বিধান সরকার: একমাত্র মেয়ে মারা গিয়েছে আগেই। এবার বাবা-মাও নিখোঁজ মানস সরোবরের পথে। নেপালের দুর্যোগে নিখোঁজ হুগলির উত্তরপাড়ার ভদ্রকালী পানপাড়া বাই লেনের বাসিন্দা বিশ্বাস দম্পতি- ক্ষিতীশ বিশ্বাস ও তাঁর স্ত্রী মমতা বিশ্বাস। তালাবন্ধ বাড়ি যেন ঘরের লোকের ফেরার অপেক্ষার প্রহর গুনছে।
প্রতিবেশীরা জানান, একমাত্র মেয়ে ১৮ বছর বয়সে পথ দুর্ঘটনায় মারা যাওয়ার পর থেকে পুজো-অর্চনা নিয়ে থাকতেন দুজনে।
রেলে চাকরি করতেন ক্ষিতীশ বাবু। কিন্তু মেয়ে মারা যাওয়ার পর চাকরির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ভলেনটারি রিটায়ারমেন্ট নিয়ে নেন। স্বেচ্ছা অবসর নিয়ে ঘুরে বেড়াতেন। বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে যেতেন। প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, ২১ তারিখ তাঁরাও কলকাতার ভ্রমণ সংস্থার সঙ্গে কৈলাসে মানস সরোবর ঘুরতে গিয়েছিলেন। কিন্তু, তারপর থেকেই আর কোনও খোঁজ নেই। পুলিস এসেছিল দম্পতির খোঁজে।
হুগলির মোট পাঁচজন নিখোঁজ নেপালে। তারকেশ্বরের স্নেহাশিস দত্ত, ভ্রমণ সংস্থার কর্মী জয়ন্ত সান্যাল। যদিও তাঁর পৈতৃক বাড়ি তারকেশ্বরে, তবে এখন তিনি পরিবার নিয়ে গড়িয়ায় থাকতেন। চন্দননগরের শিপ্রা রায় পাটারী ও উত্তরপাড়ার ক্ষিতিশ রায় ও মমতা রায়। চন্দননগরের শিপ্রা রায় পাটারী একজন প্রাক্তন শিক্ষিকা। কলকাতার এক ভ্রমণ সংস্থার মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রীর একসঙ্গেই যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু স্বামীর বয়সজনিত কারণে ছাড়পত্র না পাওয়ার জন্য স্ত্রী একাই গিয়েছেন।
চন্দননগর পুরনিগমের তিন নম্বর হরিদ্রাডাঙা পূর্বপাড়ায় বাড়ি শিপ্রা রায় পাটারীর। সিঙ্গুর গোলাপ মোহিনী স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষিকা তিনি। স্বামী রবীন পাটারী গরবাটি স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষক। ভ্রমণ সংস্থার সঙ্গে ২১ অগাস্ট নেপাল গিয়েছিলেন শিপ্রা পাটারি। সেপ্টেম্বরের ছয় তারিখে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু, দুর্যোগের পর থেকেই আর কোনও খোঁজ নেই। উদ্বিগ্ন পরিবার গুনছে উৎকণ্ঠার প্রহর।
শিপ্রা রায়ের ভাই অখিল রায় বলেন, "বোন নেপালে বেড়াতে গিয়েছিল। গতকাল সাড়ে আটটা নাগাদ পরিবারের সঙ্গে কথা হয়। আমরা অনুমান করছি চিনা বর্ডারে পারমিশনের জন্য ওরা গিয়েছিল। হড়পা বানের সময় ওখানে ওরা বাসে করে গিয়েছিল। এখনও অবধি কিছু খবর পাচ্ছি না। দুশ্চিন্তায় আছি আমরা। ভ্রমণ সংস্থাও চেষ্টা করছে। খোঁজ নিচ্ছে। আজকে ভ্রমণ সংস্থা আমাদের জানায় যে ৩২ জনের মধ্যে একজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকিদের কোনও খবর নেই।"
ভালোবাসতেন একা ঘুরতে! মা-বাবা, স্বামী-সন্তানকে রেখেই নেপালে, 'নিখোঁজ' সোনারপুরের লোপামুদ্রা
সকালে শেষ ফোন স্ত্রীকে, অভিবাসন দফতরে পৌঁছতেই মারণ স্রোতের ছোবল! খবর নেই তারকেশ্বরের স্নেহাশিসবাবুর

