অর্ণবাংশু নিয়োগী: আলিপুরে খুনের চেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা ও প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকে রক্ষাকবচ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। আদালতের নির্দেশ, তাঁর বিরুদ্ধে পরবর্তী কোনও পদক্ষেপ নিতে গেলে পুলিসকে আগে আদালতের অনুমতি নিতে হবে। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য এই অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিয়েছেন।
আগামী ২৩ জুলাই এই মামলার পরবর্তী শুনানি।
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, আলিপুর থানা এলাকায় একটি খুনের চেষ্টার মামলায় নাম জড়ায় অরূপ বিশ্বাসের। এই মামলায় আইনি হেনস্থার হাত থেকে বাঁচতে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন তিনি।
অরূপের অভিযোগ শুনে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের প্রশ্ন, হাই কোর্ট তাঁকে রক্ষাকবচ দিয়েছে। আবার তাড়াতাড়ি শুনানির কী আছে? তখন প্রাক্তন মন্ত্রীর আইনজীবী কিশোর দত্ত আদালতে জানান, এটি আলাদা ঘটনা। তাঁর মক্কেলকে খুনের চেষ্টা হচ্ছে।
মঙ্গলবার হাই কোর্টে বিস্ফোরক অভিযোগ করেন অরূপ বিশ্বাসের। তাঁকে খুনের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী। অরূপের অভিযোগ, হাইকোর্টের নির্দেশ মতো তিনি বিধাননগর পুলিসে হাজিরা দিয়ে ফিরছিলেন। সেই সময় তাঁকে অনেক সাংবাদমাধ্যম ধাওয়া করে। আলিপুর আদালতে পৌঁছতেই তাঁকে হেনস্থা করা হয়। খুনের চেষ্টাও করা হয় বলে দাবি প্রাক্তন মন্ত্রীর।
শুনানির সময় অরূপ বিশ্বাসের আইনজীবী তথা রাজ্যের প্রাক্তন অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত পুলিসের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, আইন-শৃঙ্খলার অবনতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে পুলিসের সামনেই ধৃতদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে।
আদালতে সওয়াল করার সময় আইনজীবী কিশোর দত্ত বলেন, 'পুলিসের উপস্থিতিতেই অভিযুক্তদের দিকে ডিম ছোঁড়া হচ্ছে, মারধর করা হচ্ছে। যারা ইতোমধ্যেই গ্রেফতার হয়ে পুলিস হেফাজতে রয়েছে, তাদের ওপর এভাবে কেন আক্রমণ হবে?' তিনি পুলিসের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং ধৃতদের নিরাপত্তার অভাবের বিষয়টি আদালতের নজরে আনেন।
মামলার শুনানির সময় ধৃতদের কোমরে দড়ি বেঁধে হাঁটিয়ে নিয়ে যাওয়ার (প্যারেড করানো) প্রসঙ্গটিও উঠে আসে। এই বিষয়ে কড়া মনোভাব প্রকাশ করেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। তিনি স্পষ্ট ভাষায় মন্তব্য করেন, 'কোমরে দড়ি পরিয়ে এভাবে প্যারেডিং করানো অবিলম্বে বন্ধ হওয়া উচিত।' বিচারাধীন বা গ্রেফতার হওয়া কোনও ব্যক্তির মানবিক অধিকার যে এভাবে খর্ব করা যায় না, বিচারপতির পর্যবেক্ষণে তা পরিষ্কার হয়ে যায়।
একই সঙ্গে, ঘটনার দিন ঠিক কী ঘটেছিল তা খতিয়ে দেখতে আদালত সিসিটিভি ফুটেজের ওপর জোর দিয়েছে। বিচারপতি তদন্তকারী অফিসারকে নির্দেশ দিয়েছেন, ওই নির্দিষ্ট দিনের সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ যেন অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গেই সংরক্ষণ করে রাখা হয়। কোনওভাবেই যেন সেই প্রমাণ নষ্ট না হয়।
আপাতত হাইকোর্টের এই নির্দেশের ফলে ২৩ জুলাই পর্যন্ত স্বস্তিতে রইলেন অরুপ বিশ্বাস। আদালতের অনুমতি ছাড়া পুলিস তাঁর বিরুদ্ধে কোনও কঠোর পদক্ষেপ বা গ্রেফতারি করতে পারবে না। আগামী শুনানিতে সিসিটিভি ফুটেজ এবং পুলিসের রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে আদালত এই মামলার পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।
মেসি-কাণ্ডে তিন বার হাজিরা এড়ানোর পর আদালতের নির্দেশে মঙ্গলবার সকালে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় হাজিরা দেন অরুপ। তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর করেছিলেন আয়োজক শতদ্রু দত্ত। এর আগে গত ১৮ এবং ২২ জুন পুলিসের তলবে হাজিরা দিয়েছিলেন অরুপ।
উল্লেখ্য, মেসি-কাণ্ডে আগামী ১৭ অগস্ট পর্যন্ত আদালত থেকে রক্ষাকবচ পেয়েছেন অরূপ। হাই কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে প্রাক্তন মন্ত্রীকে। ওই সময়ের মধ্যে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করা যাবে না। যদি নোটিসে সাড়া না দেন তবে বিষয়টি আদালতের নজরে আনতে পারবে পুলিস। আদালতের অনুমতি ছাড়া অরুপ এলাকার বাইরে যেতে পারবেন না বলেও নির্দেশ দেয় হাই কোর্ট।

