সন্দীপ প্রামাণিক: দক্ষিণ কলকাতার ঠাকুরপুকুর সরোজ গুপ্ত ক্যানসার হাসপাতাল, যা এক নামে ঠাকুরপুকুর ক্যানসার হাসপাতাল নামেই পরিচিত। রাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই ক্যানসার হাসপাতালে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত ছাড়াও ভিন রাজ্য এবং বাংলাদেশ থেকেও বহু রোগী চিকিৎসা করাতে আসেন মেডিক্যাল ভিসা নিয়ে।
সেই হাসপাতালের সামনেই দেখা গেল অমানবিক চিত্র। রাতের অন্ধকারে ফুটপাতে রাত কাটাতে হচ্ছে ক্যানসার আক্রান্ত রোগী ও তাঁদের পরিবারের লোকজনকে।
কী ঘটেছে?
স্থানীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, হাসপাতাল চত্বরে রোগীর পরিবারের লোকজনকে থাকতে গেলে প্রায় চার হাজার টাকা দিতে হয়। তাই বহু দরিদ্র রোগী হাসপাতালের সামনে থাকা বেসরকারি গেস্ট হাউসগুলিতে আড়াইশো-তিনশো টাকার বিনিময়ে ঘর ভাড়া নিয়ে থাকেন। অভিযোগ, সকালে হরিদেবপুর থানার পুলিস এসে কাগজপত্রে ত্রুটি থাকার অভিযোগে ওই গেস্ট হাউসগুলি খালি করিয়ে দেয়। গেস্ট হাউসের ভিতরে থাকা রোগী এবং রোগীর পরিজনদের বাইরে বের করে দেওয়া হয়।
হাসপাতালে ঢুকে চিকিত্সকদের বেধড়ক মার, শ্লীলতাহানি! ABVP-র বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগে তোলপাড়
পুলিসের বক্তব্য, গেস্ট হাউস চালানোর জন্য যে সমস্ত সরকারি নিয়মকানুন মানা প্রয়োজন, তা মানা হয়নি। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, গেস্ট হাউস কর্তৃপক্ষের গাফিলতি থাকলে আইনত ব্যবস্থা নেওয়া যেত, কিন্তু মুমূর্ষু রোগীদের এভাবে রাতের অন্ধকারে ফুটপাতে বের করে দেওয়া কতটা মানবিক?
চরম দুর্ভোগে রোগীরা:
এই ঘটনায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন দূর থেকে আসা রোগীরা। সিউড়ি থেকে আসা এক রোগী, যাঁর নাকে রাইলস টিউব লাগানো এবং চোয়ালে ক্যানসারের অপারেশন হয়েছে, তাঁকেও বৃষ্টির মধ্যে ফুটপাতে থাকতে হচ্ছে। চিকিৎসকদের মতে, এই অবস্থায় যে কোনও সময় সংক্রমণ ছড়িয়ে বড় ক্ষতি হতে পারে।
বাড়ি বাড়ি নজরদারি! ৪৮ ঘণ্টার বেশি জ্বর থাকলেই... মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পরেই ডেঙ্গি নিধন যজ্ঞ
অন্যদিকে, বাংলাদেশ থেকে বায়োপসি করাতে আসা পেটে টিউমার আক্রান্ত এক রোগী বাস স্টপেজের মধ্যে আশ্রয় নিয়েছেন। মহিলা-পুরুষ নির্বিশেষে সকলেই ফুটপাতে রাত কাটাচ্ছেন, নেই শৌচাগারের ব্যবস্থাও। এই দৃশ্য দেখে হতবাক এলাকার মানুষজন। পুলিসের ভূমিকা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

