প্রদ্যুত দাস: ফেসবুকের প্রেম বদলে দিল দুটি পরিবারের সমীকরণ। আর সেই পরকীয়ার জের ধরে তৈরি হওয়া জটিলতার এমন এক অদ্ভুত পরিণতি হল, যা দেখে রীতিমতো হতবাক উত্তরবঙ্গ। একে অপরের জীবনসঙ্গী 'অদলবদল' করে ছাদনাতলায় বসার এই নজিরবিহীন ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে জলপাইগুড়ি জেলার ময়নাগুড়ি ব্লকে।
ঘটনার সূত্রপাত বেশ কয়েক বছর আগে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আলিপুরদুয়ারের ফালাকাটা ফুলবাড়ি এলাকার এক ব্যক্তির সঙ্গে ময়নাগুড়ি ব্লকের ধর্মপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের জোড়পাকড়ি বসাকপাড়ার এক গৃহবধূর ফেসবুকে আলাপ হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই আলাপ রূপ নেয় গভীর প্রেমে। প্রায় দেড় মাস আগে তাঁরা দুজনেই নিজেদের পরিবার ছেড়ে একসঙ্গে পালিয়ে যান।
স্ত্রী নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই ময়নাগুড়ির ওই গৃহবধূর পরিবার খোঁজখবর শুরু করে। তদন্ত করতে গিয়ে তাঁরা জানতে পারেন, ফালাকাটার ওই ব্যক্তির সঙ্গেই ঘর ছেড়েছেন তিনি। ঠিক একই সময়ে ফালাকাটার ওই ব্যক্তির স্ত্রীও জানতে পারেন যে তাঁর স্বামী ময়নাগুড়ির এক গৃহবধূকে নিয়ে পালিয়েছেন। এরপরই শুরু হয় আসল টুইস্ট। খোঁজখবর নেওয়ার সূত্রে ফালাকাটার ওই ব্যক্তির স্ত্রী এবং ময়নাগুড়ির ওই প্রতারিত স্বামীর মধ্যে যোগাযোগ তৈরি হয়। নিজেদের দুঃখ ভাগ করে নিতে নিতেই ধীরে ধীরে তাঁদের দুজনের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে।
হারানো সঙ্গীর শোকে ভেঙে না পড়ে, একে অপরের হাত ধরে নতুন করে জীবন শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা। যেমন ভাবা, তেমন কাজ। গত মঙ্গলবার ফালাকাটা ফুলবাড়ির ওই মহিলা ময়নাগুড়ির ধর্মপুর এলাকায় এসে পৌঁছান। এরপর বুধবার জোড়পাকড়ি কালীবাড়িতে ধুমধাম করে, সামাজিক ও ধর্মীয় রীতিনীতি মেনে তাঁদের চার হাত এক হয়।
এই অদ্ভুত বিয়ের খবর চড়চড়িয়ে করে ছড়িয়ে পড়েছে গোটা এলাকায়। রসিক স্থানীয়দের একাংশের মতে, 'রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের কথা তো শুনেছিলাম, কিন্তু দাম্পত্য জীবনেও যে এভাবে পালাবদল (স্বামী-স্ত্রী অদলবদল) ঘটে যাবে, তা ভাবিনি!' তবে এই পুরো ঘটনায় কোনও পরিবারের পক্ষ থেকেই এখনও পর্যন্ত থানায় আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে কি না, তা জানা যায়নি। তবে আইনি জটিলতা যাই থাক না কেন, এই 'বদল'-এর বিয়ে এখন নেটপাড়ায় এবং চায়ের দোকানে সুপারহিট চর্চার বিষয়।

