বিধান সরকার: কাল সকালে শেষ ফোন। তারপর থেকে আর যোগাযোগ করা যায়নি, দুশ্চিন্তায় পরিবার। নেপালে বেড়াতে গিয়ে নিখোঁজ তারকেশ্বরের স্নেহাশিস দত্ত। তারকেশ্বরের চাউলপট্টিতে বাড়ি স্নেহাশিস দত্তের। গত ২১ অগাস্ট কলকাতার চলো যাই ট্যুর সংস্থার সঙ্গে নেপালে বেড়াতে যান স্নেহাশিস দত্ত। সেই ট্যুর সংস্থার কর্মী জয়ন্ত সান্যালের বাড়িও তারকেশ্বরে।
তিনিও এই ট্যুরে ছিলেন।
স্নেহাশিস দত্তর পরিবার জানাচ্ছেন, পরদিন রক্সৌল পৌঁছে সেখান থেকে কাঠমান্ডুতে যান পর্যটকরা। মঙ্গলবার কাঠমান্ডুতেই ছিলেন। বুধবার নেপাল বর্ডার থেকে তিব্বত বর্ডার পেরোনোর কথা ছিল। সকাল ৭.২৫ মিনিটে স্নেহাশিস দত্ত তাঁর স্ত্রী সোমা দত্তকে ফোন করে জানান যে তাঁরা অভিবাসন দফতরে যাচ্ছেন। সকাল আটটা নাগাদ সেখানে পৌঁছে যান তাঁরা। যেসময় হড়পা বান আসে সেই সময় ঘটনাস্থলেই ছিলেন পর্যটকরা। তাই তারপর থেকে আর খোঁজ না মেলায় উদ্বিগ্ন পরিবার। দুশ্চিন্তার প্রহর কাটছে বাড়ির লোকের।
বুধবার সকালে নেপালের রসুয়া জেলায় ভোটে কোশী নদীতে আচমকা হড়পা বান আসে। প্রলয়ংকারী প্লাবনে এখনও পর্যন্ত নেপালে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬০। নিখোঁজ অন্তত ৭৫০! নেপালের পর্যটন পর্ষদের তথ্য অনুযায়ী, দুর্যোগের পর ২৯১ জন বিদেশি নাগরিক-সহ অন্তত ৩৮৪ জন পর্যটকের কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। যার মধ্যে ১৪২ জন-ই ভারতীয় রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের হুগলির জেলার প্রায় ৬৫ জন পর্যটক নেপালে আটকে রয়েছেন বলে খবর।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ছবি ও ভিডিয়োতে দেখা যাচ্ছে, হড়পা বানের তোড়ে ঘরবাড়ি, লোকালয়, রাস্তাঘাট, সেতু সব ভেসে যাচ্ছে। মারণ স্রোতে খড়কুটোর মতো ভেসে যাচ্ছেন বহু মানুষ। পাহাড়ের বুকে কাদামাটি, পাথর আর জলের রাক্ষুসে স্রোত ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে গ্রামের পর গ্রাম। পাহাড়ের গা ঘেঁষে সাজানো গ্রাম, বসতি মুহূর্তে কাদামাটির স্তূপের নীচে চাপা পড়ে যাচ্ছে। চারদিকে শুধুই প্রকৃতির তাণ্ডবলীলায় ধ্বংসচিহ্নের ছবি।

