বিধান সরকার: গয়ায় পূর্বপুরুষের আত্মার শান্তি কামনায় পিণ্ডদান করতে গিয়েছিলেন তাঁরা। কিন্তু সেই পুণ্য সেরে বাড়ি ফেরার পথেই ওত পেতে ছিল যমদূত। শুক্রবার ভোরে হুগলির সিঙ্গুরের রতনপুরে ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কে এক ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন একই পরিবারের চার সদস্য। এই ঘটনায় চালক-সহ আরও পাঁচজন গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ডানকুনি থানা এলাকার বাসিন্দা পরিতোষ কীর্তনীয়া তাঁর পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনদের নিয়ে একটি টাটা ৪০৭ গাড়িতে করে বিহারের গয়ায় গিয়েছিলেন পিণ্ডদান করতে। শুক্রবার ভোরে ডানকুনি ফেরার সময় সিঙ্গুরের রতনপুর এলাকায় ঘটে বিপত্তি। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দ্রুতগতিতে থাকা গাড়িটি রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ডাম্পারের পিছনে সজোরে ধাক্কা মারে।
ধাক্কার অভিঘাত এতটাই তীব্র ছিল যে, যাত্রীসহ গাড়িটি কার্যত দুমড়ে-মুচড়ে যায়। গাড়ির ভেতর আটকে পড়েন যাত্রীরা। দুর্ঘটনার বিকট শব্দ শুনে স্থানীয় বাসিন্দা ও টহলরত পুলিস কর্মীরা দ্রুত উদ্ধারকাজে হাত লাগান। গাড়িতে চালক-সহ মোট ১০ জন সদস্য ছিলেন। পুলিস তাদের উদ্ধার করে দ্রুত সিঙ্গুর ট্রমা কেয়ার সেন্টারে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা চারজনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। মৃতরা হলেন- পরিতোষ কীর্তনীয়া(৫৯), কাজল কীর্তনীয়া (৫৫) , অন্য ২জন হলেন তাদের দুই মেয়ে ফুলী মুখার্জী (৩৩), মিঠু বাগ(৩১) এদের সকলের বাড়ি ডানকুনি থানা এলাকায়।
হাসপাতাল সূত্রে খবর, আহত ৬ জনের মধ্যে ৫ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের সিঙ্গুর থেকে চুঁচুড়া ইমামবাড়া (ওয়ালস) হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে একটি শিশুও ছিল, যাকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়। একই পরিবারের চারজনের মৃত্যুতে ডানকুনি এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। খবর পেয়েই হাসপাতালে পৌঁছান পরিবারের অন্যান্য আত্মীয়রা। প্রাথমিক তদন্তে পুলিসের অনুমান, ভোরে চালকের চোখে ঘুম এসে যাওয়ার কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখতে ঘাতক ডাম্পার ও দুর্ঘটনাকবলিত গাড়িটিকে আটক করেছে পুলিস। পিণ্ডদান সেরে হাসিমুখে বাড়ি ফেরার আনন্দ নিমেষেই বদলে গেল হাহাকারে।
উল্লেখ্য, ভয়াবহ পথদুর্ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ায় পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ডেবরা ব্লকের দ্বারিকাপুর এলাকায় ১৬ নম্বর জাতীয় সড়কে। একটি ব্রয়লার মুরগি বোঝাই পিকআপ ভ্যান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার ওপর দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্যাংকারের পেছনে সজোরে ধাক্কা মারলে ঘটনাস্থলেই শতাধিক মুরগির মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার অভিঘাতে পিকআপ ভ্যানটির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়, যদিও অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান চালক ও খালাসি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গভীর রাতে জাতীয় সড়কের ওই অংশে একটি ট্যাংকার দীর্ঘক্ষণ ধরে দাঁড়িয়ে ছিল। অন্ধকারে এবং সম্ভবত দৃশ্যমানতার অভাবে দ্রুতগতিতে আসা পিকআপ ভ্যানটি ট্যাংকারটিকে দেখতে না পেয়ে সজোরে ধাক্কা মারে। দুর্ঘটনার অভিঘাতে ভ্যানে থাকা খাঁচাগুলি ভেঙে যায় এবং রাস্তায় ছড়িয়ে পড়ে বহু ব্রয়লার মুরগি। এর মধ্যে ঘটনাস্থলেই শতাধিক মুরগির মৃত্যু হয় বলে দাবি স্থানীয়দের।

