জি ২৪ ঘন্টা ডিজিটাল ব্যুরো: হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর নিখোঁজ ভারতীয় ক্যাপ্টেন আশিস কুমার জীবিত রয়েছেন এবং তাঁকে অন্য দেশে বন্দী করে রাখা হয়েছে-- এমন চাঞ্চল্যকর দাবি তুলে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন তাঁর স্ত্রী অংশু কুমারী। 'হেবিয়াস কর্পাস' (Habeas Corpus) রিট পিটিশন দায়ের করে তিনি ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে কূটনৈতিক, কনস্যুলার ও গোয়েন্দা চ্যানেল ব্যবহার করে নিখোঁজ ক্যাপ্টেনকে দ্রুত খুঁজে বের করার নির্দেশ দেওয়ার আর্জি জানিয়েছেন।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
চলতি বছরের ১ মার্চ ওমানের খাসাব বন্দরের কাছে নোঙর করা 'এমটি স্কাইলাইট' (M.T. Skylight) নামে একটি তেলের ট্যাঙ্কারে ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলা চালানো হয়। জাহাজে থাকা ২০ জন সেনানির মধ্যে ১৮ জনকে উদ্ধার করা গেলেও, বিহারের পশ্চিম চম্পারণের বেতিয়ার বাসিন্দা ৩৭ বছর বয়সী ক্যাপ্টেন আশিস কুমার এবং আরও এক ভারতীয় নাবিক নিখোঁজ হন।
হামলার পর ক্যাপ্টেনের কেবিন থেকে ওমানের উপকূলরক্ষী বাহিনী কিছু পোড়া হাড়গোড় উদ্ধার করে। প্রাথমিকভাবে মনে করা হয়েছিল যে সেই অবশিষ্টাংশ ক্যাপ্টেন আশিস কুমারেরই। তবে ওমান পুলিস ও তদন্তকারী সংস্থা যখন ওই হাড়ের সঙ্গে আশিসের ছোট ভাইয়ের ডিএনএ (DNA) নমুনা মেলায়, তখন দেখা যায় ডিএনএ মোটেও মিলছে না। চলতি বছরের ১৫ মে মাস্কাটে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস আশিসের পরিবারকে নিশ্চিতভাবে জানায় যে উদ্ধার হওয়া হাড়গোড় ক্যাপ্টেনের নয়। এটিই প্রমাণ করে যে তিনি ওই হামলায় মারা যাননি।
ইলেকট্রনিক প্রমাণ ও মুক্তিপণের ফোন
সুপ্রিম কোর্টে পেশ করা পিটিশনে আশিসের স্ত্রী বেশ কিছু জোরালো ডিজিটাল তথ্য-প্রমাণ তুলে ধরেছেন:
হোয়াটসঅ্যাপ ডেলিভারি: হামলার ঘটনার ৩ ঘণ্টারও বেশি সময় পর ক্যাপ্টেনের দ্বিতীয় মোবাইল নম্বরে স্ত্রীর পাঠানো মেসেজ সফলভাবে 'ডেলিভার্ড' হয়েছিল, যা নির্দেশ করে যে মোবাইলটি সচল ছিল।
মুক্তিপণের দাবি: ৪ মার্চ পরিবারের কাছে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ নম্বর থেকে ফোন করে ২০ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয় এবং জানানো হয় যে ক্যাপ্টেন তাঁদের হেফাজতে জীবিত আছেন।
অ্যাকাউন্ট ডিলিট হওয়া: ৩১ মার্চ (হামলার ঠিক ৩০ দিন পর) ক্যাপ্টেনের আইফোনের হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টটি ম্যানুয়ালি মুছে দেওয়া হয়। নিয়ম অনুযায়ী ১২০ দিন নিষ্ক্রিয় থাকলে অ্যাকাউন্ট আপনাআপনি মোছে, কিন্তু মাত্র ৩০ দিনের মাথায় অ্যাকাউন্ট ডিলিট হওয়া প্রমাণ করে যে ফোনটি কারও নিয়ন্ত্রণে ছিল।
সুপ্রিম কোর্টে আবেদন
নিখোঁজ নাবিকের স্ত্রী অভিযোগে জানান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক, মাস্কাটের ভারতীয় দূতাবাস ও শিপিং ডিরেক্টরেট জেনারেলকে বারবার ইমেইল ও আইনি নোটিশ পাঠানো সত্ত্বেও কোনও কার্যকর সীমান্ত-পারের তদন্ত শুরু হয়নি। এটি সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদে বর্ণিত জীবন ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার মৌলিক অধিকারের সরাসরি লঙ্ঘন।
পিটিশনে সুপ্রিম কোর্টের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে, যেন কেন্দ্র সরকারকে ওমান এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষের সাথে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক আলোচনা শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি জাহাজের 'ভয়েস ডাটা রেকর্ডার' (VDR), কমিউনিকেশন লগ এবং মোবাইলের IMEI ট্র্যাকিং সংক্রান্ত সমস্ত নথি সংরক্ষণের দাবিও জানানো হয়েছে।
ইন্ডিয়া জোটের জন্য মঙ্গলে ভয়ানক অমঙ্গল: বাঁকিপুরে বাজি জিতে একা থাকার পণ পিকের

