বরুণ সেনগুপ্ত: প্রকাশ্য দিনেদুপুরে হাড়হিম কাণ্ড। জনবহুল রাস্তায় স্ত্রীকে নির্বিকারে কুপিয়ে খুন দিল স্বামী। এরপর নিজের গলায় ছুরি চালিয়ে সেও আত্মহত্যার চেষ্টা চালায়। বুধবার সকাল আনুমানিক ১০টা নাগাদ সোদপুর স্কুল রোড এলাকায় এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে। নিহত গৃহবধূর নাম গীতা দাস।
তিনি সোদপুরের বাসিন্দা ছিলেন। অভিযুক্ত স্বামীর নাম সুভাষ দাস। তাঁর বাড়ি দক্ষিণ ২৪ পরগনায়। হামলার পর দু'জনকেই রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এরপর তাঁদের কামারহাটির সাগর দত্ত মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা গীতা দাসকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। অভিযুক্ত সুভাষ দাস বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছে।
'বিয়ের পর ওর নোংরামি দেখেছি, অনেক অত্যাচার সহ্য করেছি'! এবার মুখ খুললেন নিহত প্রভাসের স্ত্রী
স্থানীয় ও পুলিস সূত্রে খবর, প্রায় পাঁচ বছর আগে ভালোবেসে বিয়ে হয়েছিল সোদপুরের গীতা দাস ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার সুভাষ দাসের। তবে বিয়ের কিছু দিন পরেই এক নির্মম সত্যি জানতে পারেন গীতা। তিনি জানতে পারেন, দেশের বাড়িতে সুভাষের আরেকটি বউ রয়েছে। এই প্রতারণার কথা প্রকাশ্যে আসতেই তাঁদের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। ফলে তাঁদের মধ্যে ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। এরপর থেকে গীতা দাস সোদপুরে তাঁর বাপের বাড়িতেই থাকতে শুরু করেন।
তবে বিচ্ছেদের পরেও সুভাষ তাঁকে ছাড়েনি। অভিযোগ, বেশ কিছু দিন ধরেই সুভাষ তাঁকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছিল। এমনকি গীতা কখন কোথায় যাচ্ছেন, সেদিকেও সে কড়া নজর রাখছিল। বুধবার সকালে বাড়ি থেকে বেরিয়ে সোদপুর স্টেশনের দিকে যাচ্ছিলেন গীতা। ঠিক সেই সময় সোদপুর স্কুল রোডের ওপর আচমকা ধারালো ছুরি নিয়ে তাঁর ওপর হামলা চালায় সুভাষ।
'দাদা বলেছিল শুধু আমার কাজ দেখে যাও...'! প্রভাস এনকাউন্টারে কী বলছেন নির্যাতিতার বাবা
সে গীতাকে নির্মমভাবে ধারালো ছুরি দিয়ে আঘাত করতে থাকে। এতে ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন তরুণী। এর পরপরই সুভাষ নিজের গলায় ছুরি চালিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। চিৎকার শুনে এলাকার বাসিন্দারা ছুটে আসেন। তাঁরা দু'জনকেই উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। হাসপাতালে গীতাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় সুবাস। পুলিস ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

