প্রদ্যুৎ দাস: একজন চারবারের হেভিওয়েট তৃণমূল বিধায়ক, তবে প্রাক্তন। আরেকজন নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক। বর্তমান পৌঁছে গেলেন প্রাক্তনের বাড়িতে। আর তাই ঘিরেই শোরগোল জেলা রাজনীতিতে। নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক থেকে প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক, দুজনেই বলছেন সৌজন্যের সাক্ষাৎ। কিন্তু সেই সৌজন্যের সাক্ষাৎ ঘিরেই জেলা রাজনীতিতে এখন জল্পনা তুঙ্গে।
জলপাইগুড়ি জেলার রাজগঞ্জের তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক খগেশ্বর রায়ের সঙ্গে দেখা করতে তাঁর বাড়িতে পৌঁছলেন নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক দীনেশ সরকার। আর তাই নিয়ে জোর জল্পনা এখন জেলা রাজনীতিতে। শুধুই কি সৌজন্য সাক্ষাৎ নাকি এই সাক্ষাতের পিছনে লুকিয়ে রয়েছে জেলা রাজনীতিতে ভবিষ্যতের সমীকরণ বদলের ইঙ্গিত? সেই প্রশ্নই ঘুরছে মুখে মুখে।
অসুস্থ প্রাক্তন বিধায়ক খগেশ্বর রায়। তাঁকে দেখতে পৌঁছে যান রাজগঞ্জের নবনির্বাচিত বিধায়ক দীনেশ সরকার। চারবারের প্রাক্তন বিধায়ক খগেশ্বর রায়ের অসুস্থতার খবর পেয়ে তাঁর সঙ্গে 'সৌজন্যমূলক সাক্ষাৎ' করতে তাঁর বাড়িতে যান রাজগঞ্জের নবনির্বাচিত বিধায়ক দীনেশ সরকার। রাজগঞ্জে খগেশ্বর রায়ের বাড়িতে গিয়ে তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন তিনি। এমনটাই দাবি প্রাক্তন বিধায়ক খগেশ্বর রায় ও নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক দীনেশ সরকারের।
জানা গিয়েছে, এদিন দীর্ঘক্ষণ ধরে দু'জনের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। খগেশ্বর রায়ের শারীরিক সমস্যার বিষয়ে খোঁজ নেওয়ার পাশাপাশি রাজগঞ্জের উন্নয়ন নিয়েও কথা হয়। দীনেশ সরকারের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিজেপি নেতা তপন রায় ও মাধবী রায়। এই বিষয়ে প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক খগেশ্বর রায় বলেন, "দীনেশ সরকার আমার দীর্ঘদিনের পরিচিত। সৌজন্যমূলক সাক্ষাৎ করতে এসেছিলেন। রাজগঞ্জে আরও কী কী উন্নয়নের প্রয়োজন রয়েছে, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।"
অন্যদিকে, রাজগঞ্জের বিজেপি বিধায়ক দীনেশ সরকার বলেন, "চারবারের বিধায়ক খগেশ্বর রায়ের অসুস্থতার খবর পেয়ে তাঁকে দেখতে এসেছিলাম। কথা হয়েছে। পরামর্শ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও রাজগঞ্জের উন্নয়নের স্বার্থে তাঁর পরামর্শ নেওয়া হবে।" সবমিলিয়ে জেলায় এখন জোর জল্পনা! চারদিকে যখন তৃণমূলে বিদ্রোহ, দিকে দিকে তাসের ঘরের মতো ভাঙছে তৃণমূল, তখন এই সাক্ষাৎ কি শুধুই সৌজন্য নাকি সমীকরণ বদলের সূত্রপাত?

