Dailyhunt Logo
  • Light mode
    Follow system
    Dark mode
    • Play Story
    • App Story
Kolkata Storm Updates: কালবৈশাখীর তাণ্ডবে রাজ্যে মৃত সাত, ৪ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর

Kolkata Storm Updates: কালবৈশাখীর তাণ্ডবে রাজ্যে মৃত সাত, ৪ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: শুক্রবার দুপুরের কালবৈশাখী ও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়-বৃষ্টির জেরে কলকাতা-সহ গোটা রাজ্যে মোট ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই আকস্মিক দুর্যোগে মৃতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে আর্থিক সাহায্যের কথা ঘোষণা করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, কালবৈশাখীর তাণ্ডবে মৃতদের পরিবারকে ৪ লক্ষ টাকা করে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।

এদিকে, দুপুরের সেই বিধ্বংসী ঝড়ের পর রাত পর্যন্ত কলকাতা ও সংলগ্ন জেলাগুলিতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার কাজ চলছে। বিভিন্ন রাস্তায় উপড়ে পড়া বিশালাকার গাছ যুদ্ধকালীন তৎপরতায় সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়া চালাচ্ছে কলকাতা পুলিশ এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (DMRF)।

প্রসঙ্গত, শুক্রবার ভরদুপুরে আচমকাই ঘন কালো মেঘে ঢেকে যায় কলকাতা এবং পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলি। ঘড়িতে তখন দুপুর পৌনে তিনটে, কিন্তু আকাশ দেখে মনে হচ্ছিল যেন মাঝরাত নেমে এসেছে তিলোত্তমায়। এর পরেই শুরু হয় প্রবল বজ্রপাত এবং এলোপাহাড়ি ঝড়-বৃষ্টি।

আলিপুর আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, কলকাতার আলিপুর অঞ্চল এবং দমদমে এই ঝড়ের মাত্রা সবথেকে বেশি টের পাওয়া গিয়েছে। আলিপুরে ঝড়ের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৮৮ কিলোমিটার এবং দমদমে ঝড়ের সর্বোচ্চ গতি রেকর্ড করা হয়েছে ঘণ্টায় ৭৪ কিলোমিটার।

শুক্রবারের এই দুর্যোগের জেরে কার্যত স্তব্ধ হয়ে পড়েছিল কলকাতার লাইফলাইনগুলি। প্রবল ঝড়-বৃষ্টির কারণে কলকাতা বিমানবন্দরে প্রায় ১ ঘণ্টার কাছাকাছি বিমান ওঠানামা সম্পূর্ণ ব্যাহত হয়। একইভাবে শিয়ালদহ মেন লাইন এবং বনগাঁ শাখায় ওভারহেড তার ও রেললাইনের ওপর গাছ ভেঙে পড়ায় প্রায় ৪০ মিনিটেরও বেশি সময় ধরে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকে। পরে গাছ সরিয়ে ডাউন ও আপ লাইনে ট্রেন চলাচল শুরু হলেও বহু ট্রেনই নির্ধারিত সময়ের থেকে অনেক দেরিতে চলে, বাতিলও করতে হয় বেশ কিছু লোকাল ট্রেন। অন্যদিকে, কলকাতা মেট্রো রেল পরিষেবা সামগ্রিকভাবে স্বাভাবিক থাকলেও কবি ক্ষুদিরাম মেট্রো স্টেশনের শেডের একটি অংশ ঝড়ের দাপটে ভেঙে পড়ে।

ঝড়ের তাণ্ডবে শহরের বিভিন্ন অংশে বহু প্রাচীন গাছ উপড়ে পড়েছে। এস এন ব্যানার্জি রোড এবং প্রিন্সেপ ঘাট চত্বরে গাছ পড়ে দীর্ঘক্ষণ যান চলাচল ব্যাহত হয়। এই প্রিন্সেপ ঘাট অঞ্চলেই ঝড়ের সময় গাছের ভারী ডাল ভেঙে মাথায় পড়ে এক ব্যক্তির মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

অন্যদিকে, সল্টলেকের পরিস্থিতি ছিল আরও মারাত্মক। সেখানে একটি বিশালাকার গাছ ভেঙে পড়ে এক অ্যাপ-বাইক চালক এবং তাঁর বাইকে থাকা আরোহী গুরুতর আহত হন। স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। ঝড়ের দাপটে সল্টলেকে একটি চারচাকা গাড়িও দুমড়ে-মুচড়ে গিয়েছে।

'রাখা-খাওয়ানোর দায়িত্ব খুব বেশিদিন আমরা বহন করব না, তারপরই...', বিস্ফোরক দিলীপ

উল্লেখ্য, বর্ষা আসার আগেই পাহাড়ে যাতে এই ধরণের প্রাকৃতিক দুর্যোগ কড়া হাতে মোকাবিলা করা যায়, তার জন্য ইতিমধ্যেই প্রশাসনিক প্রস্তুতিতে জোর দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পাহাড়ে দুর্যোগ মোকাবিলার রূপরেখা ঠিক করতে বিমল গুরুংদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকও করেছেন তিনি। সেই বৈঠকের পরিপ্রক্ষিতেই রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন শুরু হয়েছে। পাহাড়ের এই প্রশাসনিক তৎপরতার মাঝেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পাহাড়ের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে লক্ষ্য করে 'কার্নিভাল' খোঁচা দিতেও ছাড়েননি।

আপাতত নবান্ন ও বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের কন্ট্রোল রুম থেকে গোটা রাজ্যের পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় রাস্তাঘাট পরিষ্কারের কাজ চললেও, শনিবারও ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় রাজ্যবাসীকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

Dailyhunt
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Dailyhunt. Publisher: Zee News Bengali