জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: প্রাথমিক বিদ্যালয়ে খুদে পড়ুয়াদের খাওয়ানো হয় ম্যালেরিয়া প্রতিরোধী ক্লোরোকুইন ট্যাবলেট। ট্যাবলেট খাওয়ার পরই বহু শিশু অসুস্থ হয়ে পড়ে। এমনকী এই ঘটনায় দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্রী মাদিবী যমুনা নামে সাত বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে আরও ৫২ জন শিশু গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
ঘটনাটি অন্ধ্রপ্রদেশের পোলাভারম জেলার গোল্লাগুপ্পা গ্রামে।
গোল্লাগুপ্পা গ্রামটি অন্ধ্রপ্রদেশ ও তেলঙ্গানা সীমানায় অবস্থিত একটি দুর্গম এলাকা। গত মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে তিনটে নাগাদ ওই স্কুলের ৭১ জন ছাত্রছাত্রীকে ক্লোরোকুইন ওষুধ দেওয়া হয়। তারপর বাচ্চারা যে যার বাড়ি চলে যায়। বাড়ি ফেরার পরই বাচ্চাদের বমি ও অন্যান্য শারীরিক উপসর্গ শুরু হয়। এলাকাটি দুর্গম হওয়ায় সেখানে অ্যাম্বুল্যান্স পৌঁছাতে দেরি হয়। বাধ্য হয়ে অভিভাবকেরা ট্রাক্টর ও বাইকে করে বাচ্চাদের নিকটবর্তী বাঁদিরেভু মোড়ে নিয়ে আসেন।
টানা ৪ ঘণ্টা রোদ দাঁড়ানোর শাস্তি, স্কুলের ৩ তলা থেকে ঝাঁপ একাদশ শ্রেণির ছাত্রীর
মোড় থেকে অসুস্থ শিশুদের দ্রুত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়। প্রথমে তাদের লক্ষ্মীপুরম প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় শিশুদের পাশের রাজ্য তেলঙ্গানার ভদ্রাচলম এরিয়া হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। হাসপাতালে চিকিৎসা চলাকালীন সাত বছরের মাদিবী যমুনার মৃত্যু হয়। বর্তমানে তেলঙ্গানার হাসপাতালে ২৯ জন এবং স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ২৪ জন শিশু ভর্তি আছে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, ভর্তি থাকা বাকি শিশুদের শারীরিক অবস্থা এখন স্থিতিশীল।
এই ঘটনার খবর পেয়ে মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি অসুস্থ শিশুদের সেরা চিকিৎসা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলা শাসক দিনেশ কুমার জানিয়েছেন, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। মানুষকে আতঙ্কিত না হওয়ার জন্য তিনি অনুরোধ জানিয়েছেন।
পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। গ্রামে তিন জন শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ-সহ একটি বিশেষ চিকিৎসা দল মোতায়েন করা হয়েছে। শিশুদের স্বাস্থ্যের ওপর নজর রাখতে গ্রামে একটি মেডিক্যাল ক্যাম্প চালু করা হয়েছে। কাকিনাডা সরকারি হাসপাতাল থেকে নয় সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল গ্রামে পৌঁছে গিয়েছে। আরও তিনটি চিকিৎসক দল বিজয়ওয়াড়া, রাজামহেন্দ্রভরম ও কাকিনাডা থেকে পৌঁছাচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী নিজে স্বাস্থ্য আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলে প্রতিনিয়ত খোঁজখবর নিচ্ছেন। প্রশাসন পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।

