প্রবীর চক্রবর্তী: তৃণমূল কি ভেঙে যাচ্ছে? তৃণমূলের রাশ চলে যাচ্ছে বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে? গত দু'দিন ধরে রাজ্য রাজনীতি উত্তাল বিধানসভার সই জাল বিতর্ক নিয়ে। কে অভিযোগ জানিয়েছিল মুখ্যমন্ত্রীকে? কেন CID এসেছিল নয়না, কুণালদের বাড়িতে স্বাক্ষর মেলাতে? সেই প্রশ্নের নিরসন হল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সাংবাদিক বৈঠকে।
আর ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্য়ায় এবং সন্দীপন সাহা দুই তৃণমূল বিধায়কের নাম সামনে আসতেই তৃণমূল মুহূর্তে বহিষ্কার করল দুই বিধায়ককে। বিধায়ক হিসেবে শপথ নেওয়ার ১ মাসও হয়নি, আর তার আগেই বহিষ্কারের এমন দৃষ্টান্ত বোধহয় রাজনীতিতে সত্যিই বিরল। তাই বিরোধী দলনেতা নির্বাচন নিয়ে তৃণমূল বড় সিদ্ধান্ত নিল।
বিধানসভার বিরোধী দলনেতা নির্বাচন নিয়ে এবার আগেভাগেই চাল চেলে রাখল শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। পরিষদীয় আইন মেনে বিধানসভার অধ্যক্ষকে (স্পিকার) একটি চিঠি দিল তারা। তৃণমূলের দাবি, সংশ্লিষ্ট আইনে পরিষ্কার উল্লেখ রয়েছে যে, বিধানসভায় কে বিরোধী দলের নেতা হবেন-- সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের দেওয়া চিঠিই শেষ কথা। সেখানে আলাদা করে বিধায়কদের সই বা স্বাক্ষরের কোনও প্রয়োজন পড়ে না। ভবিষ্যৎ আইনি জটিলতা এড়াতে এবং স্পিকার যদি পরবর্তীতে অন্য কোনও সিদ্ধান্ত নেন, তবে যাতে তাকে আইনত চ্যালেঞ্জ করা যায়, সেই রণকৌশল নিয়েই এই চিঠি আগেভাগে দিয়ে রাখা হল বিরেধী দল তৃণমূলের তরফ থেকে।
তবে এই চিঠি জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিধানসভা চত্বরে তীব্র নাটকীয়তা ও বিতর্ক।
এদিন তৃণমূলের একটি প্রতিনিধি দল বিধানসভায় চিঠি দিতে গেলে দেখা যায় স্পিকার উপস্থিত নেই। এরপরই স্পিকারের সচিবের ভূমিকা নিয়ে হতাশা উগরে দেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ। বিধানসভার বাইরে এসে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়েছিলেন। সঙ্গে ছিলেন আরেক বিধায়ক অসীমা পাত্র। বিধানসভার গেটের বাইরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, 'আমরা চিঠি দিতে এসেছিলাম, কিন্তু স্পিকার ছিলেন না। সচিব যা বললেন তা অত্যন্ত হাস্যকর। সচিব আমাদের সাফ জানিয়েছেন, স্পিকার না থাকলে বিরোধীদের কোনও চিঠি তিনি নেবেন না!'
সচিব চিঠি নিতে অস্বীকার করলেও তৃণমূল নেতৃত্ব দমে যাননি। কুণাল ঘোষ জানান, 'উনি চিঠি না নিলেও আমরা চিঠিটি ওনার টেবিলে রেখে এসেছি এবং এই পুরো প্রক্রিয়ার ভিডিয়ো রেকর্ডিং করে রাখা হয়েছে।' গতকাল একটি চিঠি দিয়েছে তৃণমূল আর আজ একটি চিঠি দিল আবার তৃণমূল। গতকালের চিঠি স্পিকারের সচিব গ্রহণ করেছিলেন কিন্তু বিরোধীদের আজকে কোনও চিঠি গ্রহণ না করায় উঠছে প্রশ্ন। বিধানসভার অন্দরে এই ধরণের আচরণ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে শাসকদল।
এদিকে বিধানসভার উত্তপ্ত আবহের মাঝেই বাইরে ধরা পড়ল এক ভিন্ন ছবি। বিজেপি নেতা তাপস রায়ের সঙ্গে আচমকাই সৌজন্য সাক্ষাৎ হয় কুণাল ঘোষের। বিধানসভার গেটে মুখোমুখি তাপস-কুণাল। দুই নেতার কথোপকথনে উঠে আসে রাজনৈতিক তরজা থেকে শুরু করে পুরোনো সম্পর্কের স্মৃতি।
কুণাল ঘোষ: ওয়াই চ্যানেলে (তৃণমূলকে সভা করার) অনুমতি দেওয়া হয়নি।
তাপস রায়: (পাল্টা কটাক্ষ ছুড়ে) আমাদের ১০৪ বার সভার অনুমতি দেওয়া হয়নি!
তবে রাজনৈতিক এই খোঁচাখুঁচি বেশিদূর গড়াতে দেননি কুণাল ঘোষ। তাপস রায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ প্রসঙ্গে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, 'সব সম্পর্ককে দয়া করে রাজনীতি দিয়ে মাপবেন না বা দেখবেন না। তাপসদা কলেজে আমার সিনিয়র ছিলেন।'
চিঠি জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে আইনি লড়াইয়ের হুঁশিয়ারি এবং বাইরে দুই বিরোধী শিবিরের নেতার এই সৌজন্য সাক্ষাৎ-- সব মিলিয়ে এদিন বিধানসভা চত্বর সরগরম রইল রাজ্য রাজনীতির একাধিক সমীকরণে।
বিগ ব্রেকিং: দলবিরোধী কাজের জন্য ঋতব্রত বন্দোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহাকে বহিষ্কার করল তৃণমূল কংগ্রেস

