Dailyhunt Logo
  • Light mode
    Follow system
    Dark mode
    • Play Story
    • App Story
পেটের যন্ত্রণায় বাদ হাত! ইনজেকশন দিতেই গোটা হাত... স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভয়ংকর ঘটনা

পেটের যন্ত্রণায় বাদ হাত! ইনজেকশন দিতেই গোটা হাত... স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভয়ংকর ঘটনা

ম্পক দত্ত: পেটের যন্ত্রণায় স্ত্রীকে নিয়ে গিয়েছিলেন প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে। সেখানে ভুল চিকিৎসায় স্ত্রীর ডান হাত কেটে বাদ দিতে হয়েছে। এমনই অভিযোগ তুলে পুলিসের দ্বারস্থ স্বামী। প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সের বিরুদ্ধে চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ তুলেছেন রোগীর স্বামী।

সেইসঙ্গে তাঁর স্ত্রীর চিকিৎসার যাবতীয় খরচ বহন ও ডান হাত বাদ যাওয়ায় স্ত্রীর আজীবন ভরণপোষণের দাবি জানিয়ে পুলিসে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন স্বামী। চাঞ্চল্যকর অভিযোগ দাসপুর-১ ব্লকের নাড়াজোল গ্রাম পঞ্চায়েতের হরিরাজপুর গ্রামের বাসিন্দা কিংকর দলুইয়ের।

জানা গিয়েছে, হরিরাজপুর গ্রামের বাসিন্দা কিংকর দলুই (৪৫) ও তাঁর স্ত্রী পুতুল দলুই(৩৮)। একচিলতে মাটির ঝিটেবেড়ার বাড়িতে স্বামী-স্ত্রী ও এক ছেলেকে নিয়ে সংসার। একটি মেয়েও আছে, তাঁর বিয়ে দিয়েছেন। সামান্য কিছু জমি আর দিনমজুরি করে সংসার চলে কিংকর দলুইয়ের। কিংকর জানান, চলতি মাসের ৬ তারিখ রাতে স্ত্রী পুতুল দলুইয়ের হঠাৎ পেটের যন্ত্রণা শুরু হয়। ওইদিন রাত ১১টা নাগাদ স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য তাঁকে নাড়াজোল প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক স্ত্রীর শারীরিক পরীক্ষা করে ওষুধ ও ইনজেকশন লিখে দেন। কর্তব্যরত একজন নার্স পুতুল দলুইকে তিনটি ইনজেকশন দেন।

অভিযোগ, ডান হাতে ইনজেকশন দেওয়ার কিছু পর-ই প্রচন্ড যন্ত্রণা অনুভব করতে শুরু করেন পুতুল দলুই। অসহ্য যন্ত্রণা হওয়ায় চিকিৎসক ও নার্সকে একাধিক বার জানান তিনি। কিন্তু একাধিকবার বলা সত্ত্বেও কোনও তোয়াক্কা না করে সেখান থেকে অন্যত্র রেফার করে দেওয়া হয় পুতুল দলুইয়ে। কিংকর দলুইয়ের দাবি, ইনজেকশন দেওয়ার পর থেকেই স্ত্রীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে। হাতে প্রচন্ড যন্ত্রণার পাশাপাশি যে জায়গায় ইনজেকশন দেওয়া হয়েছিল, সেই স্থানটি ফুলে গিয়ে কালো হতে শুরু করে। বিলম্ব না করে পুতুল দলুইকে পরদিন ৭ তারিখ দুপুরে মেদিনীপুরে একটি বেসরকারি চিকিৎসা কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর কলকাতায় নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করানোর পরামর্শ দেয় ওই বেসরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান। শারীরিক অবস্থা দেখে ৮ তারিখ রোগীকে ছেড়ে দেয় মেদিনীপুরের ওই বেসরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান।

ওইদিনই পুতুল দলুইকে নিয়ে তাঁর পরিবার প্রথমে কলকাতার পিজি হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে ভর্তি করার সুযোগ না মেলায় শেষে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে পুতুল দলুইকে ভর্তি করে তাঁর পরিবার। পরিবারের কথায়, আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে ৮ তারিখ পুতুল দলুইকে ভর্তি করা হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পরিবারকে জানায়, ৯ তারিখ মেডিক্যাল বোর্ড বসে সিদ্ধান্ত নেবে কী করা হবে। ৯ তারিখ মেডিক্যাল বোর্ড সিদ্ধান্ত নেয়, পুতুল দলুইয়ের ডান হাতের কনুই থেকে আঙুল অবধি পুরো অংশটা কেটে বাদ দিতে হবে।

মেডিক্যাল বোর্ডের সিদ্ধান্তে পরিবার সম্মতি দেওয়ার পর ১৫ তারিখ অপারেশন হয় পুতুল দলুইয়ের। অপারেশন করে পুতুল দলুইয়ের ডান হাতের 'পচে যাওয়া' অংশ কেটে বাদ দেওয়া হয়। ২২ তারিখ আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ থেকে ছুটি পান পুতুল দলুই। এই ঘটনায় এবার পুলিসের দ্বারস্থ অসহায় দলুই পরিবার। দাসপুর থানার পুলিস জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে। অভিযোগপত্রটি পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সৌম্যশঙ্কর সড়ঙ্গী বলেন,'খবরটি শুনেছি, এই ধরনের ঘটনা হয়ে থাকলে তা খুবই দুঃখজনক। অতিরিক্ত মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক,বিএমওএইচকে বলেছি একটি কমিটি গঠন করে তদন্ত করতে। অভিযোগ সঠিক হলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।' কমিটি গঠন করে তদন্তের আশ্বাস দিয়েছে জেলা স্বাস্থ্য দফতর। এখন স্বাস্থ্য দফতরের তদন্তের দিকে তাকিয়ে দাসপুরের এই অসহায় পরিবার।

(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)

Dailyhunt
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Dailyhunt. Publisher: Zee News Bengali