Dailyhunt Logo
  • Light mode
    Follow system
    Dark mode
    • Play Story
    • App Story
মঙ্গল রাতে শুভ্রাংশুর সঙ্গে শেষ কথা, নেপালে নিখোঁজ মুকুল রায়ের বউমা! 'মিসিং' সুস্মিতা-মানস-দীপালি-দেবব্রত-লেখারাও

মঙ্গল রাতে শুভ্রাংশুর সঙ্গে শেষ কথা, নেপালে নিখোঁজ মুকুল রায়ের বউমা! 'মিসিং' সুস্মিতা-মানস-দীপালি-দেবব্রত-লেখারাও

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: প্রাবনগ্রাসে নেপাল। বন্যাবিধ্বস্ত নেপালে নিখোঁজ মুকুল রায়ের পুত্রবধূ তথা শুভ্রাংশু রায়ের স্ত্রী শর্মিষ্ঠা ভৌমিক রায়। বীজপুর প্রাক্তন বিধায়ক শুভ্রাংশু রায়ের স্ত্রী শর্মিষ্ঠা ভৌমিক রায় গত ২১ তারিখ একটি ট্রাভেল এজেন্সির সঙ্গে নেপাল গিয়েছিলেন। একাই গিয়েছিলেন তিনি।

২৫ তারিখ রাতে শুভ্রাংশু রায়ের সঙ্গে তাঁর শেষ কথা হয়। তারপর থেকেই আর তাঁর কোনও খোঁজ পাচ্ছে না পরিবার। ফলে চরম উৎকণ্ঠায় রায় পরিবার। যোগাযোগ করার চেষ্টা চলছে শর্মিষ্ঠা ভৌমিক রায়ের সঙ্গে। এমনটাই জানান শুভ্রাংশু রায়।

নেপালে ঘুরতে বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন আরও অনেকে। অনেকেরই কোনও খোঁজ মিলছে না। কোথায় তাঁরা, কেউ জানেন না! প্রিয়জনদের চিন্তায় উদ্বিগ্ন সেইসব পরিবার। মানস কুমার ঘোষ কাল্টিভেশন অফ সায়েন্সে চাকরি করতেন। স্ত্রী দীপালি সরকার গুয়াহাটিতে চাকরি করেন। অবসরপ্রাপ্ত মানস কুমার ঘোষ (৬৫) ও তাঁর স্ত্রী দীপালি সরকার, দুজনে মিলে ২১ অগাস্ট নেপাল যান। মেয়ে অদৃজা দিল্লি এইমসে ডাক্তারি পড়েন। ফ্ল্যাট তালাবন্দি। বিপর্যয়ের পর থেকে খোঁজ নেই মানসবাবু ও তাঁর স্ত্রীর। বাবা-মায়ের খবর পেতে দিল্লি থেকে ছুটে এসেছেন মেয়ে।

নিউটাউন অ্যাকশন এরিয়া ২D-এর প্লট নাম্বার ৩০৬০-এর বাসিন্দা দেবব্রত রায় চৌধুরী ও তাঁর স্ত্রী লেখা রায় চৌধুরী। প্রতিবেশীরা জানাচ্ছেন, স্বামী স্ত্রী দুজনেই থাকেন। ছেলে বিদেশে থাকেন। প্রতি বছরই স্বামী-স্ত্রী বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে যান। এবারও ২১ তারিখ দুপুরে নেপাল যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হন। খোঁজ নেই রায় চৌধুরী দম্পতিরও। কসবার বাসিন্দা সুস্মিতা ভট্টাচার্য (৬৬)। তাঁর বউমা জানাচ্ছেন, ২১ অগাস্ট চলো যাই গ্রুপের সঙ্গে মিথিলা এক্সপ্রেসে রওনা দেন সুস্মিতা দেবী। মানস সরোবর যাওয়ার কথা ছিল। রবিবার ফোনে শেষবার কথা হয় বাড়িতে। সোমবার হোয়াটসঅ্যাপে কথা হয়। ওই দিন-ই শেষ কথা হয়। বেহালা পর্ণশ্রীর বিজি প্রেসে বাড়ি রণজয় হাওলাদারের। চলো যাই গ্রুপের সঙ্গে তিনিও নেপালে যান। বুধবার বিপর্যয়ের পর থেকে তাঁরও কোনও খোঁজ নেই। খবর পেয়ে মুম্বই থেকে ছুটে এসেছেন রণজয় বাবুর কন্যা সুনন্দা। পিসতুতো দাদাকে সঙ্গে নিয়ে হাজির হয়েছেন চলো যাই অফিসে।

নেতাজি নগরের খানপুরের বাসিন্দা, পেশায় প্রাইভেট শিক্ষিকা রীনা ব্যানার্জিও চলো যাই গ্রুপের সঙ্গে ২১ অগাস্ট মিথিলা এক্সপ্রেসে নেপালের উদ্দেশ রওনা দিয়েছিলেন। ২২ অগাস্ট রাতে শেষ কথা হয় বাড়িতে। তারপর আর কথা হয়নি। ওদিকে শুভশ্রী চক্রবর্তী বুধবার সকাল ৭:৫৭ মিনিটে ইমিগ্রেশনে হাজির হন। তারপরই তাঁর স্বামীকে টেক্সট করে জানান যে নেপালের ইমিগ্রেশন হয়ে গিয়েছে। পাসপোর্টে ডিপোটেড স্টাম্প পড়ে গিয়েছে। উনি বাসে বসে আছেন। ওখান থেকে চাইনিজ ইমিগ্রেশনে যেতে খুব বেশি হলে ১৫ মিনিট লাগার কথা। এখন হড়পা বান আসে সাড়ে আটটার পর। মনে করা হচ্ছে হড়পা বান আসার আগেই তাঁরা বর্ডার ক্রস করে তিব্বত ইমিগ্রেশন অফিসে ঢুকে গিয়েছিলেন। সূত্রের খবর, ৯টা থেকে ইমিগ্রেশন অফিস বন্ধ করে দেওয়া হয়। কয়েকজনকে উদ্ধার করে চিনা সেনাবাহিনীর ছাউনিতে নিয়ে যাওয়া হয়। এখন চিন সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে শুভশ্রী দেবীর সম্পর্কে খবর মিলতে পারে বলে অনুমান ওনার স্বামীর।

বন্যা বিধ্বস্ত নেপালে ইতিমধ্যেই মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬৫। ​আরও বাড়ল নিখোঁজ পর্যটকদের সংখ্যাও। নেপাল পর্যটন বোর্ড জানাল, মোট নিখোঁজ পর্যটকদের সংখ‍্যা ৬৪৪। তার মধ‍্যে ভারতের ১৭৮ জন পর্যটক নিখোঁজ। ইতিমধ্যে নেপালে নিখোঁজ রাজ‍্যবাসীদের রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছে কেন্দ্র। সূত্রের খবর, সব রাজ‍্যের মুখ‍্যসচিবদের থেকে এখনও পর্যন্ত নিখোঁজ পর্যটক বা অন‍্য ব‍্যক্তিদের বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে কেন্দ্র। নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে বিদেশ মন্ত্রকের সুবিধার্থেই এই তালিকা চাওয়া হয়েছে বলে খবর।

Dailyhunt
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Dailyhunt. Publisher: Zee News Bengali