Dailyhunt Logo
  • Light mode
    Follow system
    Dark mode
    • Play Story
    • App Story
'শুভেন্দুবাবুর সঙ্গে কথা বলতে চাই!' টালা ব্রিজের লাইটপোস্টে উঠে হুলুস্থুল কাণ্ড যুবকের

'শুভেন্দুবাবুর সঙ্গে কথা বলতে চাই!' টালা ব্রিজের লাইটপোস্টে উঠে হুলুস্থুল কাণ্ড যুবকের

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: মঙ্গলবার বিকেলের ব্যস্ত সময়। উত্তর কলকাতার অন্যতম ব্যস্ত ধমনী টালা সেতু (Tala Bridge) দিয়ে তখন দ্রুত গতিতে ছুটছে বাস, গাড়ি আর বাইক। শ্যামবাজার থেকে চিড়িয়ামোড়গামী লেনে নিত্যযাত্রীদের ভিড় বাড়ছে। ঠিক সেই সময়ই আচমকা থমকে গেল গোটা ব্রিজের গতিপথ।

নেপথ্যে এক যুবকের চরম তাণ্ডব ও অদ্ভুত কাণ্ডকারখানা। সবার নজর এড়িয়ে টালা সেতুর ওপর থাকা একটি উঁচু লাইটপোস্টে বা বাতিস্তম্ভে হুট করে তরতরিয়ে উঠে পড়লেন এক যুবক। শুধু উঠেই ক্ষান্ত হননি, লাইটপোস্টের একেবারে টঙে বসে নানাবিধ বিপজ্জনক 'স্টান্ট' দেখাতে শুরু করলেন তিনি। আর তাতেই বিকেলের ব্যস্ততম সময়ে টালা সেতুতে তৈরি হলো তীব্র আতঙ্ক ও হাইভোল্টেজ ড্রামা।

ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাতের অভিযোগ, আদালতের নির্দেশে শর্তসাপেক্ষে বড় স্বস্তি কবি

প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৫টা নাগাদ হঠাৎ করেই টালা সেতুর ওপর শোরগোল শুরু হয়। পথচলতি মানুষ কিছু বুঝে ওঠার আগেই দেখা যায়, এক যুবক ল্যাম্পপোস্টের গোড়ায় দাঁড়িয়ে এক নিমেষে মাঝামাঝি জায়গায় উঠে পড়েন। চোখের পলকে তিনি বাতিস্তম্ভের একেবারে মাথায় গিয়ে বসেন। সেখানে উঠে নিজের গায়ে থাকা জামাটি খুলে ল্যাম্পপোস্টে বেঁধে ফেলেন তিনি। তারপর পকেট থেকে মোবাইল ফোন বের করে নীচের পথচলতি মানুষকে কিছু ভিডিও দেখানোর চেষ্টা করতে থাকেন। শুধু তাই নয়, উঁচুতে বসেই নিজের মোবাইলে চারপাশের দৃশ্য শুট করতে শুরু করেন তিনি।

উঁচু বাতিস্তম্ভের পাতলা রড ধরে বিপজ্জনকভাবে ঝুলে পড়ে একের পর এক কসরত বা স্টান্ট দেখাতে থাকেন ওই যুবক। সামান্য এদিক-ওদিক হলেই ঘটতে পারত বড়সড় প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা। কিন্তু সেই সমস্ত তোয়াক্কা না করে ওপর থেকেই হাঁক দিতে শুরু করেন তিনি, "শুভেন্দুবাবুর সঙ্গে কথা বলতে চাই!" পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে কথা বলার জেদ ধরে চিৎকার করতে থাকেন ওই যুবক। স্থানীয় বাসিন্দারা ও পথচারীরা তাঁকে বারবার নীচে নেমে আসার অনুরোধ জানান। কিন্তু তিনি কারও কথায় কান দেওয়া তো দূরস্ত, উল্টে স্থানীয় থানার পুলিশকে নিশানা করে অসংলগ্ন ভাষায় গালিগালাজ ও হুমকি দিতে থাকেন। উপর থেকেই চিৎকার করে বলেন, "ওসির ভুঁড়ি ফাটিয়ে দেব!"

যুবকের এই অবিশ্বাস্য প্রাণঘাতী কীর্তি দেখতে মুহূর্তের মধ্যে ব্রিজের ওপর উৎসুক মানুষের চরম ভিড় জমে যায়। শ্যামবাজার থেকে চিড়িয়ামোড়গামী বহু গাড়ির চালক ও যাত্রীরা গাড়ি থামিয়ে নেমে পড়েন। এর ফলে মুহূর্তের মধ্যে ব্রিজের ওপর স্তব্ধ হয়ে যায় যান চলাচল। বিকেলের চরম ব্যস্ত সময়ে শ্যামবাজার-চিড়িয়ামোড়মুখী লেনে পরপর গাড়ি দাঁড়িয়ে পড়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। চরম ভোগান্তির শিকার হন সাধারণ নিত্যযাত্রীরা।

'চুরি করে চাকরি পেয়েছেন', বিজেপি বিধায়কের অপমানে আশাকর্মীর মৃত্যু?

ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই দ্রুত টালা সেতুতে পৌঁছায় পুলিশ, দমকল এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর বিশাল যৌথ দল। কিন্তু অত উঁচুতে উঠে বসা যুবককে সহজে নামিয়ে আনা সম্ভব হচ্ছিল না। যুবকের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে অবশেষে কলকাতা পুরসভার গাছ ছাঁটার কাজে ব্যবহৃত একটি বিশেষ হাইড্রোলিক ক্রেন ঘটনাস্থলে আনা হয়।

প্রায় ৪০ মিনিট ধরে লাইটপোস্টের টঙে বসে তাণ্ডব চালানোর পর, হাইড্রোলিক ক্রেন ও দক্ষ চালকের সাহায্যে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে যুবককে সশরীরে নিরাপদে নীচে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়। যুবক নামতেই দীর্ঘক্ষণ ধরে থমকে থাকা যান চলাচল স্বাভাবিক করতে নেমে পড়ে পুলিশ।

উদ্ধারের পর পুলিশ সঙ্গে সঙ্গেই ওই যুবককে নিজেদের হেফাজতে নেয়। সম্পূর্ণ বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ প্রশাসন। মানসিক ভারসাম্যহীনতার কারণে বা পাবলিসিটির লোভে যুবক এই ধরনের বিপজ্জনক কাণ্ড ঘটিয়েছেন, নাকি এর পেছনে শুভেন্দু অধিকারীর নাম জড়িয়ে অন্য কোনো গভীর উদ্দেশ্য বা ষড়যন্ত্র রয়েছে- তা জানার জন্য যুবককে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন তদন্তকারীরা। তবে মঙ্গলবারের বিকেলের এই অভূতপূর্ব ঘটনায় উত্তর কলকাতার টালা সেতু চত্বরে যে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়, তা বলা বাহুল্য।

Dailyhunt
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Dailyhunt. Publisher: Zee News Bengali