জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ভারতের অন্যতম বৃহত্তম ও গুরুত্বপূর্ণ সর্বভারতীয় মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষা নিট-ইউজি (NEET-UG)-তে আমূল পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা করছে কেন্দ্রীয় সরকার। ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA)-র সংস্কার এবং পরীক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়া একটি হলফনামায় কেন্দ্র জানিয়েছে, ইঞ্জিনিয়ারিং প্রবেশিকা জেইই (JEE Main & Advanced)-এর মতো নিট পরীক্ষাও দুই ধাপে (Tier-1 ও Tier-2) আয়োজন করা এবং প্রচলিত 'পেন-অ্যান্ড-পেপার' (ওএমআর) মোড থেকে সরিয়ে 'কম্পিউটার ভিত্তিক পরীক্ষা' (CBT Mode)-য় রূপান্তরিত করার বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
১. সম্ভাব্য পরিবর্তনের রূপরেখা
সুপ্রিম কোর্টে পেশ করা সরকারের তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে নিচে উল্লেখিত বড় ধরনের বদলগুলো আসতে পারে:
দুই ধাপের পরীক্ষা কাঠামো: এতদিন নিট-ইউজি একটি একক ধাপের (Single-stage) পরীক্ষা হিসেবে পরিচালিত হয়ে আসছিল। তবে নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, জেইই-র মতো এটিকেও দুটি পর্যায়ে বিভক্ত করা হতে পারে। প্রথম ধাপে প্রাথমিক বাছাই (Screening) এবং দ্বিতীয় ধাপে মূল মেধা তালিকা তৈরির পরীক্ষা নেওয়া হতে পারে।
কম্পিউটার ভিত্তিক পরীক্ষা (CBT): কাগজ-কলম এবং ওএমআর সিটের প্রচলিত পদ্ধতির বদলে পরীক্ষাটি পুরোপুরি অনলাইনে বা কম্পিউটারের মাধ্যমে নেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে।
বহু-সেশন ও বহু-দিনের সূচি: একদিনে একযোগে ২২ লক্ষেরও বেশি শিক্ষার্থীর পরীক্ষা না নিয়ে একাধিক দিনে এবং কয়েকটি শিফটে পরীক্ষাটি আয়োজন করা হতে পারে।
২. কেন এই আমূল পরিবর্তনের ভাবনা?
গত কয়েক বছর ধরে নিট-ইউজি পরীক্ষা নিয়ে প্রশ্নপত্র ফাঁস, ওএমআর শিটে জালিয়াতি এবং বিভিন্ন দুর্নীতি ও অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ উঠে এসেছে। কেন্দ্র জানিয়েছে, এনটিএ-র অধীনে পরিচালিত আটটি বড় সর্বভারতীয় পরীক্ষার মধ্যে সাতটিই (যেমন: JEE Main, CUET, UGC-NET) সফলভাবে কম্পিউটার ভিত্তিক পদ্ধতিতে স্থানান্তরিত হয়েছে। কেবল নিট-ইউজি এখনও পুরনো পেপার-পেন পদ্ধতিতে রয়ে গেছে। ওএমআর এবং শারীরিক প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা বিধান কঠিন হওয়ায় 'পরীক্ষা মাফিয়া'দের দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে ও প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধ করতেই মূলত প্রযুক্তিভিত্তিক ডিজিটাল নিরাপত্তার শরণাপন্ন হতে চাইছে কেন্দ্র।
৩. চ্যালেঞ্জ ও মূল বিবেচ্য বিষয়সমূহ
কেন্দ্রীয় সরকার সুপ্রিম কোর্টকে স্পষ্ট জানিয়েছে যে, সিদ্ধান্ত গ্রহণের পূর্বে কয়েকটি বড় চ্যালেঞ্জ মূল্যায়ন করা হচ্ছে:
১. পরীক্ষার্থীর বিপুল সংখ্যা ও ভৌগোলিক বাস্তবতা: নিট পরীক্ষায় প্রতি বছর ২২ লক্ষেরও বেশি পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন, যাদের বড় একটি অংশ গ্রামীণ এলাকার এবং নারী শিক্ষার্থী। প্রত্যন্ত অঞ্চলে পর্যাপ্ত কম্পিউটার ও অনলাইন সেন্টার অবকাঠামো সরবরাহ করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
২. উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্সের পর্যবেক্ষণ: নন্দন নিলেকানির নেতৃত্বে গঠিত বিশেষ কমিটি ও বিশেষজ্ঞ দল প্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা, পরিকাঠামো এবং সর্বাত্মক সুযোগের সমতা (Equity) খতিয়ে দেখে চূড়ান্ত সুপারিশ প্রদান করবে।
৩. স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও এনএমসি-র অনুমোদন: ন্যাশনাল মেডিকেল কমিশন (NMC) এবং কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনার পরই আইন মেনে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সরকার আশ্বাস দিয়েছে যে, যেকোনো নতুন নিয়ম বা পরীক্ষার কাঠামো পরিবর্তনের আগে শিক্ষার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত সময় দিয়ে আগাম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে, যাতে তাদের প্রস্তুতিতে কোনো ক্ষতিকর প্রভাব না পড়ে। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে তা ভারতের চিকিৎসা শিক্ষা ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক যুগান্তকারী পরিবর্তন এনে দেবে।

