কমলাক্ষ ভট্টাচার্য: বাংলায় ফিরছে টাটা? সমস্যা সমাধানের পথে রাজ্য! সূত্রের খবর, সম্প্রতি মুম্বইতে গিয়ে টাটা গোষ্ঠীর সঙ্গে বৈঠকে করেছে শিল্প দফতরের প্রতিনিধিরা। বৈঠকে ক্ষতিপূরণ নিয়ে আলোচনা হয়।
ছাব্বিশে পালাবদল রাজ্যে। তৃণমূলকে হারিয়ে এবার ক্ষমতায় বিজেপি। একাধিকবার রাজ্যে টাটাকে ফেরানোর বার্তা দিয়েছেন গেরুয়াশিবিরের শীর্ষ নেতারা।
এমনকী, শিল্প দফতরের দায়িত্ব পাওয়ার পর তাপস রায় বলেছিলেন, যাঁরা চলে গিয়েছে, তাঁদেরকে ফিরিয়ে আনা হবে। যদিও রতন টাটাজি আজ আমাদের মধ্যে নেই। থাকলে খুশি হতেন। আমি তাঁর কাছে ছুটে যেতাম। তবুও যাঁরা এখন দেখছেন টাটার সবকিছু। তাঁদের সঙ্গে নিশ্চয়ই যোগাযোগ করা হবে'।
রাজ্যে তখন বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় বামেরা। সিঙ্গুরের টাটাদের ন্যানো কারখানা তৈরির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন তৎকালীন বিরোধী দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উত্তাল হয়ে ওঠে গোটা রাজ্য। প্রবল আন্দোলনে মুখে শেষপর্যন্ত বাংলা থেকে পাততাড়ি গুটিয়ে গোটাতে বাধ্য হন রতন টাটা। সিঙ্গুরে যে একলাখি গাড়ির যে কারখানা হওয়ার কথা, সেই কারখানা চলে গুজরাতের সানন্দে।
২০১১ সালে রাজ্যে পালাবদল ঘটে। মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে বসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সিঙ্গুরে আর কারখানা হয়নি। টাটাদের কাছে জমি ফেরত চায় তত্কালীন তৃণমূল সরকার। রাজিও হয় টাটা। কিন্তু যখন ৭৬৬ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চাওয়া হয়, তখনই বেঁকে বসে রাজ্য। মামলা গড়ায় আদালতে।
রাজ্য সরকারকে কমপক্ষে ৭৬৬ কোটি টাকা দেওয়ার নির্দেশ দেয় আরবিট্রাল ট্রাইব্যুনাল। সঙ্গে ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ১১ শতাংশ হারে বার্ষিক সুদও। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে আবার কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করে রাজ্য। আরবিট্রাল ট্রাইব্যুনালে অন্তবর্তীকালীন স্থগিতদেশ জারি করেছে হাইকোর্টের বিচারপতি অনিরুদ্ধ রায়ের একক বেঞ্চ।

