রাজীব চক্রবর্তী: NCPI-NDA বিতর্কে ইতি? NCPI-তেই থাকছেন মুর্শিদাবাদের ৩ সংখ্যালঘু সাংসদ? দিল্লিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠকের পর সাংসদ বাপি হালদার স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, 'তাঁদের নিজস্ব কোনও সমস্য়া ছিল, মুখ্যমন্ত্রীকে বলেছেন। পরিষ্কারভাবে বুঝিয়েছেন। আমাদের সঙ্গে আছে।
এখনও আছে। আগামীতে থাকবে'।
গত কয়েকদিন ধরেই কানাঘুষো শোনা যাচ্ছিল যে, NCPI ছেড়ে তৃণমূলে ফিরছেন ৩ সাংসদ! বস্তুত, আজ মঙ্গলবার NDA-র বৈঠকও এড়িয়ে যান মুর্শিবাদের ৩ সংখ্যালঘু সাংসদ। আবু তাহের, খলিলুর রহমান এবং ইউসুফ পাঠান। কেন? আবু তাহেরের স্পষ্ট কথা, 'এনডিএতে নেই। কিন্তু এনসিপিআইতে আছি। এনডিএতে থাকব না, বিজেপিতে যাব না'। এরপর বঙ্গভবনে NCPI সাংসদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই বৈঠকে অবশ্য ছিলেন ওই তিন সাংসদই।
বৈঠকে কী আলোচনা হল? মথুরাপুরের সাংসদ বাপি জানান, 'মুখ্য়মন্ত্রী আগে যে কথা দিয়েছেন, সেই কথাতেও অনড়। বাংলার উন্নয়নে একেবারে সিদ্ধহস্ত। বিধায়করা যেমন থাকছেন, সাংসদরা প্রশাসনিক বৈঠকে থাকবেন। যাতে কোনও প্রকল্প থেকে সাংসদরা বাদ না যায়, সে বিষয়ে তিনি একেবারে নিশ্চিত করলেন। সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প যেমন অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার, বার্ধক্য়ভাতা কোনও উপভোক্তা যদি বাদ গিয়ে থাকে, এমপিদের মাধ্যমে তাদের যুক্ত করা। কোনও পরামর্শ থেকে, সাংসদরাও সরাসরি তাকে বলতে পারবে'।
এদিকে গতকাল সোমবার সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছিলেন, 'তৃণমূল ছেড়ে NCPI-তে দলে যোগ দেওয়া সাংসদদের এলাকার অনেকেই ঘরছাড়া। নিজেদের এলাকায় ঢুকতে পারছেন না। মিথ্যা মামলা দেওয়া হচ্ছে। এই আলোচনা করতে দিল্লিতে আসছেন মুখ্যমন্ত্রী'। বৈঠক শেষে সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, 'কেউ যেন ঘর ছাড়া হয়ে না থাকে, সেই আশ্বাসও দিয়েছেন। ওনাদের বলুন, ওনারা নির্দ্বিধায়, কোনও ভয় না নিয়ে, এগিয়ে যায়। মানুষের সঙ্গে থাকুন। আপনাদের পাশে আছি। এর থেকে বড় আর কিছু হতে পারে'।

