সন্দীপ প্রামাণিক: পশ্চিমবঙ্গের উপর থেকে নিম্নচাপ সরে গিয়েছে। কিন্তু বৃষ্টির দাপট এখনই কমছে না। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, নিম্নচাপটি এখন উত্তর-পূর্ব মধ্যপ্রদেশ ও সংলগ্ন এলাকায় রয়েছে। আগামী ১২ ঘণ্টায় সেটি ধীরে ধীরে দুর্বল হবে। তবে নিম্নচাপ সরে গেলেও উত্তরপ্রদেশ থেকে বাংলাদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত নিম্নচাপ রেখা এবং মৌসুমী অক্ষরেখার প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গে আগামী ২৪ ঘণ্টা বৃষ্টির দাপট থাকতে পারে।
দক্ষিণবঙ্গে কোথায় বেশি বৃষ্টি?
আগামী ২৪ ঘণ্টায় দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জায়গাতেই হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, উত্তর ২৪ পরগনা, নদিয়া, পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমান ও হুগলিতে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে। কলকাতা ও দক্ষিণ ২৪ পরগনাতেও ভারী বৃষ্টির সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, নদিয়া এবং পূর্ব বর্ধমানের কিছু অংশে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ভারী বৃষ্টি এবং ঘণ্টায় ৩০-৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া হতে পারে বলে সতর্ক করেছে আবহাওয়া দফতর।
কলকাতার পরিস্থিতি কী?
কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় আগামী ২৪ ঘণ্টা মেঘলা আকাশ এবং কয়েক পশলা হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি চলতে পারে। বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে। এরই মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় কলকাতায় ১২০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি হয়েছে। আবহবিদদের মতে, এই পরিমাণ বৃষ্টি অতি ভারী বৃষ্টির পর্যায়ে পড়ে। বুধবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্তও প্রায় ৫-৬ সেন্টিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২৪ ঘণ্টার পর দক্ষিণবঙ্গে ধীরে ধীরে বৃষ্টির তীব্রতা কমতে পারে। ৩ সেপ্টেম্বর থেকে বৃষ্টি কিছুটা কমবে এবং ৪ সেপ্টেম্বর আরও কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
উত্তরবঙ্গেও বৃষ্টি
উত্তরবঙ্গের সব জেলাতেই হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার, দার্জিলিং, মালদা ও দক্ষিণ দিনাজপুরে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। ৩ সেপ্টেম্বর উত্তর দিনাজপুরেও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী কয়েকদিন উত্তরবঙ্গের কোথাও কোথাও ভারী বৃষ্টি চলবে।নিম্নচাপ সরে যাওয়ায় আপাতত সমুদ্র পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে বড় ধরনের ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা নেই। তাই এই মুহূর্তে মৎস্যজীবীদের জন্য কোনও বিশেষ সতর্কবার্তাও দেওয়া হয়নি।
বজ্রপাত নিয়ে কী বলছেন আবহবিদরা?
আবহবিদদের মতে, বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকা এবং মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে বজ্রগর্ভ মেঘ তৈরি হচ্ছে। এই ধরনের মেঘ থেকেই স্থানীয়ভাবে বজ্রপাত হতে পারে। আবহাওয়া দফতরের পরামর্শ, বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি চলাকালীন নিরাপদ জায়গায় থাকতে হবে। খোলা মাঠ, গাছের নিচে এবং জলাশয়ের কাছাকাছি যাওয়া এড়িয়ে চলাই ভালো।
হাসপাতালে ঢুকে চিকিত্সকদের বেধড়ক মার, শ্লীলতাহানি! ABVP-র বিরুদ্ধে বিস্ফোরক

