জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: রাজ্য সরকারি কর্মচারী এবং সাধারণ মানুষের জন্য একগুচ্ছ জনমুখী সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য মন্ত্রিসভা। বৃহস্পতিবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই সিদ্ধান্তে চূড়ান্ত সিলমোহর দেওয়া হয়েছে। বৈঠক শেষে পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল সাংবাদিক বৈঠক করে সরকারের এই একাধিক বড় ঘোষণার কথা জানান।
রাজ্যের এনএইচএম (NHM) কর্মীদের জন্য বড় উপহার দিতে চলেছে সরকার। জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনেরর কর্মীদের একলাফে বেতন বাড়ছে ৫০০০ টাকা।
চলতি বছরের বাজেটে আশা কর্মী ও অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী-সহ রাজ্যের বিভিন্ন স্তরের কর্মীদের ভাতা বা মাসিক বেতন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হলেও, জাতীয় স্বাস্থ্য মিশন (এনএইচএম) কর্মীদের বেতন বৃদ্ধির বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। তবে বৃহস্পতিবারের বৈঠকে এই কর্মীদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ করল সরকার।
কবে বাড়ছে বেতন?
আগামী ১ আগস্ট, ২০২৬ থেকে এনএইচএম-এর অধীনে কর্মরত সমস্ত স্তরের চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের (চিকিৎসক, নার্স, ফার্মাসিস্ট, ডিটিপি অপারেটর প্রমুখ) মাসিক পারিশ্রমিক একলাফে ৫০০০ টাকা বৃদ্ধি করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, এনএইচএম হলো ভারত সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রক পরিচালিত একটি অন্যতম প্রধান স্বাস্থ্য কর্মসূচি। গর্ভবতী মহিলাদের সুচিকিৎসা এবং যক্ষ্মা, ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু রোগ প্রতিরোধে এই কর্মীদের অবদান অনস্বীকার্য। সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে কয়েক হাজার স্বাস্থ্যকর্মী সরাসরি উপকৃত হবেন।
ডিজিটাল হবে জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন
বৃহস্পতিবারের বৈঠকে 'পশ্চিমবঙ্গ জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন সংশোধনী বিধিমালা ২০২৬'-এর খসড়া অনুমোদন করা হয়েছে। এবার থেকে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের রেকর্ড সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে রক্ষণাবেক্ষণ করা হবে। ডিজিটাল শংসাপত্র প্রদান, বিলম্বিত নিবন্ধনের সরলীকরণ এবং আপিল প্রক্রিয়ার মতো নতুন আইনি বিধান চালু হওয়ায় সাধারণ মানুষকে আর সরকারি অফিসে চক্কর কাটতে হবে না। অনলাইনেই মিলবে সব সুবিধা।
রাজ্যে ৯টি নতুন ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট ও কর্মসংস্থান
মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে আলিপুরদুয়ার, উত্তর দিনাজপুর, মালদহ, পুরুলিয়া, পূর্ব মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, উত্তর চব্বিশ পরগনা, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা এবং কলকাতার নগর দায়রা আদালতে একটি করে মোট ৯টি নতুন ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট গঠনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই আদালতগুলি পরিচালনার জন্য পরবর্তীতে ৩৬টি নতুন পদ তৈরি ও দ্রুত নিয়োগের বিষয়েও সবুজ সংকেত দিয়েছে মন্ত্রিসভা, যার ফলে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
বিনামূল্যে মিলবে জমির খতিয়ান ও তথ্য
ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দফতরের ক্ষেত্রেও সাধারণ মানুষকে বড় স্বস্তি দিয়েছে রাজ্য। এবার থেকে রেকর্ড অফ রাইটস (আরওআর) খতিয়ান এবং প্লট ইনফরমেশনের ডিজিটাল কপি পাওয়ার জন্য আর কোনও টাকা খরচ করতে হবে না।
আগে এর জন্য ১০ টাকা ফি দিতে হত। সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে 'বেঙ্গল রেকর্ডস ম্যানুয়াল ১৯৪৩'-এর বিধি সংশোধন করে এই ফি সম্পূর্ণ মকুব করা হয়েছে।
গ্রামীণ কর্মসংস্থান
কেন্দ্রীয় সরকারের বিশেষ প্রকল্প 'বিকশিত ভারত গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড জীবিকা মিশন গ্রামীণ' ২০২৬ সালের মধ্যে এ রাজ্যে বাস্তবায়নের জন্য কার্যোত্তর অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এর ফলে গ্রামীণ স্তরে কর্মসংস্থান ও স্বনির্ভর গোষ্ঠীর জীবিকা নির্বাহের পথ আরও সুগম হবে।
এর পাশাপাশি আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং, মুর্শিদাবাদ, উত্তর দিনাজপুর ও মালদা জেলায় মোট ৫৪.২ একর জমি বিএসএফ (BSF)-কে হস্তান্তর এবং মালদা জেলায় ১১ একর জমি নবোদয় বিদ্যালয় সমিতিকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে এ দিনের মন্ত্রিসভার বৈঠক রাজ্যবাসীর জন্য এক বড় উপহার নিয়ে এল।

