অয়ন শর্মা: চিকিৎসক অভীক দে-র পরে এবার চিকিৎসক বিরূপাক্ষ বিশ্বাস (Dr Birupaksha Biswas)। দুর্নীতি দমন শাখার তদন্ত এবং একাধিক ফৌজদারি মামলায় নাম জড়ানোর অভিযোগে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের প্রাক্তন সিনিয়র রেসিডেন্ট বিরূপাক্ষের বিরুদ্ধে এবার কড়া প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিল সরকার। আরজিকর ইস্যুতে বারবার অভীক দে ও বিরূপাক্ষের নাম উঠে এসেছে বিভিন্ন সময়ে।
বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য দফতরের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর জারি হওয়া নির্দেশিকা অনুযায়ী বিরূপাক্ষ বিশ্বাসকে সাসপেন্ড করা হয়েছিল। তিনি বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের প্যাথলজি বিভাগের 'ইন্ডেমনিটি বন্ড'-এর আওতায় নিযুক্ত সিনিয়র রেসিডেন্ট ছিলেন। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ, এফআইআর, দুর্নীতি দমন শাখার তদন্ত এবং তদন্ত কমিটির রিপোর্ট পর্যালোচনার পর প্রশাসন এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে অভিযোগগুলি প্রমাণিত হয়েছে।
রাজ্যে প্রথমবার ডিজিটালি জনগণনা, কোন পোর্টালে কীভাবে তথ্য জমা দেবেন?
এর পরিপ্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য দফতর তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে:
১) ডা. বিরূপাক্ষ বিশ্বাসের সিনিয়র রেসিডেন্সির মেয়াদ অবিলম্বে বাতিল করা হয়েছে।
২) ইন্ডেমনিটি বন্ডের শর্ত অনুযায়ী তাঁকে ২০ লক্ষ টাকা ফেরত দিতে হবে। স্বাস্থ্য দফতরের হিসেব অনুযায়ী তিনি ১৬ নভেম্বর ২০২২ সালে বন্ড সিনিয়র রেসিডেন্ট হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন। সেই হিসেবে প্রতি বছর ১০ লক্ষ টাকা হারে দুই বছরের মোট ২০ লক্ষ টাকা ফেরতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
৩) ভবিষ্যতে সরকারি চাকরিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের জন্য তদন্ত রিপোর্ট পশ্চিমবঙ্গ মেডিক্যাল কাউন্সিলের কাছেও পাঠানো হচ্ছে।
আরজি করে মদ-বিরিয়ানির পার্টি, ভিডিয়ো ভাইরাল হতেই সরানো হল অভিযুক্তকে
স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর, উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমেই এই নির্দেশ জারি করা হয়েছে। আগামীতে সরকারি চাকরিতে এমপ্লয়মেন্ট এর আগে মেডিকেল কাউন্সিল যেন এই তদন্তের বিষয়টি মাথায় রাখে এ কথাও স্বাস্থ্য দপ্তরের তরফ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে মেডিক্যাল কাউন্সিলকে। দিন কয়েক আগেই কিন্তু চিকিৎসক অভীক দে-র বিরুদ্ধেও কড়া পদক্ষেপ নিয়েছিল সরকার। হাসপাতালে থ্রেট কালচার ও দাদাগিরি চালানোর গুরুতর অভিযোগ রয়েছে অভীক দে-র বিরুদ্ধে। তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল স্বাস্থ্য দফতর। তাঁরও তদন্ত চলছে। ক্ষমতায় এসে আরজি কর কাণ্ডের ফাইল নতুন করে খুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তারপরেই একের পর এক পদক্ষেপ।

