জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: বাংলায় ভয় 'আউট', ভরসা 'ইন'। বারুইপুর কাণ্ডে অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল এনকাউন্টারে মৃত। গত মঙ্গলবার গভীর রাতে পুনর্নির্মাণে নিয়ে যেতেই চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ধর্ষণ কাণ্ডে এনকাউন্টারের এই ঘটনায় বাংলায় প্রথম। এই নিয়ে সরব হয়েছেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র।
সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লেখেন, 'বারুইপুরের ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল এনকাউন্টারে নিহত! পশ্চিমবঙ্গ পুলিস এটা হচ্ছেটা কী? বাঙালিরা দয়া করে নতুন বেঙ্গল- উত্তর প্রদেশ ২.০-কে স্বাগত জানান। বিজেপি কোনো সরকার নয়। এটি জঙ্গল রাজ।'

মঙ্গলবার রাতে ঠিক কী ঘটেছিল?
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, গত মঙ্গলবার রাত প্রায় ১২টা ৪৫ মিনিটে বারুইপুর তদন্তকারী অফিসার (IO) তাঁর টিম নিয়ে বারুইপুর থানার অন্তর্গত সূর্যপুরে ঘটনাস্থলে অপরাধ পুনর্নির্মাণের জন্য রওনা দেন। অপরাধ পুনর্নির্মাণ শুরু করার ঠিক আগে অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল এক পুলিস কর্মীর হাত থেকে অস্ত্র ছিনিয়ে নেয়। তারপর পুলিসের দিকে ১ রাউন্ড গুলি চালায় এবং ঘটনাস্থল থেকে পালানোর চেষ্টা করে। এরপর পুলিসের পাল্টা গুলিতে অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল আহত হয়। তাঁকে দ্রুত বারুইপুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। পুরো বিষয়টি নিয়ে পুলিস এখন পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ ও তদন্ত শুরু করেছে।
বারুইপুরে রি-কনস্ট্রাকশনে তাণ্ডব! পুলিসের রিভলভার কেড়ে ফায়ারিং, পালটা গুলিতে নিহত অভিযুক্ত
কে এই প্রভাস মণ্ডল?
বারুইপুরে বারো বছরের নাবালিকার ধর্ষণ এবং খুনে অন্যতম অভিযুক্ত এই প্রভাস মণ্ডল। গত শনিবার নির্যাতিতার অপহরণ হয়। এই প্রভাস মণ্ডলই নাবালিকা ভুল বুঝিয়ে ওই ঝুপড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে আগে থেকে উপস্থিত ছিল আনন্দ, দিবাকর এবং আরও এক। প্রভাসে নিয়ে আসে নাবালিকাকে সেখানে বসেই মাদক সেবন করে অভিযুক্তরা। তারপর নাবালিকার উপর চালানো হয় শারীরিক নির্যাতন। চারজনই নির্যাতন চালায়। তারপর নাবালিকার গলায় পা তুলে নৃশংস ভাবে আঘাত করা হয়
সেই অবস্থাতে ওই ঘরে মধ্যে রেখে দেয় নাবালিকাকে। গভীর রাতে প্লাস্টিকের বস্তা ভোরে দেহ ফেলার চেষ্টা করে। কিন্তু প্লাস্টিকে ছিঁড়ে যায়। ফলে ঘটনাস্থলে থেকে কাছে পুকুরে দেহ ফেলে ওই বস্তা চাপা দিয়ে দেওয়া হয়।
এদিকে নাবালিকাকে খুঁজতে গিয়ে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায় যে, এই প্রভাস মণ্ডলের সঙ্গে নাবালিকা হেঁটে কোথাও যাচ্ছে। গত রবিবার সকাল ৭.৩০ নাগাদ নির্যাতিতার দেহ উদ্ধার হয়। দেহ উদ্ধারের পর স্থানীয় বাসিন্দারা দু'জন সন্দেহভাজনকে ধরে স্থানীয় পুলিস ফাঁড়িতে নিয়ে যান। তাঁদের মধ্যে ছিল প্রভাস মণ্ডল এবং আনন্দ সর্দার, যে পরে এই মামলার মূল অভিযুক্ত হিসেবে গ্রেফতার হয়। জেরায় প্রভাস মণ্ডলের দাবি ছিল, আনন্দ সর্দার তাকে মেয়েটি নিয়ে আসলে ১০ হাজার টাকা দেবে বলেছিল। কিন্তু প্রভাসও এই চরম নৃশংসতায় জড়িয়ে।

