জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: বছরের প্রায় শেষ ভাগের কাছাকাছি চলে এসেছে বিশ্ববাজার। এই সময় জার্মান গাড়ি প্রস্তুতকারক ভক্সওয়াগন (Volkswagen) নিতে চলেছে বিরাট সিদ্ধান্ত। ভক্সওয়াগন তাদের ইতিহাসের অন্যতম বড় অভ্যন্তরীণ পুনর্গঠন পরিকল্পনার দিকে এগোচ্ছে। এই প্রতিষ্ঠানের সাম্প্রতিক ৪০-দফার টার্নঅ্যারাউন্ড প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে প্রায় ১০০০০০ কর্মী ছাঁটাই হতে পারে এবং জার্মানির একাধিক কারখানা চিরতরে বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
শ্রমিক ইউনিয়নের বিরোধিতা
তবে জার্মানির এই পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করছে সেদেশের শ্রমিক ইউনিয়ন এবং লোয়ার স্যাক্সনি (Lower Saxony) রাজ্য সরকার। ২০২৪ সালের শেষের দিকে শ্রমিক ইউনিয়নের সঙ্গে প্রাথমিক যে চুক্তি হয়েছিল, নতুন প্রস্তাবে কর্মী ছাঁটাইয়ের সংখ্যা তার প্রায় দ্বিগুণ করা হয়েছে। ভক্সওয়াগনের হ্যানোভার, এমডেন, জুইকাউ এবং অডির নেকারসুলম কারখানাগুলি বন্ধের সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছে।
গ্র্যান্ড ক্যানিয়নেও হড়পা! ব্রাইট অ্যাঞ্জেলে ধেয়ে এল জলপাথরের রাক্ষুসে প্লাবন! কেন এই মারণ বিপর্যয়?
সংকটের কারণ
সংকটের মূল কারণ চিনে বিক্রি কমে যাওয়া। ঐতিহ্যবাহী বড় বাজারগুলিতে গাড়ি বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছে। শুধু তাই নয়, আছে মার্কিনি শুল্কের ঝুঁকিও। মার্কিন বাজারের নতুন শুল্কনীতি ও বাকি বিশ্বের চাপও এক্ষেত্রে একটা বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইউরোপের নিজস্ব বাজারে এশীয় ও চিনা ব্র্যান্ডগুলির তীব্র প্রতিযোগিতা রয়েছে। তাছাড়া, ২০২৬ সালে জার্মানির ভক্সওয়াগনের কারখানাগুলিতে গড়ে ৮১% উৎপাদন হচ্ছে। জুইকাউ কারখানায় এই হার ২০৩০ সালের মধ্যে নেমে মাত্র ৪২%-এ এসে দাঁড়াতে পারে বলে আশঙ্কা! যা অর্থনৈতিকভাবে একটা অসম্ভব জায়গায় পৌঁছে দেবে গাড়িশিল্পকে। এছাড়া কোম্পানির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বও রয়েছে। এই কোম্পানির শেয়ারহোল্ডার ও বোর্ড স্ট্রাকচার বেশ জটিল।
সাধারণ ক্রেতার উপর প্রভাব
সাধারণ ক্রেতাদের উপর কোনও প্রভাব এখনই পড়বে না। ভক্সওয়াগনের কোনো মডেল, ডেলিভারি বা ওয়ারেন্টির উপরও তাৎক্ষণিকভাবে এই সিদ্ধান্তের কোনো প্রভাব পড়বে না। তবে কোম্পানি কীভাবে ভবিষ্যতে গাড়ি উৎপাদন করবে এবং নতুন উদ্ভাবনে কীভাবে তারা ফান্ডিং করবে, সেটা একটা বড় কথা।

