প্র্যাট অ্যান্ড হুইটনি' (P&W)-এর ইঞ্জিনে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ইন্ডিগো এবং এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের বহু বিমান বর্তমানে ওড়ার অযোগ্য হয়ে রানওয়েতে দাঁড়িয়ে (Grounded) আছে। নতুন ইঞ্জিন বা খুচরো যন্ত্রাংশ সময়মতো না পাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।
২. পাইলট ও ক্রু মেম্বারদের অভাব: এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের ম্যানেজমেন্টের সাথে ক্রু মেম্বারদের অসন্তোষ এবং ইন্ডিগোর পাইলটদের ওভার-ডিউটির কারণে কর্মীদের ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
৩. এয়ারপোর্ট স্লটের সীমাবদ্ধতা: বিশেষ করে মুম্বই ও দিল্লির মতো অত্যন্ত ব্যস্ত বিমানবন্দরে রানওয়ে রক্ষণাবেক্ষণ এবং অতিরিক্ত ট্রাফিকের কারণে বিমান সংস্থাগুলোকে তাদের দৈনিক উড়ানের সংখ্যা বাধ্য হয়ে কমাতে হচ্ছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত মুম্বই, দিল্লি ও বেঙ্গালুরু
দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো রুটগুলোই এই বিমান ছাঁটাইয়ের প্রধান লক্ষ্য।
মুম্বই-দিল্লি রুট: ভারতের সবচেয়ে ব্যস্ততম আকাশপথ। এই রুটে ইন্ডিগো এবং এয়ার ইন্ডিয়া তাদের দৈনিক উড়ানের সংখ্যা প্রায় ১৫% থেকে ২০% কমিয়ে দিয়েছে।
বেঙ্গালুরু ও অন্যান্য রুট: সিলিকন ভ্যালি বেঙ্গালুরুর সঙ্গে দিল্লি ও মুম্বইয়ের সংযোগকারী একাধিক নন-স্টপ উড়ান বাতিল করা হয়েছে। এর পাশাপাশি কলকাতা, হায়দরাবাদ ও চেন্নাইগামী বেশ কিছু বিমানও এই ছাঁটাইয়ের আওতায় পড়েছে।
ব্যবসায়িক বা জরুরি প্রয়োজনে যারা নিয়মিত এই রুটগুলোতে যাতায়াত করেন, তারা এখন বিকল্প ফ্লাইটের সন্ধানে হন্যে হয়ে ঘুরছেন।
আকাশছোঁয়া টিকিটের দাম ও যাত্রীদের ভোগান্তি
চাহিদা ও জোগানের স্বাভাবিক নিয়ম মেনেই বিমান সংখ্যা কমে যাওয়ায় অবশিষ্ট বিমানগুলোর টিকিটের দাম হু হু করে বাড়তে শুরু করেছে।
স্পট ফেয়ার বা যাত্রার ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা আগে টিকিট কাটার খরচ প্রায় ৩০% থেকে ৫০% পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
যাত্রীদের ক্ষোভ: বহু যাত্রী অভিযোগ করেছেন যে, কোনও কোনও ক্ষেত্রে বিমান বাতিলের খবর তাদের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে জানানো হচ্ছে। বিমান সংস্থাগুলো টিকিটের টাকা ফেরত (Refund) বা বিকল্প বিমানের ব্যবস্থা করার কথা বললেও, শেষ মুহূর্তে অন্য বিমানের টিকিটের দাম এতটাই বেশি থাকছে যে সাধারণ মানুষের পক্ষে তা বহন করা অসম্ভব হয়ে পড়ছে।
ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে দেশের বেসামরিক বিমান পরিবহণ নিয়ামক সংস্থা 'ডিজিসিএ' (DGCA) এবং কেন্দ্রীয় বিমান মন্ত্রক গোটা বিষয়টির ওপর কড়া নজর রাখছে।
বিমান সংস্থাগুলোকে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তারা যেন অগ্রিম বুকিং করা যাত্রীদের হয়রানি না করে এবং যথাসম্ভব আগে বিমান বাতিলের তথ্য সরবরাহ করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজার থেকে নতুন লিজড (Leased) বিমান ভারতের বিমানবহরে যুক্ত না হওয়া পর্যন্ত এবং ইঞ্জিনের সমস্যা না মেটা পর্যন্ত আগামী কয়েক মাস অভ্যন্তরীণ বিমান চলাচলের এই সংকট বজায় থাকার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে যাত্রীদের বিমান যাত্রার পরিকল্পনা করার আগে ভালো করে শিডিউল ও লাইভ স্টেটাস চেক করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

