কিরণ মান্না: দীর্ঘদিনের অপেক্ষা কি এবার সত্যিই শেষ হতে চলেছে? জমি-জটে আটকে থাকা দেশপ্রাণ-নন্দীগ্রাম রেল প্রকল্পে ফের নতুন করে গতি এসেছে। আর সেই প্রকল্প নিয়েই বড় ঘোষণা করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, ২০২৭ সালের মার্চ মাসের মধ্যে নন্দীগ্রাম থেকে রেল পরিষেবা চালু হয়ে যাবে।
রেল পরিষেবা চালুর প্রথম দিনকে ঘিরেও রয়েছে বড় পরিকল্পনা। মুখ্যমন্ত্রী নিজেই ঘোষণা করেছেন, নন্দীগ্রামের সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে প্রথম রেলে যাত্রা করবেন তিনি।
প্রায় ১৭ কিলোমিটার রেলপথ
দেশপ্রাণ থেকে নন্দীগ্রামের হরিপুর পর্যন্ত প্রায় ১৭ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই এই প্রকল্পের কাজ বিভিন্ন কারণে থমকে ছিল। বিশেষ করে জমি-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে প্রায় সাড়ে ৬ একর অংশের কাজ কার্যত আটকে যায়।
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, সরকার পরিবর্তনের পর সেই জমি-জট কাটানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে প্রায় সাড়ে ৩ একর অংশের জমি রেল প্রকল্পের জন্য হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি প্রায় ৩ একর জমি হস্তান্তরের কাজও দ্রুত সম্পন্ন হবে।
রেল প্রকল্প নিয়ে মমতাকে নিশানা
রেয়াপাড়া শিব মন্দির মাঠে সরকারি অনুষ্ঠানে দাঁড়িয়ে রেল প্রকল্প নিয়ে পূর্বতন সরকারের বিরুদ্ধে সরব হন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর অভিযোগ, নন্দীগ্রামে ২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই রেল প্রকল্প নিয়ে আর কোনও কার্যকর উদ্যোগ নেননি। এক প্রকার আটকে রেখেছিলেন। অথচ নন্দীগ্রামের রেল যোগাযোগ চালু হলে সাধারণ মানুষই সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন বলে দাবি করেন তিনি।
রেলমন্ত্রীর সঙ্গে তৎপরতা
রেল প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের সঙ্গে যোগাযোগ ও তৎপরতার কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, বিষয়টি নিয়ে রেল মন্ত্রকও আগ্রহ দেখিয়েছেন এবং প্রকল্পটি এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কী কী সুবিধা পাবেন নন্দীগ্রামের মানুষ?
১)রেল পরিষেবা চালু হলে নন্দীগ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসতে পারে।
২) বর্তমানে সড়কপথের উপর নির্ভরশীল এলাকার মানুষ রেলের মাধ্যমে-- কলকাতার সঙ্গে আরও সহজে যোগাযোগ করতে পারবেন।
৩) তমলুক ও দীঘার সঙ্গে যাতায়াত আরও সহজ হবে।
৪) চিকিৎসা ও শিক্ষার কাজে বাইরে যাওয়া সহজ হবে।
৫) ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি আসতে পারে।
৬) কম খরচে দূরপাল্লার যাতায়াতের সুযোগ বাড়বে।
৭) পর্যটনের ক্ষেত্রেও নন্দীগ্রামের গুরুত্ব বাড়তে পারে।
'প্রথম ট্রেনে মানুষের সঙ্গে উঠবেন শুভেন্দু'
আগামী ২০২৭ সালের মার্চের মধ্যে এই রেল চালু হলে নন্দীগ্রামের সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে প্রথমে চড়বেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণার পর নন্দীগ্রামে রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষের মধ্যে শুরু হয়েছে চর্চা। উচ্ছাস চোখে পড়ার মতো। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রেল যোগাযোগের দাবি থাকলেও প্রকল্পটি নানা কারণে আটকে ছিল। এবার সত্যিই যদি ২০২৭ সালের মার্চের মধ্যে ট্রেন চলাচল শুরু হয়, তাহলে তা নন্দীগ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থায় ঐতিহাসিক পরিবর্তন আনবে।
তবে ঘোষণার পর এখন মূল নজর বাকি জমি হস্তান্তর, পরিকাঠামো নির্মাণ এবং রেলপথের বাকি কাজ কত দ্রুত শেষ হয়, তার দিকে। দু'দশকের অপেক্ষা কি এবার শেষ? মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী ২০২৭ সালের মার্চেই কি নন্দীগ্রাম থেকে ছুটবে প্রথম ট্রেন? উত্তর পাওয়ার অপেক্ষায় নন্দীগ্রামবাসী।

