শ্রেয়সী গঙ্গোপাধ্যায়: রাজ্যে সরকার বদলের পর স্কুলে স্কুলে একাধিক পরিবর্তন নিয়ে এসেছে বিজেপি। এবার দেশপ্রেম ও জাতীয় ঐক্যের বার্তা ছড়িয়ে দিতে রাজ্যজুড়ে স্কুলে স্কুলে পালিত হতে চলেছে 'হর ঘর তিরঙ্গা' কর্মসূচি। আগামী ৯ অগাস্ট থেকে ১৭ অগাস্ট পর্যন্ত সমস্ত বিদ্যালয়ে এই বিশেষ কর্মসূচি পালনের জন্য নির্দেশিকা জারি করেছে রাজ্য শিক্ষা দফতর।
শিক্ষা দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, এই কর্মসূচি সফল করতে প্রতিটি জেলা এবং কলকাতা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন (কেএমসি) এলাকার জন্য দেড় লাখ করে জাতীয় পতাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এই পতাকাগুলি মূলত বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী এবং সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে বিতরণ করা হবে, যাতে প্রত্যেকে নিজ নিজ বাড়িতে সসম্মানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করতে পারেন।
'স্কুলে যেতে ভয়...'! বাড়ি ফেরার পথে ছাত্রীদের ঘিরে ধরে চূড়ান্ত অসভ্যতা, তীব্র চাঞ্চল্য
কর্মসূচিটি কীভাবে পালন করতে হবে, সেই বিষয়ে স্কুলে স্কুলে স্পষ্ট নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে। মূলত জাতীয়তাবাদ এবং জাতীয় ঐক্যকে সামনে রেখে পুরো কর্মসূচিটি পালন করার কথা বলা হয়েছে। এর পাশাপাশি, কর্মসূচি শেষে কোথায় এবং কীভাবে এটি পালিত হল, তার সম্পূর্ণ বিবরণ ও রিপোর্ট শিক্ষা দফতরে জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আধিকারিকদের মতে, ছাত্রছাত্রীদের মনে দেশাত্মবোধ জাগ্রত করা এবং জাতীয় পতাকার প্রতি শ্রদ্ধা ও সচেতনতা বৃদ্ধি করাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। ৯ই অগাস্ট থেকে শুরু হতে যাওয়া এই বিশেষ সপ্তাহকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই জেলায় জেলায় জোরকদমে প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে।
উল্লেখ্য, অন্যদিকে সরকারি স্কুলে স্কুলে মিড-ডে মিলের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছে ইসকনের হাতে। তারপর থেকেই শিক্ষা ও রাজনৈতিক মহলে জোর বিতর্ক শুরু হয়। মূল কারণ, ইসকন তাদের নীতি অনুযায়ী সম্পূর্ণ নিরামিষ খাবার সরবরাহ করে। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী মিড-ডে মিলে যে ডিম দেওয়া হত, তার কী হবে? নিরামিষ খাবারের সঙ্গে কীভাবে সামঞ্জস্য রাখা সম্ভব?
সব কথা হবে ক্যামেরার সামনে! হেমন্ত সোরেনের প্রস্তাব ফিরিয়ে আন্দোলনে অনড় ঝাড়খণ্ডের পড়ুয়ারা
নবান্ন সূত্রে খবর, এই জটিল সমস্যার সমাধাতেই এমন বিকল্প পথ খোঁজা হচ্ছে। স্কুলে ডিম রান্না না করে, ছুটির সময় সরাসরি পড়ুয়াদের হাতে আস্ত ডিম তুলে দেওয়া হতে পারে। এতে একদিকে যেমন ইসকনের নিরামিষ নীতি বজায় রাখা সম্ভব হবে, অন্যদিকে পড়ুয়ারাও বাড়ি গিয়ে নিজের সুবিধা মতো প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবারটি খেতে পারবে।
তবে শিক্ষা দফতর বা রাজ্য সরকারের তরফে এখনই এই নিয়ে কোনো চূড়ান্ত বা আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি। প্রশাসনের এক ঊর্ধ্বতন আধিকারিক জানিয়েছেন, 'বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন স্তরে আলোচনা ও চিন্তাভাবনা চলছে। সবদিক খতিয়ে দেখে তবেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে এবং তা কার্যকর করা হবে।' আপাতত নবান্নের এই নতুন ভাবনা বাস্তবায়িত হয় কি না, সেদিকেই নজর রাজ্যবাসীর।

