প্রবীর চক্রবর্তী: দল বিরোধী কাজের অজুহাতে গতকাল তৃণমূল থেকে সাসপেন্ড হয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্য়ায়। অভিযোগ, বিধানসভায় দলের তরফে চিঠি দেওয়ার ক্ষেত্রে বিধায়কদের যে সই সংগ্রহ হয়েছিল সেখানে অনিয়ম হয়েছে বলে বিধানসভার অধ্যক্ষকে জানিয়েছিলেন ঋতব্রত বন্দ্য়োপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহা। তার পরই ওই দুজনকে সাসপেন্ড করে দল।
পাশাপাশি তাঁকে বেইমান বলেও দেগে দেওয়া হয়। আজ বিধানসভায় গিয়েছেন ঋতব্রত। সেই কী হয়ে তা নিয়ে টানটান উত্তেজনা রয়েছে। তার আগে তিনি বিস্ফোরক কথা বললেন জি ২৪ ঘণ্টাকে।
ঋতব্রত বলেন, কেউ আমাকে বেইমান বলতে পারেন কিন্তু কোথাও আমাকে চোর চোর স্লোগান শুনতে হচ্ছে না। এই যে বাইরে বেরিয়েছি আমার সঙ্গে একজন নিরাপত্তারক্ষী রয়েছেন। আমি নিরাপত্তারক্ষী চাইনি। আমি এটাও বলেনি যে জনগন আমাকে নিরাপত্তা দেবে। আর তারপর লিখতে হল যে কেন্দ্রীয় বাহিনী চাই! এতবড় জননেতা! সকালে প্রশান্ত কিশোর ফোন করেছিলেন। ২০২১ সালে যখন উনি চলে যান তার পর থেকে আর ওর সঙ্গে কথা হয়নি। উনি আমাকে জিজ্ঞাসা করছিলেন। আমি বললাম সব ঘটনা। দিল্লিরও অনেক নেতা আমাকে ফোন করেছেন। যা হচ্ছে তা বলেছি। কেননা যা হচ্ছে তা গণতন্ত্রের জন্য ভালো নয়। গতকাল যা বলেছি তাতেই অটল রয়েছি। উলুবেরিয়া 'সরকারের' মাথা পিডাবলিউ মন্ত্রী। উনি ক্রাউন প্রিন্সের পছন্দের। এটা শুধু নয় একটা নেক্সাস চলছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলটাই হাইজ্যাক করে নিয়েছেন অভিষেক, বিস্ফোরক ঋতব্রত
মমতার দল ভেঙে চুরমার! ঋতব্রতর হাত ধরে নেতৃত্ব বদল, সঙ্গে ৫০ বিধায়ক?
ঋতব্রত আরও বলেন, পিডাবলিউডির আওতায় বিভিন্ন কর্পোরেশন রয়েছে তার এমডিরা কতবার ক্যামাক স্ট্রিটে গিয়েছেন! কত বন্ড পৌঁছত! কত টাকা পৌঁছত তার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া দরকার। এই নেক্সাস শুধু উলুবেরিয়ার সরকারে থেমে যাচ্ছে না। মমতা বন্দ্য়োপধ্যায়ের লড়াইয়ের যে দল তাকে যে এই অবস্থায় এনেছে, যিনি এতবড় জননেতা যিনি ২৬ দিন বাড়ি থেকে বের হতে পারেননি। আমি উলুবেরিয়া যাচ্ছি, আসছি। আমার কোনও পাইলট কার নেই। নিরাপত্তারক্ষী নেই, কোথাও কিন্তু চোর চোর বলেননি। উলুবেরিয়ার রাস্তায় কেউ গণপিটুনি দেয়নি।
জল্পনা রয়েছে আজই চিঠি জমা দেবেন? কী রয়েছে তাঁর সেই চিঠিতে? তাঁর সঙ্গে আরও অনেকেই রয়েছেন? ঋতব্রত বলেন, কোনও জল্পনায় ঘি ঢালব না। আজ যা হবে সবাই তা দেখতে পাবেন। সই জাল কাণ্ডের কথা গতকালই বলেছি। ক্যামাক স্ট্রিটে ক্রাউন প্রিন্সের সঙ্গে যারা কাজ করতেন তাদের অনেককে ব্যাক ডেটে রেজিগনেশন দিতে বাধ্য করা হয়েছে। তারা অনেকে ফোন করছে, সিভি পাঠাচ্ছে। সেই সিভিতে ওই যে ওখানে কাজ করেছে তার কোনও উল্লেখ নেই। বলছে ওই নাম থাকলে কেউ কাজে নেবে না। মধ্যমেধার লোক করপোরেট চালালে যা হয় সেটাই হয়েছে। আমরা সই করতে গিয়ে দেখেছি ওখানে যে নেই তার নাম ব্লক লেটালে রেখা হয়েছে। এটা জানানো যদি অন্যায় হয়ে থাকে তাহলে অন্যায়!

