অয়ন শর্মা: মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বৃদ্ধাকে মেয়াদোত্তীর্ণ স্যালাইন দেওয়ার ঘটনায় এবার রাজ্যজুড়ে শোরগোল। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। এই পরিস্থিতিতে চরম গাফিলতির অভিযোগের মুখে এবার নড়েচড়ে বসল রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর।
খোদ স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে এই ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ রিপোর্ট তলব করেছেন।
কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
মেদিনীপুর মেডিক্যালের এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শ্বারদ্বত মুখোপাধ্যায় কড়া বার্তা দিয়েছেন। তিনি জানান, 'আমরা ইতিমধ্যেই গোটা বিষয়টি জানতে চেয়েছি এবং কেন রোগীকে মেয়াদোত্তীর্ণ স্যালাইন দেওয়া হল, সেই বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে রিপোর্ট তলব করেছি। রিপোর্ট হাতে আসার পর যদি কেউ দোষী প্রমাণিত হয়, তবে তাঁর বিরুদ্ধে কড়া আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।' স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এই হস্তক্ষেপের পর হাসপাতালের ভেতরের ওষুধ সরবরাহ ব্যবস্থা ও নার্সদের ভূমিকা নিয়ে তদন্ত আরও জোরদার হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
দায় এড়ালেন জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক
একদিকে যখন স্বাস্থ্যমন্ত্রী নিজে এই ঘটনায় তৎপরতা দেখাচ্ছেন, অন্যদিকে তখন জেলা স্বাস্থ্য প্রশাসনের শীর্ষ কর্তার ভূমিকায় তৈরি হয়েছে চরম বিতর্ক। মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজের মতো একটি বড় সরকারি হাসপাতালে এমন ভয়ানক গাফিলতি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে, কার্যত মুখে কুলুপ আঁটেন পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক। সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে তিনি অত্যন্ত উদাসীনভাবে বলেন, 'এটা আমার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না।' এই কথা বলেই তিনি ফোন কেটে দেন।
বর্তমান পরিস্থিতি
জেলার সর্বোচ্চ স্বাস্থ্য আধিকারিকের এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য এবং দায় এড়ানোর মানসিকতা নিয়ে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন মহল থেকে তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভের ঝড় উঠতে শুরু করেছে। হাসপাতাল সূত্রের খবর, স্বাস্থ্য ভবনের নির্দেশ আসার পর থেকেই নথিপত্র ও ওষুধের স্টক খতিয়ে দেখার কাজ শুরু হয়েছে। ২০২৫ সালের প্রসূতি মৃত্যুর ঘটনার পর ফের এই স্যালাইন কাণ্ডের পুনরাবৃত্তি কেন ও কার গাফিলতিতে হল, এখন সেটাই মূল তদন্তের বিষয়।
প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে এই হাসপাতালে স্যালাইন নিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন পাঁচ প্রসূতি। মৃত্যু হয় দুই প্রসূতি এবং এক সদ্যোজাতের। মানসীর বাড়ি মেদিনীপুর শহরের বিদ্যাসাগরপল্লিতে। তাঁর পুত্র বিশ্বজিৎ জানান, গত ৫ জুলাই হার্ট, কিডনি সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় বৃদ্ধাকে। পরে জানা যায় মায়ের স্ট্রোক হয়েছে। বুধবার সকাল থেকে চলছিল স্যালাইন।
'এক্সপায়ারি ডেট দেখা সম্ভব নয়!', মার্চের মেয়াদ উত্তীর্ণ স্যালাইন দেওয়ার অভিযোগ রোগীক
এনকাউন্টার থেকে ড্রোন অভিযান! ভয় ভাঙছে নির্যাতিতাদের, নতুন শক্তিতে নারী অধিকারকর্মীর

