Dailyhunt Logo
  • Light mode
    Follow system
    Dark mode
    • Play Story
    • App Story
ইরান-আমেরিকা শান্তিচুক্তি হলে ভারতের বিশাল কী কী উপকার হবে, জানেন? কীভাবে বদলে যাবে বিশ্ববাণিজ্যের চেহারা?

ইরান-আমেরিকা শান্তিচুক্তি হলে ভারতের বিশাল কী কী উপকার হবে, জানেন? কীভাবে বদলে যাবে বিশ্ববাণিজ্যের চেহারা?

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে তা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিকেই বদলে দেবে। এ কথা তো সবাই জানে। কিন্তু সেরকম একটি চুক্তি কেবল মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিকেই বদলে দেবে না, তা বরং বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে একটি ইতিবাচক পরিবর্তনও আনবে।

এবং যার সঙ্গে জড়িয়ে যাবে ভারতের ভাগ্য। কী ভাবে? কী কী ঘটবে? বিশ্ব বাজারে তেলের দাম কমতে পারে। তেলের সরবরাহও বাড়বে। আমদানি রফতানিতে পরিবহণ খরচ কমবে। ঘটবে এরকম আরও অনেক কিছু।

সি-বিচ তখন লোকারণ্য, আচমকাই ধেয়ে এল মারণ ড্রোন! শিশু-সহ একের পর এক মৃত্যু, আহত বহু

ইরান-মার্কিন শান্তি চুক্তি

বিশ্ব তেল বাজার, সামুদ্রিক বাণিজ্য এবং ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তার সম্ভাবনা ও বার্তা কী? মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ঝুঁকিপূর্ণ উপাদান। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সফল শান্তি চুক্তি সম্পন্ন হলে তা বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল এবং জ্বালানি খাতের উপর সুদূরপ্রসারী ও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

বিশ্ববাজারে তেলের দাম

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বা সংঘাতের উত্তেজনার কারণে অপরিশোধিত তেলের মূল্যে অতিরিক্ত ৫ ডলার থেকে ১০ ডলার 'জিওপলিটিক্যাল রিস্ক প্রিমিয়াম' যুক্ত থাকে। শান্তি চুক্তি হলে এই অতিরিক্ত দাম এক ধাক্কায় কমে আসবে। ইরানের উপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল হলে বিশ্ববাজারে প্রতিদিন অতিরিক্ত আনুমানিক ১৫ থেকে ২০ লাখ ব্যারেল ইরানি অপরিশোধিত তেল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রবেশ করবে, যা তেলের সরবরাহ বাড়াবে এবং তেলের দামকে একটি যথাযথ মাত্রায় স্থিতিশীল রাখবে।

বিশ্ববাণিজ্য ও প্রণালী নিরাপত্তা

বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় ২০% হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) দিয়ে পরিবাহিত হয়। মার্কিন-ইরান বৈর কমলে এই গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথটিতে তেল ট্যাঙ্কার ও বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত হবে। নিরাপত্তা ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে জাহাজের বিমা প্রিমিয়াম (War Risk Insurance) মারাত্মক বেড়ে যায়। পথটি সুরক্ষিত হলে ফ্রেইট চার্জ বা সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহণের খরচ কমে আসবে, যা বিশ্ববাণিজ্যকে আরও সাশ্রয়ী করবে।

ভারতের অর্থনীতি ও জ্বালানি-নিরাপত্তা

ভারত তার প্রয়োজনীয় তেলের ৮৫% এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ৫০% আমদানি করে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১ ডলার কমলে ভারতের বার্ষিক তেল আমদানি বিলে প্রায় ১০০০০ কোটি টাকার সাশ্রয় হয়। তেলের দাম কমলে ভারতে পরিবহণ খরচ কমবে এবং পাইকারি ও খুচরা মূল্যস্ফীতি (Inflation) নিয়ন্ত্রণে আসবে।

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ রক্ষা

অতীতে নিষেধাজ্ঞা আরোপের আগে ইরান ভারতের অন্যতম প্রধান তেল সরবরাহকারী ছিল। তেলের দাম কম হওয়ার পাশাপাশি ভৌগোলিক দূরত্বের কারণে ইরান থেকে ভারতে তেল আনার খরচ অত্যন্ত কম। তাছাড়া, ভারতের জন্য ইরান থেকে রুপি-রিয়াল বিনিময় ব্যবস্থায় (Rupee-Rial Trade Mechanism) সুবিধাজনক শর্তে তেল কেনার সুযোগ ফের তৈরি হতে পারে, যা ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ রক্ষা করবে।

বাণিজ্যের পথ উন্মুক্ত

শান্তি চুক্তির ফলে ইরানের উপর থেকে মার্কিন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা উঠলে ভারতের অর্থসাহায্যে তৈরি ইরানের চাবাহার বন্দর (Chabahar Port) তার পরিপূর্ণ রূপ পাবে। এর মাধ্যমে পাকিস্তান অতিক্রম না করেই ভারত সরাসরি আফগানিস্তান, মধ্য এশিয়া ও ইউরোপের সঙ্গে বাণিজ্যের পথ উন্মুক্ত করতে পারবে।

শান্তিচুক্তি হলেই নিশ্চিত?

আমেরিকা ইরান শান্তি চুক্তি হলেই শতভাগ স্থিতিশীলতা চলে আসবে-- এমনটি অবশ্য না-ও ঘটতে পারে। লোহিত সাগরে হুথি বিদ্রোহী কিংবা এই অঞ্চলের অন্যান্য প্রক্সি গোষ্ঠীগুলির অস্থিরতা বা অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অচলাবস্থা যেকোনো সময় চুক্তির বাস্তবায়নে বাধা তৈরি করতে পারে। তবে ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সমঝোতা বিশ্বঅর্থনীতির জন্য একটি স্বস্তির বার্তা নিয়ে আসতে পারে। যা বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি কমিয়ে ভারতের মতো উদীয়মান অর্থনৈতিক শক্তির জ্বালানিভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করবে।

Dailyhunt
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Dailyhunt. Publisher: Zee News Bengali