বিশ্বজিৎ মিত্র: অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের পেনশন নিয়ে সমস্যা, বেতনহীন অধ্যাপক, অনুদানও বন্ধ। গভীর সংকটে বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। ৫৩ তম প্রতিষ্ঠা দিবসের অনুষ্ঠানেই সামনে এল বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের একাধিক জ্বলন্ত সমস্যা। অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের পেনশন থেকে শুরু করে অধ্যাপকদের বেতন, শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীর ঘাটতি, বন্ধ অনুদান এবং গবেষণাগারের বেহাল পরিকাঠামো-সব মিলিয়ে গভীর সংকটের মুখে বিশ্ববিদ্যালয়।
প্রতিষ্ঠা দিবসের মঞ্চ থেকেই রাজ্য সরকারের কাছে দ্রুত সমস্যা সমাধানের দাবি জানালেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. অশোক কুমার পাত্র।
উপাচার্যের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের আশ্বাস দেন রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী দুধকুমার মণ্ডল। একইভাবে সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন উদ্যানপালন ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ দফতরের প্রতিমন্ত্রী তথা কৃষি প্রতিমন্ত্রী অমিয় কিস্কুও। বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে উপাচার্য জানান, একসময় বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে নন-টিচিং স্টাফের সংখ্যা ছিল প্রায় ১২০০। বর্তমানে সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র প্রায় ২০০-তে। দীর্ঘদিন ধরে একাধিক পদে নিয়োগের অনুমোদন না মেলায় এই বিপুল কর্মী ঘাটতি তৈরি হয়েছে বলে দাবি তাঁর। শিক্ষক পদেও একই ছবি। বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট ২৮৫টি শিক্ষক পদ থাকলেও বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন প্রায় ১৪০ জন। অর্থাৎ, অর্ধেকেরও বেশি পদ কার্যত শূন্য। আগামী দিনে আরও কয়েকজন শিক্ষক অবসর নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন উপাচার্য। বর্তমানে গেস্ট ফ্যাকাল্টি, কন্ট্রাকচুয়াল স্টাফ এবং পিএইচডি গবেষকদের সাহায্যে কোনওরকমে পঠনপাঠনের কাজ চালানো হচ্ছে।
শুধু শিক্ষক বা কর্মী ঘাটতিই নয়, আর্থিক সমস্যাও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে। উপাচার্যের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে একাধিক অধ্যাপক ও কর্মী বেতন সংক্রান্ত সমস্যার মুখে রয়েছেন। এর পাশাপাশি অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের পেনশন সমস্যাও এখনও মেটেনি। উপাচার্যের বক্তব্য অনুযায়ী, ৫৮ জন অবসরপ্রাপ্ত কর্মীর পেনশন নিয়ে সমস্যা রয়েছে। তাঁদের মধ্যে ইতিমধ্যেই দু'জনের মৃত্যু হয়েছে এবং কয়েকজন অসুস্থ। দীর্ঘদিন ধরে পেনশন না পাওয়ায় চরম আর্থিক সংকটের মধ্যে রয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের একাংশ। তাঁদের কেউ হকারি করছেন, আবার কেউ মুদির দোকানে কাজ করে সংসার চালাতে বাধ্য হচ্ছেন বলেও জানান উপাচার্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুদান বন্ধ থাকায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।
উপাচার্য জানান, গত পাঁচ-ছয় বছর ধরে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব এগ্রিকালচারাল রিসার্চ (আইসিএআর)-এর কাছ থেকে কোনও বড় অনুদান পাওয়া যায়নি। ২০২০-২১ সাল থেকে অনুদান কার্যত বন্ধ রয়েছে। সরকারের কাছ থেকে পাওয়া অর্থের ইউটিলাইজেশন সার্টিফিকেট (ইউসি) জমা দিতে না পারার কারণেই অনুদান বন্ধ রয়েছে বলে জানান তিনি। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ও পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজেও প্রভাব পড়ছে। বহু গবেষণাগারের যন্ত্রপাতি পুরনো হয়ে গিয়েছে। নতুন যন্ত্রপাতি কেনা এবং গবেষণার পরিকাঠামো আধুনিকীকরণের জন্য অবিলম্বে অর্থ বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেন উপাচার্য। বিভিন্ন খাতে এক থেকে দুই কোটি টাকা করে বরাদ্দের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়কে সামগ্রিকভাবে নতুন করে গড়ে তুলতে প্রায় ১০০ কোটি টাকার বিশেষ অনুদানের প্রয়োজন বলেও জানান তিনি।
তবে এত প্রতিকূলতার মধ্যেও জাতীয় স্তরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাফল্যের কথা তুলে ধরেন উপাচার্য। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউশনাল র্যাঙ্কিং ফ্রেমওয়ার্ক (NIRF)-এর নিরিখে দেশের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলির মধ্যে বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ১৬ তম স্থানে রয়েছে বলে জানান তিনি। উপাচার্যের বক্তব্যের পর কৃষিমন্ত্রী দুধকুমার মণ্ডল বলেন, "সিপিএম এবং তৃণমূলের আমলে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ৪৯ বছরে যে সমস্যাগুলি তৈরি হয়েছে, মাত্র তিন মাস বয়সি একটি সরকারের পক্ষে সেগুলির সমাধান করা সম্ভব নয়। তবে আমরা বিষয়গুলি খতিয়ে দেখব।" প্রতিষ্ঠা দিবসের মঞ্চে বিশ্ববিদ্যালয়ের একের পর এক সমস্যা প্রকাশ্যে আসায় স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে শিক্ষক, কর্মী এবং অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের মধ্যে। মন্ত্রীর আশ্বাসের পর এবার দ্রুত পদক্ষেপের দিকেই তাকিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট সকলেই।
ফুচকা খাওয়ার ১০-২০ টাকার বিনিময়ে ব্যাড টাচ! নাবালিকাকে ঘরে ডেকে নোংরামি 'দাদু'র
দীঘার হোটেলে কেলেঙ্কারি কাণ্ড! অভিযানে পর্দাফাঁস, বন্ধ করা হল সঙ্গে সঙ্গে

