জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: বাথরুমের জল থেকে মারাত্মক দুর্গন্ধ বের হচ্ছিল। আচমকা জলের এরকম গন্ধে চমকে উঠেছিলেন রমেশের পরিবারের সবাই। মনে হচ্ছিল জলের মধ্যে মিশেছে পচা কিছু। তার পরেই রমেশ ছেলেকে নিয়ে ছাদে জলের ট্যাঙ্ক খুলে পরীক্ষা করতে যান। আর ঢাকনা খুলতেই তাদের চোখ কপালে। ট্যাঙ্কের জলে ভাসছে পলিথিনে মোড়া মহিলার দেহাংশ।
সঙ্গে সঙ্গে তিনি খবর দেন পুলিস। আর সেখান থেকেই পর্দাফাঁস হল এক খুনের ঘটনার।
ঘটনাটি ঘটেছে তামিলনাড়ুর সালেমের গুনাবালান জেলায়। ওই ঘটনায় ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিস। যে ছাদের ট্যাঙ্ক থেকে মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে তার পাশের বাড়ির ছাদের ট্যাঙ্ক থেকেও আরও দেহাংশ উদ্ধার হয়েছে। মোট সাত টুকরো করা হয় মহিলার দেহ।
কী হয়েছিল আসলে? প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে মৃত মহিলার বয়স ৩০-৩৫ এর মধ্যে। পুলিসের প্রাথমিক অনুমান, মহিলাকে খুন করার পর দেহ অন্য জায়গায় সরিয়ে ফেলতে পারেনি অভিযুক্ত। কারণ এলাকাটি খুবই জনবহুল। ফলে লাশ গায়েব করা তার পক্ষে প্রায় অসম্ভব হয়ে যায়। কোনও উপায় না দেখে সে মৃতদেহ টুকরো করে ফেলে ও তা ছাদের জলের ট্যাঙ্কে ভরে দেয়। মহিলার শরীরে কোনও গহনা নেই। ফলে সেইসব গহনার লোভেই অভিযুক্ত মহিলাকে খুন করেছে, এমনটাও হতে পারে বলে মনে করছে পুলিস। মহিলার পরিচয় জানার চেষ্টা করছে পুলিস।
পুলিস সূত্রে খবর, গুণবালন রামাস্বামী স্ট্রিটের বাসিন্দা পেশায় পুরোহিত রমেশ পরিবার নিয়ে দু'দিন কুম্ভকোণমে কাটানোর পর সোমবার বাড়ি ফেরেন। পরিবারের সদস্যরা গৃহস্থালির কাজে জলের কল খুললে দুর্গন্ধ বের হতে থাকে। এতে সন্দেহ হলে তাঁরা ছাদের দুটি জলের ট্যাঙ্ক পরীক্ষা করেন। ট্যাঙ্ক পরীক্ষা করতে গিয়ে রমেশ একটি ট্যাঙ্কের ভেতরে মানুষের পা ভরা একটি প্লাস্টিকের বস্তা দেখতে পান। আতঙ্কিত হয়ে অন্য ট্যাঙ্কটি পরীক্ষা করলে সেখানেও মানবদেহের অবশিষ্টাংশ ভর্তি একই ধরনের আরেকটি বস্তা পান। আতঙ্কিত হয়ে সঙ্গে সঙ্গে তিনি পুলিসকে খবর দেন।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদেরApp,Facebook,Whatsapp Channel,X (Twitter),Youtube,Instagramপেজ-চ্যানেল)

