জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: নেপালের ভয়াবহ বন্যার পর এবার তার ভয়াবহ প্রভাব দেখা গেল ভারতের উত্তরপ্রদেশেও। ২৬ অগাস্ট নেপালে ভয়াবহ বন্যার পর নদীর স্রোতে ভেসে উত্তরপ্রদেশের সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে চলে এসেছে একের পর এক দেহ। এখনও পর্যন্ত মোট ২১টি দেহ উদ্ধার করেছে প্রশাসন। এর মধ্যে ১৩টি দেহ উদ্ধার হয়েছে কুশীনগর জেলা থেকে এবং আরও ৮টি দেহ মিলেছে মহারাজগঞ্জে।
প্রশাসনের আশঙ্কা, নদীর জল কমলে আগামী দিনে আরও দেহ ভেসে উঠতে পারে।
কীভাবে উত্তরপ্রদেশে এল দেহগুলি?
নেপালের যে এলাকায় ভয়াবহ বন্যা হয়েছিল, সেখানকার ভোটে-কোশি নদী ব্যবস্থা পরে ত্রিশূলী নদীর সঙ্গে মিশেছে। ভারতে প্রবেশের পর এই নদীই গণ্ডক নামে পরিচিত। বন্যার প্রবল স্রোতে ভেসে যাওয়া দেহগুলি এই নদীপথ ধরে ভারতের দিকে চলে এসেছে বলে মনে করা হচ্ছে। জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী বা NDRF-এর এক আধিকারিক জানিয়েছেন, শনিবার থেকে গণ্ডক নদীতে দেহ ভেসে উঠতে শুরু করে। সোমবার পর্যন্ত প্রায় ২১টি দেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
কুশীনগরেই উদ্ধার ১৩ দেহ
কুশীনগরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বৈভব মিশ্র জানিয়েছেন, সোমবার পর্যন্ত জেলায় ১৩টি দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। খাড্ডা তহশিলের কাছ থেকেও কয়েকটি দেহ উদ্ধার হয়েছে। তবে নদীর স্রোত অত্যন্ত তীব্র থাকায় দেহ উদ্ধার করতেও সমস্যায় পড়ছেন উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা।
মহারাজগঞ্জে আরও ৮ দেহ
উত্তরপ্রদেশের আর এক সীমান্তবর্তী জেলা মহারাজগঞ্জ থেকেও ৮টি দেহ উদ্ধার হয়েছে। জেলা প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, রবিবার রাত পর্যন্ত ৬টি দেহ উদ্ধার হয়েছিল। সোমবার আরও ২টি দেহ উদ্ধার করা হয়।
পরিচয় জানা যায়নি অনেকের
উদ্ধার হওয়া দেহগুলির বেশ কয়েকটির অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। দীর্ঘ সময় জলে থাকার কারণে কিছু দেহ পচে গিয়েছে, ফলে তাঁদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। NDRF এবং জেলা প্রশাসন নেপালের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। দেহগুলির পরিচয় জানা গেলে সেগুলি তাঁদের পরিবারের কাছে বা নেপালে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হবে।
আরও দেহ ভেসে আসতে পারে
প্রশাসনের আশঙ্কা, এই ২১টিই শেষ নয়। নদীর জলস্তর কমলে আরও দেহ ভেসে উঠতে পারে। NDRF-এর এক আধিকারিক জানিয়েছেন, নদীর জল কমার পর আরও দেহ উদ্ধার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই কারণে সীমান্তবর্তী এলাকায় নদীর জলস্তর এবং পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে। নেপালের ভয়াবহ বন্যার পর থেকেই ভারতীয় সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছিল। নদীর জলস্তর বাড়লে সীমান্তবর্তী গ্রামগুলিতে দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে-এই আশঙ্কাতেও নজর রাখছিল প্রশাসন। এর পাশাপাশি নদীতে ভেসে আসা দেহ শনাক্ত এবং উদ্ধারের জন্যও জেলা প্রশাসন ও উদ্ধারকারী দলগুলিকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

